সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ট্রান্সপোর্ট লেয়ার পোর্ট এবং কমিউনিকেশন টাইপস (Unicast, Multicast, Broadcast)

নমস্কার! আজকের এই আলোচনায় আমরা কম্পিউটার নেটওয়ার্কিংয়ের খুবই গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় নিয়ে সহজ ভাষায় কথা বলব। আপনি যদি জানতে চান ইন্টারনেট বা নেটওয়ার্কে ডেটা কীভাবে সঠিক জায়গায় পৌঁছায় এবং কতভাবে এই ডেটা আদান-প্রদান করা যায়, তবে এই সামারিটি আপনার জন্য। আমরা মূলত ট্রান্সপোর্ট লেয়ারের 'পোর্ট' এবং নেটওয়ার্কের বিভিন্ন ধরনের 'কমিউনিকেশন মেথড' (ইউনিকাস্ট, মাল্টিকাস্ট, ব্রডকাস্ট) নিয়ে আলোচনা করব।

১. ট্রান্সপোর্ট লেয়ার পোর্ট (Transport Layer Ports)

ভিডিও রেফারেন্স: [01:59:13]

ইন্টারনেটে যখন আমরা কোনো কাজ করি, যেমন মেইল পাঠানো বা কোনো ওয়েবসাইট ব্রাউজ করা, তখন আমাদের কম্পিউটার কীভাবে বোঝে কোন ডেটা কোন অ্যাপ্লিকেশনের জন্য? এখানেই পোর্টের কাজ শুরু।

বিস্তারিত আলোচনা: আপনার কম্পিউটার বা সার্ভারকে যদি একটি বিশাল অ্যাপার্টমেন্ট বিল্ডিং ধরেন, তবে সেই বিল্ডিংয়ের ঠিকানা হলো আপনার IP Address। কিন্তু সেই বিল্ডিংয়ের কোন রুমে (অ্যাপ্লিকেশনে) ডেটা যাবে, সেটা ঠিক করে দেয় Port Number

কিছু কমন পোর্ট নম্বর যা ভিডিওতে উল্লেখ করা হয়েছে:

  • DNS (Domain Name System): পোর্ট নম্বর ৫৩। (সহজ কথায়: ইন্টারনেটের ফোনবুক যা ওয়েবসাইটের নামকে আইপিতে বদলে দেয়)।

  • HTTP (Hypertext Transfer Protocol): পোর্ট নম্বর ৮০। (ওয়েব ব্রাউজিংয়ের জন্য)।

  • POP/IMAP: পোর্ট নম্বর ১১০/১৪৩। (ইমেইল রিসিভ করার জন্য)।

  • HTTPS: এটি সাধারণত ৪৪৩ পোর্টে কাজ করে।

সহজ ব্যাখ্যা (Difficult Words):

  • Port Number: এটি একটি ১৬-বিটের নম্বর যা নির্দিষ্ট কোনো সফটওয়্যার বা সার্ভিসকে নেটওয়ার্কে আলাদাভাবে চিনতে সাহায্য করে।

  • Application: কম্পিউটারের বিভিন্ন প্রোগ্রাম যেমন ক্রোম ব্রাউজার, জুম অ্যাপ ইত্যাদি।


২. ইউনিকাস্ট কমিউনিকেশন (Unicast Communication)

ভিডিও রেফারেন্স: [01:59:46]

ইউনিকাস্ট হলো নেটওয়ার্কিংয়ের সবচেয়ে সাধারণ যোগাযোগ পদ্ধতি।

বিস্তারিত আলোচনা: যখন একজন সেন্ডার (পাঠক) সরাসরি একজন নির্দিষ্ট রিসিভারকে (প্রাপক) ডেটা পাঠায়, তখন তাকে ইউনিকাস্ট বলে। এটা অনেকটা ওয়ান-টু-ওয়ান (1-to-1) প্রাইভেট চ্যাটের মতো। ধরুন, আপনি আপনার বন্ধুকে হোয়াটসঅ্যাপে একটি মেসেজ দিলেন, সেটি শুধু আপনার বন্ধুই পাবে। এটাই ইউনিকাস্ট।

  • ব্যবহার: সাধারণ ওয়েব ব্রাউজিং, ইমেইল পাঠানো।

  • আমার চিন্তাভাবনা: ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার জন্য এই পদ্ধতি সেরা। এখানে অকারণে অন্য কারো কাছে ডেটা যায় না।


৩. মাল্টিকাস্ট কমিউনিকেশন (Multicast Communication)

ভিডিও রেফারেন্স: [01:59:46]

এটি একটু স্পেশাল টাইপের যোগাযোগ পদ্ধতি। এটি ওয়ান-টু-মেনি (1-to-Many) কিন্তু একটি নির্দিষ্ট গ্রুপের জন্য।

