সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

জাপানি প্রফেসরের ইসলাম গ্রহণ এবং একটি শসার গল্প

পরিচয় বা ইন্ট্রোডাকশন: এই ভিডিওটি মূলত জাপানি প্রফেসর ডক্টর নাওকি ইয়ামামতো-র জীবনের এক অসাধারণ যাত্রার গল্প। তিনি কীভাবে একজন জাপানি খ্রিস্টান পরিবারে বড় হয়েও ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হলেন এবং শেষ পর্যন্ত মুসলিম হলেন, সেই পুরো প্রক্রিয়াটি এখানে খুব সহজভাবে তুলে ধরা হয়েছে। মজার বিষয় হলো, তার এই বিশাল পরিবর্তনের পেছনে বড় কোনো অলৌকিক ঘটনা নয়, বরং একটি সাধারণ "শসা" এবং মানুষের সাধারণ আচরণের এক গভীর প্রভাব কাজ করেছে।


জীবনের শুরু এবং ধর্মের প্রতি অনুসন্ধান

রেফারেন্স: [01:17], [02:01]

ডক্টর নাওকি জাপানের এক খ্রিস্টান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তবে তাদের পরিবারে ধর্মের খুব একটা কঠোর চর্চা ছিল না। তার বয়স যখন ১৯ বছর, তখন থেকেই তিনি জীবন এবং সৃষ্টিকর্তা সম্পর্কে ভাবতে শুরু করেন। জাপানি সমাজে ধর্ম নিয়ে খোলামেলা আলোচনা খুব একটা হয় না, তাই তিনি বৌদ্ধ ধর্ম, শিন্তো ধর্ম (জাপানের আদি ধর্ম) এবং খ্রিস্টান ধর্মতত্ত্ব নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন।

সহজ ব্যাখ্যা: জাপানিরা সাধারণত খুব বাস্তববাদী হয়। ডক্টর নাওকি বুঝতে চেয়েছিলেন এই মহাবিশ্বের কোনো মালিক আছে কি না। তিনি বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ পড়ে দেখছিলেন কোন ধর্ম তাকে সঠিক উত্তর দিতে পারে।

কঠিন শব্দ: * ধর্মতত্ত্ব (Theology): ধর্ম এবং ঈশ্বর সম্পর্কে গভীর জ্ঞান বা পড়াশোনা।

  • শিন্তোইজম (Shintoism): এটি জাপানের একটি ঐতিহ্যবাহী ধর্ম যেখানে প্রকৃতি এবং পূর্বপুরুষদের পূজা করা হয়।

একটি বই এবং আবেগঘন এক সাক্ষাৎ

রেফারেন্স: [02:36], [04:43]

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তিনি ঈশ্বর সম্পর্কে একটি ছোট বই খুঁজে পান। বইটি কোনো এক জাপানি মুসলিম নারী স্কলারের লেখা ছিল। বইটির মূল কথা ছিল মানুষের অহংকার ত্যাগ করা এবং এক ঈশ্বরের প্রতি নিজেকে সঁপে দেওয়া। বইটি পড়ে তিনি এতটাই মুগ্ধ হন যে, লেখকের স্বামীর সাথে যোগাযোগ করেন। যখন তারা একটি ক্যাফেতে দেখা করেন, তখন সেই ভদ্রলোক (যিনি নিজেও একজন প্রফেসর) কাঁদতে শুরু করেন। তিনি জানান, তার স্ত্রী (বইটির লেখক) এক বছর আগে ক্যান্সারে মারা গেছেন।

বিশ্লেষণ ও চিন্তা: এখানেই নাওকি প্রথম ইসলামের এক মানবিক রূপ দেখতে পান। সেই প্রফেসর কাঁদতে কাঁদতে তাকে বলেছিলেন যে, তার স্ত্রীর লেখা বইটি পড়ে কেউ ইসলাম সম্পর্কে জানতে চাচ্ছে, এটিই তার স্ত্রীর জন্য "সাদাকায়ে জারিয়া"। অর্থাৎ, মৃত্যুর পরেও ভালো কাজের ফল। এই বিষয়টি নাওকিকে মানসিকভাবে নাড়া দেয়।

কঠিন শব্দ:

  • সাদাকায়ে জারিয়া: এমন দান বা ভালো কাজ, যার সওয়াব বা পুরস্কার মানুষ মৃত্যুর পরেও পেতে থাকে।

মিশর যাত্রা এবং সেই ঐতিহাসিক "শসা"

রেফারেন্স: [07:51], [10:22]

