সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

এআই যুগে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ভবিষ্যৎ: ভয় নাকি সম্ভাবনা?

এই ভিডিওতে আমরা জানবো যে বর্তমানে যেভাবে এআই (AI) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শক্তিশালী হচ্ছে, তাতে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের ভবিষ্যৎ কী। অনেকে ভাবছেন এআই সব কোড লিখে দিলে প্রোগ্রামারদের চাকরি চলে যাবে। কিন্তু আসল সত্যটা একটু ভিন্ন। ভিডিওর বক্তা খুব সহজভাবে দেখিয়েছেন যে এআই আসলে আমাদের শত্রু নয়, বরং একটি শক্তিশালী টুল যা আমাদের কাজকে আরও দ্রুত এবং সহজ করে দেয়।

এআই কোডিংয়ের বাস্তব উদাহরণ এবং ডেমো

ভিডিও রেফারেন্স: [01:44]

এখানে Cursor নামের একটি এআই এডিটর ব্যবহার করে দেখানো হয়েছে কিভাবে খুব সহজে কোডিংয়ের বাগ (Bug) বা সমস্যা সমাধান করা যায়।

  • কী করা হয়েছে: একটি অ্যাপ্লিকেশন চালানোর সময় এরর (Error) দেখা দিলে, সেই এররের স্ক্রিনশট এবং এরর মেসেজ কপি করে এআই-কে বলা হলো "fix this"।

  • ফলাফল: এআই নিজে থেকেই পুরো কোড অ্যানালাইসিস করে ভুল খুঁজে বের করলো এবং তা ঠিক করার জন্য নতুন কোড লিখে দিলো। এমনকি ভয়েস কমান্ড (Voice Command) দিয়েও নতুন নতুন ফিচার যোগ করা সম্ভব হচ্ছে। [05:44]

সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা:

  • বাগ (Bug): সফটওয়্যারের ভেতর কোনো ভুল বা ত্রুটি যা কাজ করতে বাধা দেয়।

  • এআই এডিটর (AI Editor): এটি এক ধরণের সফটওয়্যার যেখানে আপনি কোড লেখেন এবং সেটি আপনাকে নিজে থেকে কোড লিখে বা ঠিক করে সাহায্য করে।


জেভনস প্যারাডক্স (Jevons Paradox) ও সফটওয়্যারের চাহিদা

ভিডিও রেফারেন্স: [06:24]

অনেকে ভাবেন এআই আসার ফলে কাজ কমে যাবে। কিন্তু এখানে "Jevons Paradox" নামের একটি অর্থনৈতিক ধারণার কথা বলা হয়েছে।

  • ধারণাটি কী: যখন কোনো জিনিসের ব্যবহার সহজ এবং সস্তা হয়ে যায়, তখন মানুষ সেটি আরও বেশি করে ব্যবহার করতে শুরু করে। যেমন- গাড়ি যখন বেশি জ্বালানি সাশ্রয়ী হলো, মানুষ গাড়ি চালানো কমানোর বদলে আরও বেশি চালানো শুরু করলো।

  • প্রভাব: একইভাবে, কোডিং সস্তা এবং দ্রুত হওয়ার কারণে এখন অনেক ছোট কোম্পানিও অ্যাপ বা ওয়েবসাইট বানাতে চাইবে। ফলে কাজের পরিমাণ কমবে না, বরং বহুগুণ বেড়ে যাবে। [08:55]


সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার থেকে 'বিল্ডার' (Builder) হয়ে ওঠা

ভিডিও রেফারেন্স: [11:17]

ভবিষ্যতে শুধু কোড লিখে আর টিকে থাকা যাবে না। এখনকার সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার (SDE) এবং প্রোডাক্ট ওনার (Product Owner) এই দুটি রোল মিলে একটি নতুন রোল তৈরি হচ্ছে, যাকে বলা হচ্ছে 'বিল্ডার'

  • বিল্ডারের কাজ: ৫০% টেকনিক্যাল বা কোডিং জ্ঞান এবং ৫০% বিজনেস বা কমিউনিকেশন স্কিল।

  • কেন প্রয়োজন: এআই কোড লিখে দিতে পারে, কিন্তু কাস্টমারের কী দরকার, কোন ফিচারটা ব্যবসার জন্য ভালো হবে—তা বোঝার জন্য মানুষের বুদ্ধিমত্তার প্রয়োজন। [12:43]

সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা:

  • অরকেস্ট্রেটর (Orchestrator): যিনি অনেকগুলো বাদ্যযন্ত্র একসাথে পরিচালনা করেন। এখানে ডেভেলপার হলো সেই ব্যক্তি যে এআই টুলগুলোকে পরিচালনা করে সঠিক ফলাফল বের করে আনে।

