সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

OSI মডেল: লেয়ারের কাজ এবং ইউজার বনাম নেটওয়ার্ক সাপোর্ট

ইন্টারনেটে বা নেটওয়ার্কে এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে ডেটা কীভাবে যায়, তা বোঝার জন্য OSI (Open Systems Interconnection) মডেল হলো সবচেয়ে সহজ উপায়। এই ভিডিওটিতে মূলত OSI মডেলের ৭টি লেয়ারকে দুই ভাগে ভাগ করে তাদের কাজগুলো খুব সহজভাবে বোঝানো হয়েছে। একদিকে আছে ইউজারকে সাহায্য করার লেয়ার, আর অন্যদিকে আছে নেটওয়ার্ক সচল রাখার লেয়ার।


OSI লেয়ারের বিভাজন: ইউজার এবং নেটওয়ার্ক সাপোর্ট

এই অংশে আমরা জানবো OSI মডেলের লেয়ারগুলোকে কোন কোন ক্যাটাগরিতে ভাগ করা যায়।

ভিডিও রেফারেন্স: [12:14:58]

OSI মডেলের ৭টি লেয়ারকে মূলত তিনটি ভাগে দেখা হয়েছে:

  1. User Support Layers (ইউজার সাপোর্ট লেয়ার): এই তালিকায় আছে Application, Presentation, এবং Session লেয়ার। এদের মূল কাজ হলো দুটি আলাদা সিস্টেম যাতে একে অপরের সাথে কথা বলতে পারে (Interoperability) তা নিশ্চিত করা। অর্থাৎ, সফটওয়্যার বা ইউজার লেভেলে ডেটা কীভাবে দেখাবে বা কাজ করবে তা এরা ঠিক করে।

  2. Network Support Layers (নেটওয়ার্ক সাপোর্ট লেয়ার): এই ভাগে আছে Physical, Data Link, এবং Network লেয়ার। এরা মূলত ডেটা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরানোর ফিজিক্যাল দিকগুলো (যেমন কেবল, রাউটিং, সুইচিং) দেখাশোনা করে।

  3. Interface (ইন্টারফেস): মাঝখানে থাকা Transport লেয়ারটি একটি ইন্টারফেস হিসেবে কাজ করে। এটি উপরের ইউজার লেয়ার এবং নিচের নেটওয়ার্ক লেয়ারের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করে।


প্রতিটি লেয়ারের কাজ ও বিস্তারিত আলোচনা

এখানে প্রতিটি লেয়ার ঠিক কী কাজ করে তা সহজভাবে বর্ণনা করা হলো:

ভিডিও রেফারেন্স: [12:16:20]

১. Physical Layer (ফিজিক্যাল লেয়ার)

এটি একদম নিচের লেয়ার এবং সম্পূর্ণ হার্ডওয়্যারের সাথে যুক্ত।

  • কাজ: বিট (Bit) আকারে ডেটা এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে পাঠানো। এটি নেটওয়ার্ক টপোলজি (তারের বিন্যাস) এবং এনকোডিং (সিগন্যাল তৈরি) নিয়ন্ত্রণ করে।

  • সহজ ব্যাখ্যা: চিন্তা করুন আপনার পিসিতে লাগানো ল্যান কেবল বা ওয়াইফাই সিগন্যাল। এগুলোই হলো ফিজিক্যাল লেয়ার।

২. Data Link Layer (ডেটা লিঙ্ক লেয়ার)

  • কাজ: ফ্লো কন্ট্রোল, এরর (ভুল) ডিটেকশন এবং ফিজিক্যাল অ্যাড্রেসিং (যাকে আমরা MAC Address বলি)।

  • সহজ ব্যাখ্যা: ডেটা পাঠানোর সময় যদি কোনো ভুল হয় বা ডেটার স্পিড যদি বেশি হয়ে যায়, তবে এই লেয়ার তা সামলায়।

৩. Network Layer (নেটওয়ার্ক লেয়ার)

  • কাজ: হোস্ট-টু-হোস্ট কানেক্টিভিটি, লজিক্যাল অ্যাড্রেসিং (IP Address), এবং রাউটিং (কোন পথে ডেটা যাবে)।

  • সহজ ব্যাখ্যা: ইন্টারনেটে আপনার বাসার রাউটার যে সিদ্ধান্ত নেয় যে ডেটা কোন রাস্তায় যাবে, সেটিই হলো নেটওয়ার্ক লেয়ারের কাজ।

