সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

স্পেশাল আইপি অ্যাড্রেস এবং লুপব্যাক টেস্টিং এর সহজ পাঠ

ইন্টারনেটের দুনিয়ায় প্রতিটি ডিভাইসের একটি নিজস্ব পরিচয় থাকে, যাকে আমরা আইপি অ্যাড্রেস (IP Address) বলি। কিন্তু সব আইপি অ্যাড্রেস সাধারণ ব্যবহারের জন্য নয়। কিছু আইপি অ্যাড্রেস রাখা হয়েছে বিশেষ কিছু কাজের জন্য। আজকের এই আলোচনায় আমরা জানবো সেই স্পেশাল আইপি অ্যাড্রেসগুলো কী এবং 'লুপব্যাক টেস্টিং' (Loopback Testing) বলতে আসলে কী বোঝায়।


১. স্পেশাল আইপি অ্যাড্রেস (Special IP Addresses)

ভিডিও রেফারেন্স: [01:14:40]

নেটওয়ার্কিংয়ে কিছু আইপি অ্যাড্রেস কোনো নির্দিষ্ট কম্পিউটার বা ডিভাইসকে দেওয়া যায় না। এগুলোকে বলা হয় 'Reserved' বা সংরক্ষিত আইপি। যেমন Class A নেটওয়ার্কে আমরা মোট ১২৮টি নেটওয়ার্ক পেতে পারতাম, কিন্তু বাস্তবে পাই ১২৬টি। বাকি ২টো আইপি বিশেষ কাজের জন্য আলাদা করে রাখা হয়েছে।

  • বিবরণ: যখনই কোনো নেটওয়ার্ক ডিজাইন করা হয়, তখন কিছু অ্যাড্রেস সিস্টেমের নিজের ব্যবহারের জন্য রেখে দেওয়া হয়। যেমন: 0.0.0.0 এবং 127.x.x.x সিরিজ। এগুলো আপনি আপনার পিসি বা রাউটারে ম্যানুয়ালি বসাতে পারবেন না।

  • সহজ ব্যাখ্যা: মনে করুন একটি পাড়ায় ১০০টি বাড়ি আছে। কিন্তু ১ নম্বর বাড়িটি রাখা হয়েছে ডাকপিয়নের বিশ্রামের জন্য আর ১০০ নম্বরটি রাখা হয়েছে ময়লা ফেলার জায়গার জন্য। এই দুই বাড়িতে যেমন কেউ থাকতে পারে না, তেমনি স্পেশাল আইপিগুলো সাধারণ ডিভাইস ব্যবহার করতে পারে না।

কঠিন শব্দ: Reserved (সংরক্ষিত) - যা আগে থেকেই কোনো নির্দিষ্ট কাজের জন্য বুক করে রাখা হয়েছে।


২. লুপব্যাক টেস্টিং কি? (What is Loopback Testing?)

ভিডিও রেফারেন্স: [01:15:49] - [01:16:03]

লুপব্যাক টেস্টিং হলো নিজের ডিভাইসের নেটওয়ার্ক কার্ড বা সফটওয়্যার ঠিকঠাক কাজ করছে কি না তা পরীক্ষা করার একটি পদ্ধতি। এর জন্য সাধারণত 127.0.0.1 আইপি অ্যাড্রেসটি ব্যবহার করা হয়।

  • কিভাবে কাজ করে: যখন আপনি আপনার কম্পিউটার থেকে 127.0.0.1 অ্যাড্রেসে কোনো তথ্য পাঠান, তখন সেই তথ্য ইন্টারনেটে বা বাইরের কোনো নেটওয়ার্কে যায় না। এটি আপনার কম্পিউটারের ভেতরেই ঘুরে আবার আপনার কাছে ফিরে আসে।

  • কেন করা হয়: যদি আপনার ইন্টারনেট না চলে, তখন আপনি এই লুপব্যাক অ্যাড্রেসে 'Ping' করে দেখতে পারেন। যদি রিপ্লাই আসে, তার মানে আপনার কম্পিউটারের ভেতরের নেটওয়ার্ক সিস্টেম ঠিক আছে, সমস্যা হয়তো বাইরের তারে বা রাউটারে।

সহজ উদাহরণ: আপনি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে নিজে হ্যালো বলছেন। যদি আপনি নিজের আওয়াজ শুনতে পান, তার মানে আপনার মুখ এবং কান (সিস্টেম) ঠিক আছে। লুপব্যাক টেস্টিং অনেকটা এরকমই।