বিস্তারিত আলোচনা: যখন একজন সেন্ডার একসাথে অনেককে ডেটা পাঠাতে চায়, কিন্তু সবাই সেটা পাবে না—শুধুমাত্র যারা ওই নির্দিষ্ট 'গ্রুপের' মেম্বার তারা পাবে, তখন তাকে মাল্টিকাস্ট বলে।

সহজ উদাহরণ: মনে করুন একটি অনলাইন ক্লাস চলছে। শুধু যারা ওই ক্লাসে জয়েন করেছে (সাবস্ক্রাইব করেছে), তারাই ভিডিওটি দেখতে পাচ্ছে। পুরো ইন্টারনেটের সবাই সেটা দেখছে না।

  • সহজ ব্যাখ্যা: Multicast Group হলো এমন একটি গ্রুপ যেখানে ডেটা রিসিভ করার জন্য আগে থেকে যুক্ত হতে হয়।

  • ব্যবহার: ভিডিও কনফারেন্সিং, আইপি টিভি (IPTV)।


৪. ব্রডকাস্ট কমিউনিকেশন (Broadcast Communication)

ভিডিও রেফারেন্স: [01:59:46]

ব্রডকাস্ট মানে হলো 'সবার জন্য'। এটি ওয়ান-টু-অল (1-to-All) পদ্ধতি।

বিস্তারিত আলোচনা: যখন একটি নেটওয়ার্কে থাকা প্রতিটি ডিভাইসের কাছে একই সাথে ডেটা পাঠানো হয়, তখন তাকে ব্রডকাস্ট বলে। এখানে কোনো বাছাই প্রক্রিয়া নেই; নেটওয়ার্কের সবাই এই মেসেজটি পাবে।

সহজ উদাহরণ: পাড়ার মসজিদের মাইকিং বা রেডিও স্টেশনের মতো। রেডিও থেকে যখন গান বাজানো হয়, তখন ওই এলাকার সবার রেডিওতেই সেটি বেজে ওঠে যদি তারা টিউন করে থাকে।

  • সহজ ব্যাখ্যা: Broadcast Domain মানে হলো একটি নির্দিষ্ট এরিয়া বা নেটওয়ার্ক যার ভেতরে সবাই মেসেজটি শুনতে পাবে।

  • ব্যবহার: নতুন ডিভাইস কানেক্ট হলে নেটওয়ার্ক আইডি খুঁজে বের করা (ARP Request)।


৫. বিশ্লেষণ এবং আমার চিন্তাভাবনা (Analysis & Thinking)

কন্টেন্ট ক্রিয়েটর কী বোঝাতে চেয়েছেন? ভিডিওর এই অংশে ইন্সট্রাক্টর বোঝাতে চেয়েছেন যে নেটওয়ার্কিং শুধুমাত্র তার বা সিগন্যাল নয়, বরং এটি একটি সুশৃঙ্খল সিস্টেম। পোর্ট নম্বর আমাদের নিশ্চিত করে যে সঠিক অ্যাপ্লিকেশনে ডেটা যাচ্ছে, আর কমিউনিকেশন টাইপগুলো ঠিক করে ডেটা কতজন মানুষের কাছে পৌঁছাবে।

বাস্তবতা ও সাজেশন: বর্তমানে আমরা যখন ইউটিউব লাইভ দেখি, তখন মূলত 'মাল্টিকাস্ট' বা উন্নত লেভেলের ইউনিকাস্ট টেকনোলজি ব্যবহার করা হয়। একজন বিগিনার হিসেবে আপনার উচিত প্রথমে TCP/UDP পোর্টগুলো সম্পর্কে ধারণা নেওয়া কারণ সাইবার সিকিউরিটি বা ওয়েব ডেভেলপমেন্ট—সবখানেই পোর্ট নম্বর জানাটা বাধ্যতামূলক।

বিকল্প ব্যবস্থা: আজকাল অনেক ক্ষেত্রে Anycast নামক আরও একটি পদ্ধতি ব্যবহৃত হয় (বিশেষ করে CDN-এ), যা ডেটাকে ইউজারের সবচেয়ে কাছের সার্ভারে পাঠিয়ে দেয়। তবে শেখার শুরুতে ইউনিকাস্ট, মাল্টিকাস্ট এবং ব্রডকাস্ট—এই তিনটি ভিত্তি ভালোভাবে বোঝা জরুরি।

আশা করি এই সহজ আলোচনাটি আপনার নেটওয়ার্কিং শেখার যাত্রায় সাহায্য করবে!