কোডিং ও এআই ফিচারের ব্যবহার (উদাহরণ)

ভিডিওতে সরাসরি কোডিং ফাইল দেখানো হয়েছে যেখানে Python এবং FastAPI ব্যবহার করা হয়েছে।

Python

# এটি একটি সাধারণ উদাহরণ যা এআই তৈরি করতে পারে
@app.get("/search")
def search_blogs(query: str):
    # এআই খুব দ্রুত এই লজিকটি ঠিক করে দিতে পারে
    return {"results": f"Searching for {query} in database"} 

ব্যাখ্যা: এই কোডটি দিয়ে একটি সার্চ অপশন তৈরি করা হয়েছে। এআই ব্যবহার করলে আপনি শুধু বলবেন "একটি সার্চ বার বানাও", আর এআই আপনার হয়ে এই পুরো ফরম্যাটটি লিখে দেবে। [06:03]


এআই কখন সবচেয়ে বেশি কাজে লাগে?

ভিডিও রেফারেন্স: [19:19]

১. লেগ্যাসি কোড (Legacy Code): অনেক পুরনো কোড যা কেউ বুঝতে পারছে না, এআই তা খুব সহজে বুঝিয়ে দিতে পারে। [19:34] ২. মাইগ্রেশন (Migration): এক প্রোগ্রামিং ভাষা থেকে অন্য ভাষায় কোড পরিবর্তন করার সময় এআই জাদুর মতো কাজ করে। ৩. প্রোটোটাইপ (Prototype): নতুন কোনো আইডিয়া টেস্ট করার জন্য খুব দ্রুত একটি সফটওয়্যার বানিয়ে ফেলতে এআই সেরা।


আমার বিশ্লেষণ এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

সারাংশ ও চিন্তাধারা: ভিডিওর মূল বার্তা হলো—ভয় পাওয়ার কিছু নেই, তবে পরিবর্তনের জন্য তৈরি থাকতে হবে। যারা শুধু কোড কপি-পেস্ট করতো, তাদের জন্য বিপদ আসতে পারে। কিন্তু যারা জানে এআই-কে কীভাবে সঠিকভাবে কমান্ড বা প্রম্পট (Prompt) দিতে হয়, তাদের চাহিদা অনেক বাড়বে।

বাস্তবতা ও পরামর্শ:

  • ভয় পাবেন না: এলন মাস্ক ১০ বছর আগে বলেছিলেন সব গাড়ি ড্রাইভারহীন হয়ে যাবে, কিন্তু আজও তা পুরোপুরি হয়নি। এআই সব কাজ দখল করতে আরও অনেক সময় নেবে। [16:38]

  • স্কিল বাড়ান: কোডিং শেখার পাশাপাশি বিজনেস বোঝা, কাস্টমারের সাথে কথা বলা এবং সফট স্কিল (Soft Skills) উন্নত করার ওপর জোর দিন।

  • এআই-কে সঙ্গী বানান: চ্যাটজিপিটি (ChatGPT), কারসর (Cursor) বা ক্লড (Claude) এর মতো টুলগুলো নিয়মিত ব্যবহার করা শুরু করুন।

বিকল্প ব্যবস্থা: যদি আপনি কোডিংয়ে ভয় পান, তবে আপনি এআই ইঞ্জিনিয়ার (AI Engineer) হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে পারেন যেখানে কাজ হবে এআই মডেলগুলোকে ট্রেন করা বা অ্যাপের সাথে যুক্ত করা।

ভবিষ্যৎ তাদেরই যারা এআই-এর সাথে তাল মিলিয়ে নিজেকে বদলে নিতে পারবে! [21:11]

[

Future of software engineering in AI era

codebasics · 73K views

](http://www.youtube.com/watch?v=a83mfwd_6nU)

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সিজ্জিন (Sijjin) vs ইল্লিয়িন (Illiyin) পার্থক্য Difference

