সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

নেটওয়ার্ক টপোলজি: সহজে বুঝে নিন মেশ, স্টার, বাস এবং রিং টপোলজি

Introduction

নেটওয়ার্ক টপোলজি মানে হলো একটা নেটওয়ার্কে কম্পিউটার বা ডিভাইসগুলো একে অপরের সাথে কীভাবে সাজানো বা যুক্ত থাকে তার একটা ম্যাপ বা নকশা। সহজ কথায়, একটা রুমের বা অফিসের কম্পিউটারগুলো তার (Cable) বা অন্য কোনো মাধ্যমে কীভাবে কানেক্টেড, সেটাই হলো টপোলজি। এই ভিডিওতে চার ধরণের প্রধান টপোলজি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে যা আমাদের ডাটা আদান-প্রদানকে সহজ ও কার্যকর করে।


১. বাস টপোলজি (Bus Topology)

বাস টপোলজি হলো সবচেয়ে সাধারণ এবং পুরনো পদ্ধতি। এখানে একটা লম্বা মূল তার থাকে যাকে 'ব্যাকবোন' (Backbone) বলা হয়।

বিস্তারিত:

  • কাজ করার পদ্ধতি: এই মূল তারের সাথে সব কম্পিউটার যুক্ত থাকে। যখন একটা কম্পিউটার ডাটা পাঠায়, সেটা মূল তার দিয়ে সব কম্পিউটারের কাছে যায়। কিন্তু যার জন্য পাঠানো হয়েছে, শুধু সেই কম্পিউটারটি ডাটা গ্রহণ করে।

  • সহজ ব্যাখ্যা: চিন্তা করুন একটা লম্বা বাসের রাস্তার কথা। রাস্তার দুই পাশে যেমন বাড়ি থাকে, তেমনি তারের সাথে কম্পিউটার থাকে। বাস যেমন যাত্রী নিয়ে যায়, তেমনি তার দিয়ে ডাটা যায়।

  • সুবিধা: এটি সেটআপ করা খুব সহজ এবং খরচ কম।

  • অসুবিধা: যদি মাঝখানের মূল তারটি নষ্ট হয়ে যায়, তবে পুরো নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে যাবে।

কঠিন শব্দের ব্যাখ্যা:

  • Backbone (ব্যাকবোন): নেটওয়ার্কের প্রধান ক্যাবল বা তার যা পুরো সিস্টেমকে ধরে রাখে।

২. স্টার টপোলজি (Star Topology)

বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় স্টার টপোলজি। এখানে একটি কেন্দ্রীয় ডিভাইস থাকে (যেমন: Hub বা Switch)।

বিস্তারিত:

  • কাজ করার পদ্ধতি: প্রতিটি কম্পিউটার আলাদা আলাদা তার দিয়ে মাঝখানের ওই কেন্দ্রীয় ডিভাইসের সাথে যুক্ত থাকে। কোনো ডাটা পাঠাতে হলে আগে ওই কেন্দ্রীয় ডিভাইসে যায়, তারপর সে গন্তব্যে পাঠিয়ে দেয়।

  • সহজ ব্যাখ্যা: এটি অনেকটা সাইকেলের চাকার মতো। মাঝখানে একটা পয়েন্ট থেকে সব স্পোক যেমন চারদিকে ছড়িয়ে থাকে, এখানেও তেমনি।

  • সুবিধা: যদি একটি কম্পিউটার বা তার নষ্ট হয়, তবে বাকি নেটওয়ার্ক ঠিকঠাক কাজ করে।

  • অসুবিধা: যদি মাঝখানের কেন্দ্রীয় ডিভাইসটি (Hub/Switch) নষ্ট হয়, তবে পুরো নেটওয়ার্ক অচল হয়ে পড়বে।


৩. রিং টপোলজি (Ring Topology)

নাম শুনেই বোঝা যাচ্ছে এটি একটি বৃত্ত বা রিংয়ের মতো কাজ করে।

ভিডিও রেফারেন্স: [27:24] "Each device is connected directly to the two adjacent devices forming a closed loop..."