আরবি ভাষা শিখতে নাওকি মিশরে যান। সেখানে রমজান মাসে তিনি এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা লাভ করেন। একদিন স্কুল থেকে ফেরার পথে তিনি তাদের অ্যাপার্টমেন্টের দারোয়ানকে দেখেন ইফতার করছেন। সেই বৃদ্ধ দারোয়ানটি খুব গরিব ছিলেন এবং তার কাছে ইফতার করার মতো ছিল মাত্র একটি "শসা"। কিন্তু নাওকিকে দেখামাত্রই তিনি বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে সেই শসাটির অর্ধেক তাকে খাওয়ার জন্য দিয়ে দেন।

সহজ ব্যাখ্যা: নাওকি জাপানি সমাজ থেকে এসেছেন যেখানে মানুষ খুব আত্মকেন্দ্রিক বা নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে। কিন্তু একজন গরিব মানুষ, যার কাছে খাওয়ার মতো কিছুই নেই, সে কীভাবে তার একমাত্র খাবার একজন অপরিচিত অমুসলিমকে দিয়ে দিতে পারে? এই সাধারণ শসা দেওয়ার ঘটনাটিই নাওকিকে বুঝিয়ে দিয়েছিল যে ইসলামের শক্তি কোথায়। এটি কেবল বইয়ের কথা নয়, এটি মানুষের আচরণের পরিবর্তন।


জাপানি সমাজের সমস্যা এবং ইসলামের সমাধান

রেফারেন্স: [15:28], [17:51]

ডক্টর নাওকির মতে, বর্তমান জাপানি সমাজের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো "একাকিত্ব" (Loneliness)। জাপানে প্রতি বছর প্রায় ২০ হাজার মানুষ আত্মহত্যা করে। মানুষ একে অপরের সাথে মনের কথা বলতে পারে না। তিনি মনে করেন, ইসলাম যদি জাপানি সমাজে সঠিকভাবে পৌঁছাতে পারে, তবে এই একাকিত্ব এবং মানসিক সমস্যা দূর হওয়া সম্ভব। এছাড়া তিনি নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর মক্কী জীবনের ধৈর্য দেখেও খুব অনুপ্রাণিত।


আমার বিশ্লেষণ এবং মতামত

ডক্টর নাওকি ইয়ামামতো-র এই গল্পটি আমাদের শেখায় যে, বড় বড় লেকচার বা তর্কের চেয়ে ছোট ছোট মানবিক আচরণ মানুষের মনে বেশি দাগ কাটে।

সম্ভাবনা ও চিন্তা: ১. আচরণই আসল প্রচার: একজন সাধারণ দারোয়ানের একটি শসা দান করা একজন প্রফেসরকে মুসলিম বানাতে সাহায্য করেছে। এর মানে হলো, আমরা অন্যদের সাথে কেমন ব্যবহার করি, সেটাই আমাদের ধর্মের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন। ২. বাস্তব ধর্মচর্চা: জাপানিরা তত্ত্বে বিশ্বাসী নয়, তারা হাতে-কলমে প্রমাণ দেখতে চায়। নাওকি এটাই বোঝাতে চেয়েছেন যে, ইসলাম শুধু মসজিদে খুতবা দেওয়ার নাম নয়, এটি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নাম। ৩. বিকল্প চিন্তা: বর্তমান ডিজিটাল যুগে আমরা কেবল ইউটিউব বা টিকটক ভিডিওর মাধ্যমে ধর্ম প্রচারের চেষ্টা করি। কিন্তু ডক্টর নাওকির অভিজ্ঞতা বলছে, মানুষের সাথে সরাসরি মেশা এবং সহানুভূতি দেখানোই সবচেয়ে কার্যকর।

পরামর্শ: যারা নতুন কিছু শিখতে চান বা অন্যকে অনুপ্রাণিত করতে চান, তারা যেন বড় কথার চেয়ে ছোট ছোট ভালো কাজের দিকে মনোযোগ দেন। ইসলামের উদারতা এবং দানশীলতাই পারে আধুনিক বিশ্বের একাকিত্ব দূর করতে।

বিশেষ কোনো কোডিং এই ভিডিওতে নেই, কারণ এটি একটি জীবনমুখী ও আধ্যাত্মিক আলোচনা।

[

জাপানি প্রফেসরের ইসলাম গ্রহণ — “একটি শসা আমাকে ইসলামের পথে এনেছে”

Towards Eternity - বাংলা · 168K views

](http://www.youtube.com/watch?v=QNMmgy9bDjk)

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সিজ্জিন (Sijjin) vs ইল্লিয়িন (Illiyin) পার্থক্য Difference