৩. ১২৭.০.০.১ (The Loopback Address)

ভিডিও রেফারেন্স: [01:15:11]

Class A-এর শেষ নেটওয়ার্ক রেঞ্জ (১২৭) পুরোটাই লুপব্যাক টেস্টিংয়ের জন্য বরাদ্দ। একে অনেক সময় 'Localhost'ও বলা হয়।

  • বিস্তারিত: আপনি যদি কোনো ওয়েব ডেভেলপার হন এবং নিজের কম্পিউটারে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করেন, তবে সেটি দেখার জন্য ব্রাউজারে 127.0.0.1 লিখে সার্চ দিলে আপনার নিজের কম্পিউটারে থাকা সাইটটি ওপেন হবে।

  • আমার চিন্তাভাবনা: লুপব্যাক অ্যাড্রেসটি অনেকটা নিজের বাড়ির ঠিকানার মতো যা শুধু বাড়ির ভেতরের মানুষই জানে। এটি ছাড়া নেটওয়ার্কের ত্রুটি খুঁজে বের করা ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য খুব কঠিন হতো।

কঠিন শব্দ: Ping (পিং) - এটি একটি কমান্ড যার মাধ্যমে এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে ছোট একটি সিগন্যাল পাঠিয়ে দেখা হয় তাদের মধ্যে যোগাযোগ আছে কি না।


কোডিং বা কমান্ড লাইন উদাহরণ

লুপব্যাক টেস্ট করার জন্য উইন্ডোজ বা লিনাক্স পিসিতে নিচের কমান্ডটি ব্যবহার করা হয়:

Bash

ping 127.0.0.1 

ব্যাখ্যা: ১. ping: এটি যোগাযোগের স্থিতি চেক করার কমান্ড। ২. 127.0.0.1: এটি লুপব্যাক আইপি। ফলাফল: যদি আপনি "Reply from 127.0.0.1" দেখতে পান, তবে বুঝবেন আপনার পিসির নেটওয়ার্ক সফটওয়্যার বা এনআইসি (NIC) কার্ড সচল আছে।


বিশ্লেষণ ও শেষ কথা

কন্টেন্ট ক্রিয়েটর এই অংশে বোঝাতে চেয়েছেন যে, নেটওয়ার্কিং মানেই শুধু অন্যকে ডাটা পাঠানো নয়, বরং নিজের সিস্টেমকে নিয়মিত চেক করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। স্পেশাল আইপি অ্যাড্রেসগুলো মূলত নেটওয়ার্কের ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট এবং ট্রাবলশুটিং (সমস্যা সমাধান) সহজ করার জন্য তৈরি করা হয়েছে।

বাস্তব প্রেক্ষাপট ও পরামর্শ: অনেক সময় আমরা মনে করি ইন্টারনেট না চললে সরাসরি আইএসপি (ISP) কে দোষ দেব। কিন্তু একজন সচেতন ব্যবহারকারী হিসেবে প্রথমে লুপব্যাক অ্যাড্রেস পিং করে দেখা উচিত। যদি লুপব্যাক কাজ না করে, তবে বুঝতে হবে আপনার নিজের পিসির ড্রাইভার বা হার্ডওয়্যারে সমস্যা।

বিকল্প হিসেবে আধুনিক সিস্টেমে IPv6 ব্যবহার করা হয়, যেখানে লুপব্যাক অ্যাড্রেস হলো ::1 । তবে IPv4-এর 127.0.0.1 এখনো বিশ্বজুড়ে সবথেকে জনপ্রিয়।

ভিডিওর লিঙ্ক: https://www.youtube.com/watch?v=fQbBPa0ADvs

[

Computer Networking Fundamentals Course

freeCodeCamp.org · 45K views

](http://www.youtube.com/watch?v=fQbBPa0ADvs)

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সিজ্জিন (Sijjin) vs ইল্লিয়িন (Illiyin) পার্থক্য Difference