৪. Transport Layer (ট্রান্সপোর্ট লেয়ার)

  • কাজ: এন্ড-টু-এন্ড (এক মাথা থেকে অন্য মাথা) কানেক্টিভিটি। এটি বড় ডেটাকে ছোট ছোট ভাগে (Segmentation) ভাগ করে এবং আবার জোড়া লাগায়।

  • কঠিন শব্দ - Segmentation: বড় একটি ফাইলকে ছোট ছোট টুকরো করা যাতে তা সহজে পাঠানো যায়।

৫. Session Layer (সেশন লেয়ার)

  • কাজ: প্রেরক এবং প্রাপকের মধ্যে কানেকশন তৈরি করা, নিয়ন্ত্রণ করা এবং সেশন শেষ হলে তা বন্ধ করা। এটি অথেন্টিকেশন (ইউজার সঠিক কি না যাচাই) করে।

  • সহজ ব্যাখ্যা: আপনি যখন ফেসবুকে লগইন করেন, তখন আপনার আর ফেসবুকের মধ্যে যে একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য যোগাযোগ তৈরি হয়, সেটাই সেশন।

৬. Presentation Layer (প্রেজেন্টেশন লেয়ার)

  • কাজ: ডেটা ট্রান্সলেশন, এনক্রিপশন (ডেটা গোপন করা) এবং কমপ্রেশন (ডেটা ছোট করা)।

  • সহজ ব্যাখ্যা: যখন আপনি কোনো গোপন পাসওয়ার্ড পাঠান, এই লেয়ার সেটাকে এমন হিজিবিজি কোডে রূপান্তর করে যাতে মাঝপথে কেউ না পড়ে।

৭. Application Layer (অ্যাপ্লিকেশন লেয়ার)

  • কাজ: ইউজারকে সরাসরি সার্ভিস দেওয়া, যেমন- ইমেইল পাঠানো (SMTP), ফাইল শেয়ারিং (FTP) বা ব্রাউজ করা (HTTP)।

  • সহজ ব্যাখ্যা: আপনি সরাসরি যে অ্যাপ বা ব্রাউজার ব্যবহার করছেন, সেটিই অ্যাপ্লিকেশন লেয়ারের সাথে যুক্ত।


আমাদের বিশ্লেষণ ও ভাবনা

এই ভিডিওটির মাধ্যমে ক্রিয়েটর বোঝাতে চেয়েছেন যে নেটওয়ার্কিং মানে শুধু তার বা রাউটার নয়, বরং এটি অনেকগুলো সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার লেয়ারের সমন্বয়।

বাস্তব দৃষ্টিভঙ্গি ও পরামর্শ:

  • অ্যানালিসিস: নতুনদের জন্য OSI মডেলটি শুরুতে একটু কঠিন মনে হতে পারে। তবে ভিডিওতে যেভাবে 'ইউজার সাপোর্ট' এবং 'নেটওয়ার্ক সাপোর্ট'—এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে, তাতে মনে রাখা অনেক সহজ হয়।

  • পরামর্শ: আপনি যদি নেটওয়ার্কিং শিখতে চান, তবে শুধু সংজ্ঞা মুখস্থ না করে প্রতিটি লেয়ারের প্রোটোকলগুলো (যেমন- HTTP, TCP, IP) নিয়ে বাস্তব প্রজেক্টে কাজ করুন। যেমন- ওয়্যারশার্ক (Wireshark) সফটওয়্যার দিয়ে আপনি নিজেই দেখতে পারেন আপনার পাঠানো প্যাকেটগুলো কোন লেয়ারে কীভাবে কাজ করছে। এটি বই পড়ার চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর।

উপসংহার: নেটওয়ার্কিং জগতের ভিত্তি হলো এই OSI মডেল। এটি সঠিকভাবে বুঝলে কম্পিউটার কীভাবে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে তথ্য পাঠায়, তার রহস্য আপনার কাছে পরিষ্কার হয়ে যাবে।

[

Computer Networking Fundamentals Course

freeCodeCamp.org · 45K views

](http://www.youtube.com/watch?v=fQbBPa0ADvs)

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সিজ্জিন (Sijjin) vs ইল্লিয়িন (Illiyin) পার্থক্য Difference