[

Computer Networking Fundamentals Course

freeCodeCamp.org · 45K views

](http://www.youtube.com/watch?v=fQbBPa0ADvs)

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সিজ্জিন (Sijjin) vs ইল্লিয়িন (Illiyin) পার্থক্য Difference

Sijjin (سِجِّين) এবং Illiyin (عِلِّيِّين) —এ দুটি শব্দ কুরআনে এসেছে এবং দুটোই মানুষের আমলনামা সংরক্ষণ সম্পর্কিত স্থানকে নির্দেশ করে। ১. সিজ্জিন (Sijjin) সিজ্জিন হলো পাপীদের (কাফের, মুনাফিক ও দুরাচারীদের) আমলনামা সংরক্ষণের স্থান। এটি সাত তলদেশের নীচে এক কারাগার বা অন্ধকার জগতে অবস্থিত বলে উল্লেখ রয়েছে। সূরা আল-মুতাফফিফীন (৮৩:৭-৯) তে বলা হয়েছে: "كَلَّا إِنَّ كِتَابَ الْفُجَّارِ لَفِي سِجِّينٍ ۝ وَمَا أَدْرَاكَ مَا سِجِّينٌ ۝ كِتَابٌ مَرْقُومٌ" অর্থ: "না, পাপীদের আমলনামা সিজ্জিনে সংরক্ষিত। তুমি কি জানো, সিজ্জিন কী? এটি এক লিখিত দলিল।" সিজ্জিনকে একটি কারাগার, সংকীর্ণ স্থান, বা নিচের স্তরে অবস্থিত এক অন্ধকার দুনিয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। ২. ইল্লিয়িন (Illiyin) ইল্লিয়িন হলো সৎকর্মশীলদের (মুমিন ও নেককারদের) আমলনামা সংরক্ষণের স্থান । এটি সপ্তম আসমানের ওপরে সংরক্ষিত এক সম্মানিত স্থান। সূরা আল-মুতাফফিফীন (৮৩:১৮-২১) তে বলা হয়েছে: "كَلَّا إِنَّ كِتَابَ الْأَبْرَارِ لَفِي عِلِّيِّينَ ۝ وَمَا أَدْرَاكَ مَا عِلِّيُّونَ ۝ كِتَابٌ مَرْقُومٌ ۝ يَش...

তারাবিহ সমগ্র - প্রথম আলো

রামাদান ২০২৪ উপলক্ষে প্রথম আলোর নিয়মিত আয়োজন - খতমে তারাবিহ'র সূরা গুলো নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা'র লিংক  নিচে দেওয়া হলো।  লিংকে ক্লিক করলেই আপনাকে আলোচনা তে নিয়ে যাবে। তারাবিহ: ১ | একটি খুন ও গাভি নিয়ে বনি ইসরাইলের বাড়াবাড়ি তারাবিহ: ২ | নারীর মর্যাদা ও অধিকার এবং অলৌকিক তিন ঘটনা তারাবিহ: ৩ | যে ১৪ নারীকে বিয়ে করা হারাম তারাবিতে: ১২ | মহানবী (সা.)–এর আকাশভ্রমণ এবং আসহাবে কাহাফের কাহিনি

রেডমি নোট ৯ এর বিস্তারিত | Redmi Note 9 in Bangla

৩০ এপ্রিল, ২০২০ এ শাওমির ঘোষনা আসে এই ফোনটি নিয়ে। কিন্তু ফোনটি মার্কেটে আসে মে মাসের শেষের দিকে৷ করোনার কারনে ফোনটি বাংলাদেশে আসতে আরো সময় নেয়। বর্তমানে বাংলাদেশে আন অফিশিয়াল ভাবে ফোনটি পাওয়া যাচ্ছে৷ বাংলাদেশে অফিশিয়াল ভাবে এখনো ফোনটি আসার তথ্য নেয়৷ চলুন ফোনটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা যাক। শাওমি নোট সিরিজের ফোন বের করে এদের রেডমি নামে সাব ব্যান্ড৷ এদের কাজ হল এই নোট সিরিজ নিয়ে কাজ করা৷ প্রতিবছর নোট সিরিজের ১/২ টা ফোন বাজারে আসে। সাথে সেই ফোন গুলার বিভিন্ন ভার্সন (যেমন - র‍্যাম ও রমের ভিত্তিতে) বাজারে আসে। এই বছরও তারা রেডমি সিরিজের নোট ৯ বাজারে আনে। এই বছর হয়তো এই সিরিজের আরো ফোন বাজারে আসবে। ডিস্পলেঃ ফোনটির ডিসপ্লে সাইজ ৬.৫৩ ইঞ্চি। এতে আইপিএস এলসিডি ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে। এই ফোনের ডিসপ্লে প্রটেকশন হিসেবে আছে গরিলা গ্লাস ফাইভ। স্ক্রিন আর ফোনের বডির অনুপাত প্রায় ৮৩.৫%। এই ফোনের ডিসপ্লে ফুলএইচডি মানে ১০৮০পি। এই ডিস্পলের দৈর্ঘ্য ১৯.৫ একক এবং প্রস্থ হল ৯ একক। এত বড় ফোনের কারনে এই ফোনের পিপি আই ডেনসিটি ৩৯৫। যা একটু কম। প্লাটফর্মঃ এই ফোনের অপারেটিং সিস্টেম এন্ড্রয়েড ১০ এবং এর...