Sijjin (سِجِّين) এবং Illiyin (عِلِّيِّين) —এ দুটি শব্দ কুরআনে এসেছে এবং দুটোই মানুষের আমলনামা সংরক্ষণ সম্পর্কিত স্থানকে নির্দেশ করে। ১. সিজ্জিন (Sijjin) সিজ্জিন হলো পাপীদের (কাফের, মুনাফিক ও দুরাচারীদের) আমলনামা সংরক্ষণের স্থান। এটি সাত তলদেশের নীচে এক কারাগার বা অন্ধকার জগতে অবস্থিত বলে উল্লেখ রয়েছে। সূরা আল-মুতাফফিফীন (৮৩:৭-৯) তে বলা হয়েছে: "كَلَّا إِنَّ كِتَابَ الْفُجَّارِ لَفِي سِجِّينٍ ۝ وَمَا أَدْرَاكَ مَا سِجِّينٌ ۝ كِتَابٌ مَرْقُومٌ" অর্থ: "না, পাপীদের আমলনামা সিজ্জিনে সংরক্ষিত। তুমি কি জানো, সিজ্জিন কী? এটি এক লিখিত দলিল।" সিজ্জিনকে একটি কারাগার, সংকীর্ণ স্থান, বা নিচের স্তরে অবস্থিত এক অন্ধকার দুনিয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। ২. ইল্লিয়িন (Illiyin) ইল্লিয়িন হলো সৎকর্মশীলদের (মুমিন ও নেককারদের) আমলনামা সংরক্ষণের স্থান । এটি সপ্তম আসমানের ওপরে সংরক্ষিত এক সম্মানিত স্থান। সূরা আল-মুতাফফিফীন (৮৩:১৮-২১) তে বলা হয়েছে: "كَلَّا إِنَّ كِتَابَ الْأَبْرَارِ لَفِي عِلِّيِّينَ ۝ وَمَا أَدْرَاكَ مَا عِلِّيُّونَ ۝ كِتَابٌ مَرْقُومٌ ۝ يَش...

তারাবিহ সমগ্র - প্রথম আলো

রামাদান ২০২৪ উপলক্ষে প্রথম আলোর নিয়মিত আয়োজন - খতমে তারাবিহ'র সূরা গুলো নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা'র লিংক  নিচে দেওয়া হলো।  লিংকে ক্লিক করলেই আপনাকে আলোচনা তে নিয়ে যাবে। তারাবিহ: ১ | একটি খুন ও গাভি নিয়ে বনি ইসরাইলের বাড়াবাড়ি তারাবিহ: ২ | নারীর মর্যাদা ও অধিকার এবং অলৌকিক তিন ঘটনা তারাবিহ: ৩ | যে ১৪ নারীকে বিয়ে করা হারাম তারাবিতে: ১২ | মহানবী (সা.)–এর আকাশভ্রমণ এবং আসহাবে কাহাফের কাহিনি

রেডমি নোট ৯ এর বিস্তারিত | Redmi Note 9 in Bangla

৩০ এপ্রিল, ২০২০ এ শাওমির ঘোষনা আসে এই ফোনটি নিয়ে। কিন্তু ফোনটি মার্কেটে আসে মে মাসের শেষের দিকে৷ করোনার কারনে ফোনটি বাংলাদেশে আসতে আরো সময় নেয়। বর্তমানে বাংলাদেশে আন অফিশিয়াল ভাবে ফোনটি পাওয়া যাচ্ছে৷ বাংলাদেশে অফিশিয়াল ভাবে এখনো ফোনটি আসার তথ্য নেয়৷ চলুন ফোনটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা যাক। শাওমি নোট সিরিজের ফোন বের করে এদের রেডমি নামে সাব ব্যান্ড৷ এদের কাজ হল এই নোট সিরিজ নিয়ে কাজ করা৷ প্রতিবছর নোট সিরিজের ১/২ টা ফোন বাজারে আসে। সাথে সেই ফোন গুলার বিভিন্ন ভার্সন (যেমন - র‍্যাম ও রমের ভিত্তিতে) বাজারে আসে। এই বছরও তারা রেডমি সিরিজের নোট ৯ বাজারে আনে। এই বছর হয়তো এই সিরিজের আরো ফোন বাজারে আসবে। ডিস্পলেঃ ফোনটির ডিসপ্লে সাইজ ৬.৫৩ ইঞ্চি। এতে আইপিএস এলসিডি ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে। এই ফোনের ডিসপ্লে প্রটেকশন হিসেবে আছে গরিলা গ্লাস ফাইভ। স্ক্রিন আর ফোনের বডির অনুপাত প্রায় ৮৩.৫%। এই ফোনের ডিসপ্লে ফুলএইচডি মানে ১০৮০পি। এই ডিস্পলের দৈর্ঘ্য ১৯.৫ একক এবং প্রস্থ হল ৯ একক। এত বড় ফোনের কারনে এই ফোনের পিপি আই ডেনসিটি ৩৯৫। যা একটু কম। প্লাটফর্মঃ এই ফোনের অপারেটিং সিস্টেম এন্ড্রয়েড ১০ এবং এর...