Sijjin (سِجِّين) এবং Illiyin (عِلِّيِّين) —এ দুটি শব্দ কুরআনে এসেছে এবং দুটোই মানুষের আমলনামা সংরক্ষণ সম্পর্কিত স্থানকে নির্দেশ করে। ১. সিজ্জিন (Sijjin) সিজ্জিন হলো পাপীদের (কাফের, মুনাফিক ও দুরাচারীদের) আমলনামা সংরক্ষণের স্থান। এটি সাত তলদেশের নীচে এক কারাগার বা অন্ধকার জগতে অবস্থিত বলে উল্লেখ রয়েছে। সূরা আল-মুতাফফিফীন (৮৩:৭-৯) তে বলা হয়েছে: "كَلَّا إِنَّ كِتَابَ الْفُجَّارِ لَفِي سِجِّينٍ ۝ وَمَا أَدْرَاكَ مَا سِجِّينٌ ۝ كِتَابٌ مَرْقُومٌ" অর্থ: "না, পাপীদের আমলনামা সিজ্জিনে সংরক্ষিত। তুমি কি জানো, সিজ্জিন কী? এটি এক লিখিত দলিল।" সিজ্জিনকে একটি কারাগার, সংকীর্ণ স্থান, বা নিচের স্তরে অবস্থিত এক অন্ধকার দুনিয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। ২. ইল্লিয়িন (Illiyin) ইল্লিয়িন হলো সৎকর্মশীলদের (মুমিন ও নেককারদের) আমলনামা সংরক্ষণের স্থান । এটি সপ্তম আসমানের ওপরে সংরক্ষিত এক সম্মানিত স্থান। সূরা আল-মুতাফফিফীন (৮৩:১৮-২১) তে বলা হয়েছে: "كَلَّا إِنَّ كِتَابَ الْأَبْرَارِ لَفِي عِلِّيِّينَ ۝ وَمَا أَدْرَاكَ مَا عِلِّيُّونَ ۝ كِتَابٌ مَرْقُومٌ ۝ يَش...

তারাবিহ সমগ্র - প্রথম আলো

রামাদান ২০২৪ উপলক্ষে প্রথম আলোর নিয়মিত আয়োজন - খতমে তারাবিহ'র সূরা গুলো নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা'র লিংক  নিচে দেওয়া হলো।  লিংকে ক্লিক করলেই আপনাকে আলোচনা তে নিয়ে যাবে। তারাবিহ: ১ | একটি খুন ও গাভি নিয়ে বনি ইসরাইলের বাড়াবাড়ি তারাবিহ: ২ | নারীর মর্যাদা ও অধিকার এবং অলৌকিক তিন ঘটনা তারাবিহ: ৩ | যে ১৪ নারীকে বিয়ে করা হারাম তারাবিতে: ১২ | মহানবী (সা.)–এর আকাশভ্রমণ এবং আসহাবে কাহাফের কাহিনি

রেডমি নোট ৯ এর বিস্তারিত | Redmi Note 9 in Bangla

৩০ এপ্রিল, ২০২০ এ শাওমির ঘোষনা আসে এই ফোনটি নিয়ে। কিন্তু ফোনটি মার্কেটে আসে মে মাসের শেষের দিকে৷ করোনার কারনে ফোনটি বাংলাদেশে আসতে আরো সময় নেয়। বর্তমানে বাংলাদেশে আন অফিশিয়াল ভাবে ফোনটি পাওয়া যাচ্ছে৷ বাংলাদেশে অফিশিয়াল ভাবে এখনো ফোনটি আসার তথ্য নেয়৷ চলুন ফোনটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা যাক। শাওমি নোট সিরিজের ফোন বের করে এদের রেডমি নামে সাব ব্যান্ড৷ এদের কাজ হল এই নোট সিরিজ নিয়ে কাজ করা৷ প্রতিবছর নোট সিরিজের ১/২ টা ফোন বাজারে আসে। সাথে সেই ফোন গুলার বিভিন্ন ভার্সন (যেমন - র‍্যাম ও রমের ভিত্তিতে) বাজারে আসে। এই বছরও তারা রেডমি সিরিজের নোট ৯ বাজারে আনে। এই বছর হয়তো এই সিরিজের আরো ফোন বাজারে আসবে। ডিস্পলেঃ ফোনটির ডিসপ্লে সাইজ ৬.৫৩ ইঞ্চি। এতে আইপিএস এলসিডি ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে। এই ফোনের ডিসপ্লে প্রটেকশন হিসেবে আছে গরিলা গ্লাস ফাইভ। স্ক্রিন আর ফোনের বডির অনুপাত প্রায় ৮৩.৫%। এই ফোনের ডিসপ্লে ফুলএইচডি মানে ১০৮০পি। এই ডিস্পলের দৈর্ঘ্য ১৯.৫ একক এবং প্রস্থ হল ৯ একক। এত বড় ফোনের কারনে এই ফোনের পিপি আই ডেনসিটি ৩৯৫। যা একটু কম। প্লাটফর্মঃ এই ফোনের অপারেটিং সিস্টেম এন্ড্রয়েড ১০ এবং এর...