বিস্তারিত:

  • কাজ করার পদ্ধতি: এখানে প্রতিটি কম্পিউটার তার দুই পাশের দুটি কম্পিউটারের সাথে যুক্ত থাকে। ডাটা একমুখী (One direction) ভাবে ঘোরে যতক্ষণ না গন্তব্যে পৌঁছায়।

  • সহজ ব্যাখ্যা: অনেকটা গোল হয়ে বসে থাকা বন্ধুদের মতো, যেখানে একজন অন্যজনকে চিঠি পাস করছে যতক্ষণ না সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছায়।

  • সুবিধা: এতে ডাটা কলিশন বা সংঘর্ষ কম হয়।

  • অসুবিধা: রিংয়ের যেকোনো একটি কম্পিউটার নষ্ট হলে পুরো নেটওয়ার্ক কাজ করা বন্ধ করে দিতে পারে।


৪. মেশ টপোলজি (Mesh Topology)

মেশ টপোলজি হলো সবচেয়ে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা যেখানে প্রতিটি কম্পিউটার প্রতিটি কম্পিউটারের সাথে সরাসরি যুক্ত থাকে।

বিস্তারিত:

  • কাজ করার পদ্ধতি: এখানে কোনো নির্দিষ্ট রিং বা বাস নেই। সব কম্পিউটার নিজেদের মধ্যে জালের মতো যুক্ত। ফলে ডাটা পাঠানোর অনেকগুলো বিকল্প পথ থাকে।

  • সহজ ব্যাখ্যা: চিন্তা করুন একটি দেশের সব শহরের সাথে সব শহরের যদি সরাসরি হাইওয়ে থাকে, তবে এক রাস্তা বন্ধ হলেও অন্য পথ দিয়ে যাওয়া যাবে।

  • সুবিধা: এটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য। একটি সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলেও নেটওয়ার্কের কোনো ক্ষতি হয় না।

  • অসুবিধা: প্রচুর তার লাগে এবং সেটআপ করা অনেক ব্যয়বহুল।


কোডিং বা টেকনিক্যাল উদাহরণ (প্রাসঙ্গিক ক্ষেত্রে)

নেটওয়ার্ক টপোলজিতে সরাসরি কোডিং না থাকলেও, সিমিউলেশনে আমরা নোড (Node) ব্যবহার করি। যেমন একটি নেটওয়ার্ক স্ট্রাকচার কোডে এভাবে চিন্তা করা যায়:

Python

# একটি সিম্পল স্টার টপোলজির লজিক
central_hub = "Active"
nodes = ["PC1", "PC2", "PC3"]

def send_data(sender, receiver, data):
    if central_hub == "Active":
        print(f"{sender} থেকে {receiver}-এ ডাটা পাঠানো হচ্ছে: {data}")
    else:
        print("নেটওয়ার্ক ডাউন! হাব কাজ করছে না।")

send_data("PC1", "PC3", "হ্যালো!") 

ব্যাখ্যা: এই কোডে central_hub ঠিক থাকলে তবেই ডাটা আদান-প্রদান সম্ভব, যা স্টার টপোলজির মূল বৈশিষ্ট্য।


বিশ্লেষণ ও আমার মতামত

কন্টেন্ট ক্রিয়েটর এই ভিডিওর মাধ্যমে নেটওয়ার্কের ভিত্তি পরিষ্কার করার চেষ্টা করেছেন। আধুনিক পৃথিবীতে আমরা মূলত স্টার টপোলজি বেশি ব্যবহার করি (যেমন আমাদের বাসার ওয়াইফাই রাউটার)।

বাস্তবতা ও সাজেশন: ১. ছোট অফিস বা বাসার জন্য স্টার টপোলজি সেরা কারণ এটি ম্যানেজ করা সহজ। ২. বড় ডাটা সেন্টার বা যেখানে নিরাপত্তা অনেক বেশি জরুরি, সেখানে মেশ টপোলজি ব্যবহার করা ভালো। ৩. আজকের দিনে বাস বা রিং টপোলজি প্রায় দেখাই যায় না কারণ এগুলোর মেইনটেন্যান্স অনেক কঠিন।

আমার মতে, যারা নতুন শিখছেন তারা প্রথমে স্টার টপোলজি দিয়ে শুরু করুন কারণ আপনার আশেপাশের সব ডিভাইস এভাবেই কাজ করছে। এরপর জটিল স্ট্রাকচার যেমন মেশ টপোলজি বুঝতে সুবিধা হবে।

ভিডিও সূত্র: https://www.youtube.com/watch?v=fQbBPa0ADvs

[

Computer Networking Fundamentals Course

freeCodeCamp.org · 45K views

](http://www.youtube.com/watch?v=fQbBPa0ADvs)

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সিজ্জিন (Sijjin) vs ইল্লিয়িন (Illiyin) পার্থক্য Difference

