সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

কম্পিউটার নেটওয়ার্কের সাধারণ ধারণা এবং ডেটা ডেলিভারি

Introduction

সবাইকে স্বাগতম! আজকের আলোচনায় আমরা কম্পিউটার নেটওয়ার্কের একদম মূল ভিত্তিগুলো নিয়ে কথা বলব। সহজ কথায় বলতে গেলে, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক হলো এমন একটি ব্যবস্থা যার মাধ্যমে অনেকগুলো কম্পিউটার বা ডিভাইস একে অপরের সাথে কথা বলতে পারে বা তথ্য আদান-প্রদান করতে পারে। এই ভিডিওর নির্দিষ্ট অংশে (০৮:২৬ থেকে ২৩:৪০) আমরা জানবো একটি নেটওয়ার্ক আসলে কীভাবে কাজ করে, ডেটা পাঠানোর সময় কোন বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হয় এবং একটি ভালো নেটওয়ার্কের বৈশিষ্ট্য কী কী।


কম্পিউটার নেটওয়ার্কিংয়ের মৌলিক উদ্দেশ্য (Goals of Networking)

ভিডিওর শুরুতে নেটওয়ার্কিং কেন প্রয়োজন এবং এর মূল কাজ কী তা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

ভিডিও রেফারেন্স: [08:26]

বিস্তারিত আলোচনা: কম্পিউটার নেটওয়ার্কের প্রধান কাজ হলো রিসোর্স শেয়ারিং (Resource Sharing)। ধরুন, একটি অফিসে ১০ জন কর্মী আছেন কিন্তু প্রিন্টার আছে মাত্র একটি। এখন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সবাই সেই একটি প্রিন্টার ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া ফাইল শেয়ারিং, সফটওয়্যার ব্যবহার এবং তথ্যের দ্রুত আদান-প্রদানই হলো নেটওয়ার্কিংয়ের আসল উদ্দেশ্য।

  • সহজ ব্যাখ্যা: এটি অনেকটা আপনার বাসার পানির লাইনের মতো। একটি মূল উৎস (ট্যাঙ্কি) থেকে পাইপের মাধ্যমে যেমন সব ঘরে পানি পৌঁছায়, তেমনি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এক জায়গার তথ্য সবার কাছে পৌঁছানো যায়।

ডেটা ডেলিভারির তিনটি প্রধান স্তম্ভ (Main Pillars of Data Delivery)

ডেটা বা তথ্য এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পাঠানোর সময় তিনটি বিষয় নিশ্চিত করতে হয়। ভিডিওতে এগুলোকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলা হয়েছে।

ভিডিও রেফারেন্স: [12:16]

১. সঠিক গন্তব্য (Correct Destination): ডেটা যেন ঠিক যার কাছে পাঠানোর কথা, তার কাছেই পৌঁছায়। ভুল ঠিকানায় তথ্য যাওয়া মানেই হলো নেটওয়ার্কের ব্যর্থতা।

  • সহজ কথায়: আপনি যদি আপনার বন্ধুকে চিঠি লেখেন, তবে সেটা যেন আপনার বন্ধুর বাসাতেই যায়, অন্য কারো বাসায় নয়।

২. তথ্যের অখণ্ডতা বা সঠিকতা (Integrity/Accuracy): ডেটা পাঠানোর সময় মাঝপথে যেন এটি পরিবর্তন না হয়ে যায়। ভিডিওতে দুটি শব্দের পার্থক্য বোঝানো হয়েছে:

  • Accuracy (সঠিকতা): যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ডেটা যেন ভুল না হয়।

  • Integrity (অখণ্ডতা): কোনো অসাধু ব্যক্তি বা হ্যাকার যেন ইচ্ছে করে ডেটা বদলে না দেয়।

৩. সময়ানুবর্তিতা (Timeliness): ডেটা সঠিক সময়ে পৌঁছাতে হবে। বিশেষ করে ভিডিও কল বা লাইভ স্ট্রিমিংয়ের ক্ষেত্রে যদি ডেটা দেরি করে আসে, তবে তা কোনো কাজে আসে না। একে নেটওয়ার্কের ভাষায় বলা হয় 'লিমিটেড ডিলে' (Limited Delay)।


নেটওয়ার্কের মানদণ্ড (Network Criteria)

একটি নেটওয়ার্ক কতটা ভালো, তা বোঝার জন্য তিনটি বিষয় বিবেচনা করা হয়।

ভিডিও রেফারেন্স: [17:17]

১. পারফরম্যান্স (Performance): এটি নির্ভর করে নেটওয়ার্কের গতির ওপর। এখানে দুটি প্রযুক্তিগত শব্দ আছে:

  • Transit Time: এক ডিভাইস থেকে ডেটা বের হয়ে অন্য ডিভাইসে পৌঁছাতে যে সময় লাগে।

  • Response Time: একটি অনুরোধ পাঠানোর পর উত্তর পেতে যে সময় লাগে।

  • সহজ ব্যাখ্যা: আপনি ইন্টারনেটে কোনো লিঙ্কে ক্লিক করার পর পেজটি কত দ্রুত লোড হলো, সেটাই পারফরম্যান্স।

২. নির্ভরযোগ্যতা (Reliability): নেটওয়ার্ক কত ঘনঘন ফেইল বা নষ্ট হয় এবং নষ্ট হলে কত দ্রুত তা ঠিক করা যায়, সেটাই হলো নির্ভরযোগ্যতা। একটি ভালো নেটওয়ার্ক সবসময় সচল থাকে।

৩. নিরাপত্তা (Security): অননুমোদিত অ্যাক্সেস (Unauthorized Access) থেকে ডেটাকে রক্ষা করা। অর্থাৎ, যার দেখার কথা নয়, সে যেন আপনার তথ্য দেখতে না পারে।


কঠিন শব্দ এবং সহজ ব্যাখ্যা (Difficulty Word Elaborations)

১. Protocol (প্রটোকল): নেটওয়ার্কের নিয়মকানুন। যেমন আমরা রাস্তায় চলার সময় বাম পাশ দিয়ে চলি, তেমনি কম্পিউটারগুলো একে অপরের সাথে কথা বলার জন্য কিছু নিয়ম মেনে চলে। ২. Transit Time: তথ্য বা মেসেজ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার যাতায়াত সময়। ৩. Node (নোড): নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত যেকোনো ডিভাইস, যেমন- কম্পিউটার, ল্যাপটপ বা স্মার্টফোন। ৪. Delay (ডিলে): তথ্যের আদান-প্রদান হতে যে বাড়তি সময় লাগে বা দেরি হয়।


বিশ্লেষণ ও আমার মতামত (Analysis & Thinking)

ভিডিওর এই অংশে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর বোঝাতে চেয়েছেন যে, নেটওয়ার্কিং মানে শুধু তার দিয়ে জুড়ে দেওয়া নয়, বরং তথ্যের সঠিকতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। বর্তমান যুগে যেখানে আমরা সব কাজ অনলাইনে করি, সেখানে Integrity এবং Timeliness সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

বাস্তব প্রেক্ষাপট ও পরামর্শ: আমরা যখন ইউটিউবে ভিডিও দেখি বা জুম মিটিং করি, তখন যদি ইন্টারনেট স্লো হয় বা ভিডিও আটকে যায়, তবে বুঝতে হবে নেটওয়ার্কের 'পারফরম্যান্স' বা 'টাইমলিনেস' এ সমস্যা আছে। একজন বিগিনার হিসেবে আপনার উচিত প্রথমে আইপি অ্যাড্রেস (IP Address) এবং কীভাবে প্যাকেট (Packet) ট্রাভেল করে তা নিয়ে আরও পড়াশোনা করা।

বিকল্প হিসেবে, শুধুমাত্র থিওরি না পড়ে ছোট ছোট সিমুলেশন সফটওয়্যার (যেমন: Cisco Packet Tracer) ব্যবহার করে নিজে নেটওয়ার্ক তৈরি করে দেখলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে। ক্রিয়েটর এখানে 'পেন এবং পেপার' স্টাইলে পড়িয়েছেন যা তাত্ত্বিক বা এক্সাম প্রিপারেশনের (যেমন: GATE বা University Exam) জন্য চমৎকার।

(এই ভিডিওতে কোনো কোডিং সেকশন নেই, তাই কোড স্নাইপেট যোগ করা হয়নি।)

[

Computer Networking Fundamentals Course

freeCodeCamp.org · 45K views

](http://www.youtube.com/watch?v=fQbBPa0ADvs)

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সিজ্জিন (Sijjin) vs ইল্লিয়িন (Illiyin) পার্থক্য Difference