Sijjin (سِجِّين) এবং Illiyin (عِلِّيِّين) —এ দুটি শব্দ কুরআনে এসেছে এবং দুটোই মানুষের আমলনামা সংরক্ষণ সম্পর্কিত স্থানকে নির্দেশ করে। ১. সিজ্জিন (Sijjin) সিজ্জিন হলো পাপীদের (কাফের, মুনাফিক ও দুরাচারীদের) আমলনামা সংরক্ষণের স্থান। এটি সাত তলদেশের নীচে এক কারাগার বা অন্ধকার জগতে অবস্থিত বলে উল্লেখ রয়েছে। সূরা আল-মুতাফফিফীন (৮৩:৭-৯) তে বলা হয়েছে: "كَلَّا إِنَّ كِتَابَ الْفُجَّارِ لَفِي سِجِّينٍ ۝ وَمَا أَدْرَاكَ مَا سِجِّينٌ ۝ كِتَابٌ مَرْقُومٌ" অর্থ: "না, পাপীদের আমলনামা সিজ্জিনে সংরক্ষিত। তুমি কি জানো, সিজ্জিন কী? এটি এক লিখিত দলিল।" সিজ্জিনকে একটি কারাগার, সংকীর্ণ স্থান, বা নিচের স্তরে অবস্থিত এক অন্ধকার দুনিয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। ২. ইল্লিয়িন (Illiyin) ইল্লিয়িন হলো সৎকর্মশীলদের (মুমিন ও নেককারদের) আমলনামা সংরক্ষণের স্থান । এটি সপ্তম আসমানের ওপরে সংরক্ষিত এক সম্মানিত স্থান। সূরা আল-মুতাফফিফীন (৮৩:১৮-২১) তে বলা হয়েছে: "كَلَّا إِنَّ كِتَابَ الْأَبْرَارِ لَفِي عِلِّيِّينَ ۝ وَمَا أَدْرَاكَ مَا عِلِّيُّونَ ۝ كِتَابٌ مَرْقُومٌ ۝ يَش...

তারাবিহ সমগ্র - প্রথম আলো

রামাদান ২০২৪ উপলক্ষে প্রথম আলোর নিয়মিত আয়োজন - খতমে তারাবিহ'র সূরা গুলো নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা'র লিংক  নিচে দেওয়া হলো।  লিংকে ক্লিক করলেই আপনাকে আলোচনা তে নিয়ে যাবে। তারাবিহ: ১ | একটি খুন ও গাভি নিয়ে বনি ইসরাইলের বাড়াবাড়ি তারাবিহ: ২ | নারীর মর্যাদা ও অধিকার এবং অলৌকিক তিন ঘটনা তারাবিহ: ৩ | যে ১৪ নারীকে বিয়ে করা হারাম তারাবিতে: ১২ | মহানবী (সা.)–এর আকাশভ্রমণ এবং আসহাবে কাহাফের কাহিনি

রেডমি নোট ৯ এর বিস্তারিত | Redmi Note 9 in Bangla

৩০ এপ্রিল, ২০২০ এ শাওমির ঘোষনা আসে এই ফোনটি নিয়ে। কিন্তু ফোনটি মার্কেটে আসে মে মাসের শেষের দিকে৷ করোনার কারনে ফোনটি বাংলাদেশে আসতে আরো সময় নেয়। বর্তমানে বাংলাদেশে আন অফিশিয়াল ভাবে ফোনটি পাওয়া যাচ্ছে৷ বাংলাদেশে অফিশিয়াল ভাবে এখনো ফোনটি আসার তথ্য নেয়৷ চলুন ফোনটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা যাক। শাওমি নোট সিরিজের ফোন বের করে এদের রেডমি নামে সাব ব্যান্ড৷ এদের কাজ হল এই নোট সিরিজ নিয়ে কাজ করা৷ প্রতিবছর নোট সিরিজের ১/২ টা ফোন বাজারে আসে। সাথে সেই ফোন গুলার বিভিন্ন ভার্সন (যেমন - র‍্যাম ও রমের ভিত্তিতে) বাজারে আসে। এই বছরও তারা রেডমি সিরিজের নোট ৯ বাজারে আনে। এই বছর হয়তো এই সিরিজের আরো ফোন বাজারে আসবে। ডিস্পলেঃ ফোনটির ডিসপ্লে সাইজ ৬.৫৩ ইঞ্চি। এতে আইপিএস এলসিডি ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে। এই ফোনের ডিসপ্লে প্রটেকশন হিসেবে আছে গরিলা গ্লাস ফাইভ। স্ক্রিন আর ফোনের বডির অনুপাত প্রায় ৮৩.৫%। এই ফোনের ডিসপ্লে ফুলএইচডি মানে ১০৮০পি। এই ডিস্পলের দৈর্ঘ্য ১৯.৫ একক এবং প্রস্থ হল ৯ একক। এত বড় ফোনের কারনে এই ফোনের পিপি আই ডেনসিটি ৩৯৫। যা একটু কম। প্লাটফর্মঃ এই ফোনের অপারেটিং সিস্টেম এন্ড্রয়েড ১০ এবং এর...