সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

IPv4 অ্যাড্রেসিং এবং ক্লাসফুল অ্যাড্রেসিং এর সহজ পাঠ

Introduction

আজকালকার দিনে ইন্টারনেট ছাড়া আমাদের এক মুহূর্ত চলে না। কিন্তু এই ইন্টারনেটে এক কম্পিউটার আরেক কম্পিউটারের সাথে কীভাবে যোগাযোগ করে? ঠিক যেমন আমাদের সবার বাসার একটা নির্দিষ্ট ঠিকানা থাকে, তেমনি ইন্টারনেটে যুক্ত প্রতিটি ডিভাইসেরও একটি নির্দিষ্ট ঠিকানা থাকে, যাকে আমরা বলি IP Address। এই ভিডিওটির নির্দিষ্ট অংশে (৪৩:০০ থেকে ০১:০১:৩৪ মিনিট) মূলত IPv4 অ্যাড্রেসিং এর একদম গোড়ার বিষয়গুলো এবং 'Classful Addressing' নামের পুরনো কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ একটি পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।


১. IP অ্যাড্রেস কী এবং কেন প্রয়োজন?

ভিডিওর শুরুতে সহজভাবে বোঝানো হয়েছে যে, নেটওয়ার্কে প্রতিটি ডিভাইসকে আলাদাভাবে চেনার জন্য আইপি অ্যাড্রেস দরকার।

ভিডিও রেফারেন্স: [43:00]

বিস্তারিত আলোচনা: আইপি (IP) এর পূর্ণরূপ হলো Internet Protocol। চিন্তা করুন, আপনি আপনার বন্ধুকে একটি চিঠি পাঠাতে চান। এখন চিঠির ওপর যদি বন্ধুর সঠিক ঠিকানা না থাকে, তবে কি চিঠিটি পৌঁছাবে? একদমই না! ইন্টারনেটের দুনিয়ায় আপনার কম্পিউটার বা মোবাইল যখন অন্য কোথাও তথ্য পাঠায়, তখন সেই তথ্যের সাথে একটি 'ঠিকানা' জুড়ে দেওয়া হয়। এটাই হলো IP Address।

  • সহজ ব্যাখ্যা: এটি ডিজিটাল জগতের 'বাসার নম্বর'।

  • কঠিন শব্দ (Protocol): প্রোটোকল মানে হলো কিছু নিয়ম-কানুন। ইন্টারনেট কীভাবে চলবে বা তথ্য কীভাবে আদান-প্রদান হবে, তার নিয়মই হলো ইন্টারনেট প্রোটোকল।


২. IPv4 অ্যাড্রেস এর গঠন

IPv4 অ্যাড্রেস দেখতে কেমন হয় এবং এটি কীভাবে তৈরি হয়, তা এখানে বিস্তারিত বলা হয়েছে।

ভিডিও রেফারেন্স: [48:30]

বিস্তারিত আলোচনা: একটি IPv4 অ্যাড্রেস মূলত ৩২ বিটের (32-bit) হয়। এটাকে আমরা চারটি ভাগে ভাগ করে লিখি (যেমন: 192.168.1.1)। এই প্রতিটি ভাগকে বলা হয় Octet (অক্টেট)

  • কেন অক্টেট? কারণ প্রতিটি ভাগে ৮টি করে বিট থাকে (৮ বিট = ১ অক্টেট)। ৪টি অক্টেট মিলে মোট ৩২ বিট।

  • ডট ফরম্যাট: মানুষের বোঝার সুবিধার জন্য আমরা এগুলোকে ডট ( . ) দিয়ে আলাদা করি। একে বলা হয় 'Dotted Decimal Notation'।


৩. Classful Addressing: বড় থেকে ছোট নেটওয়ার্কের ভাগ

ভিডিওর এই অংশে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি আলোচনা করা হয়েছে—কীভাবে আইপি অ্যাড্রেসগুলোকে বিভিন্ন 'ক্লাস' বা শ্রেণিতে ভাগ করা হয়।

ভিডিও রেফারেন্স: [54:15]

বিস্তারিত আলোচনা: আগেকার দিনে আইপি অ্যাড্রেস বিতরণের জন্য নির্দিষ্ট কিছু ক্লাস ব্যবহার করা হতো। একেই বলে Classful Addressing। এর প্রধান ক্লাসগুলো হলো:

  • Class A: এটি অনেক বড় প্রতিষ্ঠানের জন্য যেখানে কোটি কোটি কম্পিউটার কানেক্ট করা যায়। এর প্রথম অক্টেটটি নেটওয়ার্কের জন্য এবং বাকি তিনটি হোস্টের (ডিভাইসের) জন্য।