Sijjin (سِجِّين) এবং Illiyin (عِلِّيِّين) —এ দুটি শব্দ কুরআনে এসেছে এবং দুটোই মানুষের আমলনামা সংরক্ষণ সম্পর্কিত স্থানকে নির্দেশ করে। ১. সিজ্জিন (Sijjin) সিজ্জিন হলো পাপীদের (কাফের, মুনাফিক ও দুরাচারীদের) আমলনামা সংরক্ষণের স্থান। এটি সাত তলদেশের নীচে এক কারাগার বা অন্ধকার জগতে অবস্থিত বলে উল্লেখ রয়েছে। সূরা আল-মুতাফফিফীন (৮৩:৭-৯) তে বলা হয়েছে: "كَلَّا إِنَّ كِتَابَ الْفُجَّارِ لَفِي سِجِّينٍ ۝ وَمَا أَدْرَاكَ مَا سِجِّينٌ ۝ كِتَابٌ مَرْقُومٌ" অর্থ: "না, পাপীদের আমলনামা সিজ্জিনে সংরক্ষিত। তুমি কি জানো, সিজ্জিন কী? এটি এক লিখিত দলিল।" সিজ্জিনকে একটি কারাগার, সংকীর্ণ স্থান, বা নিচের স্তরে অবস্থিত এক অন্ধকার দুনিয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। ২. ইল্লিয়িন (Illiyin) ইল্লিয়িন হলো সৎকর্মশীলদের (মুমিন ও নেককারদের) আমলনামা সংরক্ষণের স্থান । এটি সপ্তম আসমানের ওপরে সংরক্ষিত এক সম্মানিত স্থান। সূরা আল-মুতাফফিফীন (৮৩:১৮-২১) তে বলা হয়েছে: "كَلَّا إِنَّ كِتَابَ الْأَبْرَارِ لَفِي عِلِّيِّينَ ۝ وَمَا أَدْرَاكَ مَا عِلِّيُّونَ ۝ كِتَابٌ مَرْقُومٌ ۝ يَش...

তারাবিহ সমগ্র - প্রথম আলো

রামাদান ২০২৪ উপলক্ষে প্রথম আলোর নিয়মিত আয়োজন - খতমে তারাবিহ'র সূরা গুলো নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা'র লিংক  নিচে দেওয়া হলো।  লিংকে ক্লিক করলেই আপনাকে আলোচনা তে নিয়ে যাবে। তারাবিহ: ১ | একটি খুন ও গাভি নিয়ে বনি ইসরাইলের বাড়াবাড়ি তারাবিহ: ২ | নারীর মর্যাদা ও অধিকার এবং অলৌকিক তিন ঘটনা তারাবিহ: ৩ | যে ১৪ নারীকে বিয়ে করা হারাম তারাবিতে: ১২ | মহানবী (সা.)–এর আকাশভ্রমণ এবং আসহাবে কাহাফের কাহিনি

রেডমি নোট ৯ এর বিস্তারিত | Redmi Note 9 in Bangla

৩০ এপ্রিল, ২০২০ এ শাওমির ঘোষনা আসে এই ফোনটি নিয়ে। কিন্তু ফোনটি মার্কেটে আসে মে মাসের শেষের দিকে৷ করোনার কারনে ফোনটি বাংলাদেশে আসতে আরো সময় নেয়। বর্তমানে বাংলাদেশে আন অফিশিয়াল ভাবে ফোনটি পাওয়া যাচ্ছে৷ বাংলাদেশে অফিশিয়াল ভাবে এখনো ফোনটি আসার তথ্য নেয়৷ চলুন ফোনটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা যাক। শাওমি নোট সিরিজের ফোন বের করে এদের রেডমি নামে সাব ব্যান্ড৷ এদের কাজ হল এই নোট সিরিজ নিয়ে কাজ করা৷ প্রতিবছর নোট সিরিজের ১/২ টা ফোন বাজারে আসে। সাথে সেই ফোন গুলার বিভিন্ন ভার্সন (যেমন - র‍্যাম ও রমের ভিত্তিতে) বাজারে আসে। এই বছরও তারা রেডমি সিরিজের নোট ৯ বাজারে আনে। এই বছর হয়তো এই সিরিজের আরো ফোন বাজারে আসবে। ডিস্পলেঃ ফোনটির ডিসপ্লে সাইজ ৬.৫৩ ইঞ্চি। এতে আইপিএস এলসিডি ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে। এই ফোনের ডিসপ্লে প্রটেকশন হিসেবে আছে গরিলা গ্লাস ফাইভ। স্ক্রিন আর ফোনের বডির অনুপাত প্রায় ৮৩.৫%। এই ফোনের ডিসপ্লে ফুলএইচডি মানে ১০৮০পি। এই ডিস্পলের দৈর্ঘ্য ১৯.৫ একক এবং প্রস্থ হল ৯ একক। এত বড় ফোনের কারনে এই ফোনের পিপি আই ডেনসিটি ৩৯৫। যা একটু কম। প্লাটফর্মঃ এই ফোনের অপারেটিং সিস্টেম এন্ড্রয়েড ১০ এবং এর...