Sijjin (سِجِّين) এবং Illiyin (عِلِّيِّين) —এ দুটি শব্দ কুরআনে এসেছে এবং দুটোই মানুষের আমলনামা সংরক্ষণ সম্পর্কিত স্থানকে নির্দেশ করে। ১. সিজ্জিন (Sijjin) সিজ্জিন হলো পাপীদের (কাফের, মুনাফিক ও দুরাচারীদের) আমলনামা সংরক্ষণের স্থান। এটি সাত তলদেশের নীচে এক কারাগার বা অন্ধকার জগতে অবস্থিত বলে উল্লেখ রয়েছে। সূরা আল-মুতাফফিফীন (৮৩:৭-৯) তে বলা হয়েছে: "كَلَّا إِنَّ كِتَابَ الْفُجَّارِ لَفِي سِجِّينٍ ۝ وَمَا أَدْرَاكَ مَا سِجِّينٌ ۝ كِتَابٌ مَرْقُومٌ" অর্থ: "না, পাপীদের আমলনামা সিজ্জিনে সংরক্ষিত। তুমি কি জানো, সিজ্জিন কী? এটি এক লিখিত দলিল।" সিজ্জিনকে একটি কারাগার, সংকীর্ণ স্থান, বা নিচের স্তরে অবস্থিত এক অন্ধকার দুনিয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। ২. ইল্লিয়িন (Illiyin) ইল্লিয়িন হলো সৎকর্মশীলদের (মুমিন ও নেককারদের) আমলনামা সংরক্ষণের স্থান । এটি সপ্তম আসমানের ওপরে সংরক্ষিত এক সম্মানিত স্থান। সূরা আল-মুতাফফিফীন (৮৩:১৮-২১) তে বলা হয়েছে: "كَلَّا إِنَّ كِتَابَ الْأَبْرَارِ لَفِي عِلِّيِّينَ ۝ وَمَا أَدْرَاكَ مَا عِلِّيُّونَ ۝ كِتَابٌ مَرْقُومٌ ۝ يَش...

তারাবিহ সমগ্র - প্রথম আলো

রামাদান ২০২৪ উপলক্ষে প্রথম আলোর নিয়মিত আয়োজন - খতমে তারাবিহ'র সূরা গুলো নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা'র লিংক  নিচে দেওয়া হলো।  লিংকে ক্লিক করলেই আপনাকে আলোচনা তে নিয়ে যাবে। তারাবিহ: ১ | একটি খুন ও গাভি নিয়ে বনি ইসরাইলের বাড়াবাড়ি তারাবিহ: ২ | নারীর মর্যাদা ও অধিকার এবং অলৌকিক তিন ঘটনা তারাবিহ: ৩ | যে ১৪ নারীকে বিয়ে করা হারাম তারাবিতে: ১২ | মহানবী (সা.)–এর আকাশভ্রমণ এবং আসহাবে কাহাফের কাহিনি

রেডমি নোট ৯ এর বিস্তারিত | Redmi Note 9 in Bangla

৩০ এপ্রিল, ২০২০ এ শাওমির ঘোষনা আসে এই ফোনটি নিয়ে। কিন্তু ফোনটি মার্কেটে আসে মে মাসের শেষের দিকে৷ করোনার কারনে ফোনটি বাংলাদেশে আসতে আরো সময় নেয়। বর্তমানে বাংলাদেশে আন অফিশিয়াল ভাবে ফোনটি পাওয়া যাচ্ছে৷ বাংলাদেশে অফিশিয়াল ভাবে এখনো ফোনটি আসার তথ্য নেয়৷ চলুন ফোনটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা যাক। শাওমি নোট সিরিজের ফোন বের করে এদের রেডমি নামে সাব ব্যান্ড৷ এদের কাজ হল এই নোট সিরিজ নিয়ে কাজ করা৷ প্রতিবছর নোট সিরিজের ১/২ টা ফোন বাজারে আসে। সাথে সেই ফোন গুলার বিভিন্ন ভার্সন (যেমন - র‍্যাম ও রমের ভিত্তিতে) বাজারে আসে। এই বছরও তারা রেডমি সিরিজের নোট ৯ বাজারে আনে। এই বছর হয়তো এই সিরিজের আরো ফোন বাজারে আসবে। ডিস্পলেঃ ফোনটির ডিসপ্লে সাইজ ৬.৫৩ ইঞ্চি। এতে আইপিএস এলসিডি ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে। এই ফোনের ডিসপ্লে প্রটেকশন হিসেবে আছে গরিলা গ্লাস ফাইভ। স্ক্রিন আর ফোনের বডির অনুপাত প্রায় ৮৩.৫%। এই ফোনের ডিসপ্লে ফুলএইচডি মানে ১০৮০পি। এই ডিস্পলের দৈর্ঘ্য ১৯.৫ একক এবং প্রস্থ হল ৯ একক। এত বড় ফোনের কারনে এই ফোনের পিপি আই ডেনসিটি ৩৯৫। যা একটু কম। প্লাটফর্মঃ এই ফোনের অপারেটিং সিস্টেম এন্ড্রয়েড ১০ এবং এর...