  • Class B: এটি মাঝারি ধরনের প্রতিষ্ঠানের জন্য। এর প্রথম দুটি অক্টেট নেটওয়ার্ক এবং পরের দুটি হোস্টের জন্য।

  • Class C: এটি ছোট নেটওয়ার্ক বা আমাদের বাসার ওয়াইফাইয়ের মতো জায়গার জন্য। এর প্রথম তিনটি অক্টেট নেটওয়ার্কের জন্য এবং শেষ অক্টেটটি হোস্টের জন্য।

সহজ ভাষায় নেটওয়ার্ক আইডি (NID) বনাম হোস্ট আইডি (HID):

  • Network ID (NID): এটা অনেকটা আপনার এলাকার নামের মতো।

  • Host ID (HID): এটা আপনার নির্দিষ্ট বাসার নম্বরের মতো।


৪. ক্লাসফুল অ্যাড্রেসিং এর সমস্যা ও অপচয়

ভিডিওর শেষের দিকে বলা হয়েছে কেন এই পদ্ধতিটি এখন আর তেমন জনপ্রিয় নয়।

ভিডিও রেফারেন্স: [01:01:00]

বিস্তারিত আলোচনা: ভিডিওর উদাহরণ অনুযায়ী, ধরুন আপনার একটি ছোট দোকান আছে যেখানে মাত্র ১০০টি আইপি লাগবে। কিন্তু ক্লাসফুল সিস্টেমে আপনাকে হয়তো 'Class C' নিতে হবে যেখানে ২৫৪টি আইপি থাকে, অথবা আরও বড় ক্লাস। এতে অনেক আইপি নষ্ট বা অপচয় হয়।

  • বাস্তব উদাহরণ: যেমন আপনি ৩ কেজি কেক চাইলে যদি দোকানদার আপনাকে বাধ্য হয়ে ১০ কেজির আস্ত কেক কিনতে বলে, তবে বাকি ৭ কেজি নষ্ট হবে। ক্লাসফুল অ্যাড্রেসিং ঠিক এমনই ছিল—প্রয়োজনের চেয়ে বেশি আইপি নিতে হতো, যা ইন্টারনেটে আইপির সংকট তৈরি করত।

বিশ্লেষণ ও আমার মতামত (Analysis & Thinking)

মূল বক্তব্য: ভিডিওর এই অংশ থেকে আমরা শিখলাম যে, IPv4 অ্যাড্রেস হলো ৩২ বিটের ঠিকানা যা ইন্টারনেটে ডিভাইস শনাক্ত করে। ক্লাসফুল অ্যাড্রেসিং (Class A, B, C) এক সময় নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাপনাকে সহজ করেছিল, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে আইপি অ্যাড্রেসের অপচয় এর প্রধান দুর্বলতা হয়ে দাঁড়ায়।

বাস্তব প্রেক্ষাপট ও বিকল্প: বর্তমানে ক্লাসফুল অ্যাড্রেসিং এর বদলে Classless Addressing (CIDR) এবং IPv6 এর ব্যবহার বাড়ছে। IPv4-এ আইপি সংখ্যা সীমিত (প্রায় ৪৩০ কোটি), যা পৃথিবীর জনসংখ্যার তুলনায় কম। তাই ভবিষ্যতে IPv6 ই হবে একমাত্র সমাধান।

পরামর্শ: আপনি যদি নেটওয়ার্কিং শিখতে শুরু করেন, তবে ক্লাসফুল অ্যাড্রেসিং এর এই কনসেপ্টটি আগে ভালো করে বুঝুন। কারণ এটি না বুঝলে আপনি আধুনিক 'Subnetting' বা 'Classless' পদ্ধতিগুলো বুঝতে সমস্যায় পড়বেন। এটি হচ্ছে নেটওয়ার্কিংয়ের ভিত্তি বা ফাউন্ডেশন।

[

Computer Networking Fundamentals Course

freeCodeCamp.org · 45K views

](http://www.youtube.com/watch?v=fQbBPa0ADvs)

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সিজ্জিন (Sijjin) vs ইল্লিয়িন (Illiyin) পার্থক্য Difference