Sijjin (سِجِّين) এবং Illiyin (عِلِّيِّين) —এ দুটি শব্দ কুরআনে এসেছে এবং দুটোই মানুষের আমলনামা সংরক্ষণ সম্পর্কিত স্থানকে নির্দেশ করে। ১. সিজ্জিন (Sijjin) সিজ্জিন হলো পাপীদের (কাফের, মুনাফিক ও দুরাচারীদের) আমলনামা সংরক্ষণের স্থান। এটি সাত তলদেশের নীচে এক কারাগার বা অন্ধকার জগতে অবস্থিত বলে উল্লেখ রয়েছে। সূরা আল-মুতাফফিফীন (৮৩:৭-৯) তে বলা হয়েছে: "كَلَّا إِنَّ كِتَابَ الْفُجَّارِ لَفِي سِجِّينٍ ۝ وَمَا أَدْرَاكَ مَا سِجِّينٌ ۝ كِتَابٌ مَرْقُومٌ" অর্থ: "না, পাপীদের আমলনামা সিজ্জিনে সংরক্ষিত। তুমি কি জানো, সিজ্জিন কী? এটি এক লিখিত দলিল।" সিজ্জিনকে একটি কারাগার, সংকীর্ণ স্থান, বা নিচের স্তরে অবস্থিত এক অন্ধকার দুনিয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। ২. ইল্লিয়িন (Illiyin) ইল্লিয়িন হলো সৎকর্মশীলদের (মুমিন ও নেককারদের) আমলনামা সংরক্ষণের স্থান । এটি সপ্তম আসমানের ওপরে সংরক্ষিত এক সম্মানিত স্থান। সূরা আল-মুতাফফিফীন (৮৩:১৮-২১) তে বলা হয়েছে: "كَلَّا إِنَّ كِتَابَ الْأَبْرَارِ لَفِي عِلِّيِّينَ ۝ وَمَا أَدْرَاكَ مَا عِلِّيُّونَ ۝ كِتَابٌ مَرْقُومٌ ۝ يَش...

তারাবিহ সমগ্র - প্রথম আলো

রামাদান ২০২৪ উপলক্ষে প্রথম আলোর নিয়মিত আয়োজন - খতমে তারাবিহ'র সূরা গুলো নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা'র লিংক  নিচে দেওয়া হলো।  লিংকে ক্লিক করলেই আপনাকে আলোচনা তে নিয়ে যাবে। তারাবিহ: ১ | একটি খুন ও গাভি নিয়ে বনি ইসরাইলের বাড়াবাড়ি তারাবিহ: ২ | নারীর মর্যাদা ও অধিকার এবং অলৌকিক তিন ঘটনা তারাবিহ: ৩ | যে ১৪ নারীকে বিয়ে করা হারাম তারাবিতে: ১২ | মহানবী (সা.)–এর আকাশভ্রমণ এবং আসহাবে কাহাফের কাহিনি

রেডমি নোট ৯ এর বিস্তারিত | Redmi Note 9 in Bangla

৩০ এপ্রিল, ২০২০ এ শাওমির ঘোষনা আসে এই ফোনটি নিয়ে। কিন্তু ফোনটি মার্কেটে আসে মে মাসের শেষের দিকে৷ করোনার কারনে ফোনটি বাংলাদেশে আসতে আরো সময় নেয়। বর্তমানে বাংলাদেশে আন অফিশিয়াল ভাবে ফোনটি পাওয়া যাচ্ছে৷ বাংলাদেশে অফিশিয়াল ভাবে এখনো ফোনটি আসার তথ্য নেয়৷ চলুন ফোনটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা যাক। শাওমি নোট সিরিজের ফোন বের করে এদের রেডমি নামে সাব ব্যান্ড৷ এদের কাজ হল এই নোট সিরিজ নিয়ে কাজ করা৷ প্রতিবছর নোট সিরিজের ১/২ টা ফোন বাজারে আসে। সাথে সেই ফোন গুলার বিভিন্ন ভার্সন (যেমন - র‍্যাম ও রমের ভিত্তিতে) বাজারে আসে। এই বছরও তারা রেডমি সিরিজের নোট ৯ বাজারে আনে। এই বছর হয়তো এই সিরিজের আরো ফোন বাজারে আসবে। ডিস্পলেঃ ফোনটির ডিসপ্লে সাইজ ৬.৫৩ ইঞ্চি। এতে আইপিএস এলসিডি ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে। এই ফোনের ডিসপ্লে প্রটেকশন হিসেবে আছে গরিলা গ্লাস ফাইভ। স্ক্রিন আর ফোনের বডির অনুপাত প্রায় ৮৩.৫%। এই ফোনের ডিসপ্লে ফুলএইচডি মানে ১০৮০পি। এই ডিস্পলের দৈর্ঘ্য ১৯.৫ একক এবং প্রস্থ হল ৯ একক। এত বড় ফোনের কারনে এই ফোনের পিপি আই ডেনসিটি ৩৯৫। যা একটু কম। প্লাটফর্মঃ এই ফোনের অপারেটিং সিস্টেম এন্ড্রয়েড ১০ এবং এর...