Sijjin (سِجِّين) এবং Illiyin (عِلِّيِّين) —এ দুটি শব্দ কুরআনে এসেছে এবং দুটোই মানুষের আমলনামা সংরক্ষণ সম্পর্কিত স্থানকে নির্দেশ করে। ১. সিজ্জিন (Sijjin) সিজ্জিন হলো পাপীদের (কাফের, মুনাফিক ও দুরাচারীদের) আমলনামা সংরক্ষণের স্থান। এটি সাত তলদেশের নীচে এক কারাগার বা অন্ধকার জগতে অবস্থিত বলে উল্লেখ রয়েছে। সূরা আল-মুতাফফিফীন (৮৩:৭-৯) তে বলা হয়েছে: "كَلَّا إِنَّ كِتَابَ الْفُجَّارِ لَفِي سِجِّينٍ ۝ وَمَا أَدْرَاكَ مَا سِجِّينٌ ۝ كِتَابٌ مَرْقُومٌ" অর্থ: "না, পাপীদের আমলনামা সিজ্জিনে সংরক্ষিত। তুমি কি জানো, সিজ্জিন কী? এটি এক লিখিত দলিল।" সিজ্জিনকে একটি কারাগার, সংকীর্ণ স্থান, বা নিচের স্তরে অবস্থিত এক অন্ধকার দুনিয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। ২. ইল্লিয়িন (Illiyin) ইল্লিয়িন হলো সৎকর্মশীলদের (মুমিন ও নেককারদের) আমলনামা সংরক্ষণের স্থান । এটি সপ্তম আসমানের ওপরে সংরক্ষিত এক সম্মানিত স্থান। সূরা আল-মুতাফফিফীন (৮৩:১৮-২১) তে বলা হয়েছে: "كَلَّا إِنَّ كِتَابَ الْأَبْرَارِ لَفِي عِلِّيِّينَ ۝ وَمَا أَدْرَاكَ مَا عِلِّيُّونَ ۝ كِتَابٌ مَرْقُومٌ ۝ يَش...

তারাবিহ সমগ্র - প্রথম আলো

রামাদান ২০২৪ উপলক্ষে প্রথম আলোর নিয়মিত আয়োজন - খতমে তারাবিহ'র সূরা গুলো নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা'র লিংক  নিচে দেওয়া হলো।  লিংকে ক্লিক করলেই আপনাকে আলোচনা তে নিয়ে যাবে। তারাবিহ: ১ | একটি খুন ও গাভি নিয়ে বনি ইসরাইলের বাড়াবাড়ি তারাবিহ: ২ | নারীর মর্যাদা ও অধিকার এবং অলৌকিক তিন ঘটনা তারাবিহ: ৩ | যে ১৪ নারীকে বিয়ে করা হারাম তারাবিতে: ১২ | মহানবী (সা.)–এর আকাশভ্রমণ এবং আসহাবে কাহাফের কাহিনি

রেডমি নোট ৯ এর বিস্তারিত | Redmi Note 9 in Bangla

৩০ এপ্রিল, ২০২০ এ শাওমির ঘোষনা আসে এই ফোনটি নিয়ে। কিন্তু ফোনটি মার্কেটে আসে মে মাসের শেষের দিকে৷ করোনার কারনে ফোনটি বাংলাদেশে আসতে আরো সময় নেয়। বর্তমানে বাংলাদেশে আন অফিশিয়াল ভাবে ফোনটি পাওয়া যাচ্ছে৷ বাংলাদেশে অফিশিয়াল ভাবে এখনো ফোনটি আসার তথ্য নেয়৷ চলুন ফোনটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা যাক। শাওমি নোট সিরিজের ফোন বের করে এদের রেডমি নামে সাব ব্যান্ড৷ এদের কাজ হল এই নোট সিরিজ নিয়ে কাজ করা৷ প্রতিবছর নোট সিরিজের ১/২ টা ফোন বাজারে আসে। সাথে সেই ফোন গুলার বিভিন্ন ভার্সন (যেমন - র‍্যাম ও রমের ভিত্তিতে) বাজারে আসে। এই বছরও তারা রেডমি সিরিজের নোট ৯ বাজারে আনে। এই বছর হয়তো এই সিরিজের আরো ফোন বাজারে আসবে। ডিস্পলেঃ ফোনটির ডিসপ্লে সাইজ ৬.৫৩ ইঞ্চি। এতে আইপিএস এলসিডি ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে। এই ফোনের ডিসপ্লে প্রটেকশন হিসেবে আছে গরিলা গ্লাস ফাইভ। স্ক্রিন আর ফোনের বডির অনুপাত প্রায় ৮৩.৫%। এই ফোনের ডিসপ্লে ফুলএইচডি মানে ১০৮০পি। এই ডিস্পলের দৈর্ঘ্য ১৯.৫ একক এবং প্রস্থ হল ৯ একক। এত বড় ফোনের কারনে এই ফোনের পিপি আই ডেনসিটি ৩৯৫। যা একটু কম। প্লাটফর্মঃ এই ফোনের অপারেটিং সিস্টেম এন্ড্রয়েড ১০ এবং এর...