সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

২০২৬ সালে কোডিং ইন্টারভিউ এবং প্রোগ্রামিংয়ের ভবিষ্যৎ

২০২৬ সালে এসে কোডিং জগতটা বেশ বদলে গেছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI আসার পর অনেকের মনেই প্রশ্ন জেগেছে—এখনও কি কোডিং শেখা দরকার? ইন্টারভিউতে কি আগের মতোই কঠিন সব প্রশ্ন করা হয়? এই ভিডিওতে NeetCode-এর প্রতিষ্ঠাতা ২০২৬ সালের কোডিং ইন্টারভিউয়ের বাস্তবতা, AI-এর প্রভাব এবং টিকে থাকার উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।


Introduction (ভূমিকা)

এই কন্টেন্টটি মূলত ২০২৬ সালের টেক ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান অবস্থা নিয়ে। এখানে আলোচনা করা হয়েছে যে, AI আসার ফলে আমাদের কোডিং করার ধরণ বদলে গেলেও ইন্টারভিউতে DSA (Data Structures and Algorithms) এর গুরুত্ব কেন কমেনি। এছাড়াও একজন ভালো ডেভেলপার হওয়ার জন্য শুধু কোড লিখতে পারাটাই যথেষ্ট নয়, বরং কোড বুঝতে পারা এবং চিন্তা করার ক্ষমতা কতটা জরুরি, তা এখানে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।


২০২৬ সালে ইন্টারভিউয়ের বাস্তবতা: DSA কি মরে গেছে?

রেফারেন্স: [00:28]

অনেকে ভেবেছিলেন ২০২৬ সালের মধ্যে হয়তো DSA (Data Structures and Algorithms) আর লাগবে না। কিন্তু বাস্তবতা হলো Anthropic বা OpenAI-এর মতো বড় বড় কোম্পানিগুলো এখনও ইন্টারভিউতে DSA প্রশ্ন করছে।

  • বিবরণ: যদিও AI এখন অনেক কোড লিখে দিতে পারে, তবুও বড় কোম্পানিগুলো দেখতে চায় আপনার লজিক বা চিন্তাভাবনা কতটা পরিষ্কার। Meta-র মতো কোম্পানিগুলো এখন AI-assisted coding interview নিচ্ছে। এর মানে হলো, আপনি ইন্টারভিউতে AI টুল ব্যবহার করতে পারবেন, কিন্তু এতে আপনার জন্য চ্যালেঞ্জ আরও বেড়ে গেছে। কারণ এখন ইন্টারভিউয়াররা আপনার কাছে আরও নিখুঁত এবং উন্নত মানের কোড আশা করেন।

  • সহজ ব্যাখ্যা: DSA হলো কম্পিউটারের কোনো কাজ কত দ্রুত এবং কম মেমরি খরচ করে করা যায় তার গাণিতিক নিয়ম।

  • আমার চিন্তাভাবনা: লিকুইড ক্যালকুলেটর থাকলেও যেমন আমাদের যোগ-বিয়োগ শিখতে হয় মাথা খাটিয়ে দ্রুত হিসাব করার জন্য, তেমনি AI থাকলেও লজিক বোঝার জন্য DSA শেখাটা এখনো জরুরি।


কোড বুঝতে পারার গুরুত্ব: একটি বাস্তব অভিজ্ঞতা

রেফারেন্স: [07:12]

ভিডিওর বক্তা তার নিজের একটি অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। তিনি একজনকে হায়ার করেছিলেন যার ২ বছরের অভিজ্ঞতা ছিল। কিন্তু সেই ডেভেলপার AI দিয়ে কোড লিখে জমা দিলেও সেটি ঠিকমতো কাজ করছিল না।

  • বিবরণ: ওই ডেভেলপার AI-এর সাহায্য নিয়ে কোড লিখেছিলেন কিন্তু নিজে সেই কোডটি পড়ে দেখেননি। ফলে তিনি অজান্তেই আগের অনেক দরকারি কোড ডিলিট করে ফেলেছিলেন এবং কোডে অনেক ভুল রেখেছিলেন। শেষ পর্যন্ত তাকে চাকরি থেকে বাদ দিতে হয়।

  • সহজ ব্যাখ্যা: Pull Request (PR) হলো যখন একজন ডেভেলপার তার করা কাজ মূল প্রজেক্টে যুক্ত করার জন্য অনুরোধ পাঠান। Merge Conflict হলো যখন একই জায়গায় দুইজন আলাদা কোড লিখে ফেলেন এবং কম্পিউটার বুঝতে পারে না কোনটি রাখবে।

  • আমার চিন্তাভাবনা: আপনি যদি অন্যের (বা AI-এর) লেখা কোড পড়ে বুঝতে না পারেন, তবে আপনি কখনোই একজন দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার হতে পারবেন না। AI আপনার সহকারী হতে পারে, কিন্তু আপনার বিকল্প নয়।


একজন দক্ষ ডেভেলপারের 'মেন্টাল চেকলিস্ট'

রেফারেন্স: [10:57]

একজন ভালো প্রোগ্রামার যখন কোড লিখেন, তার মাথায় সবসময় কিছু বিষয় কাজ করে। বক্তা একে একটি চেকলিস্টের সাথে তুলনা করেছেন।

  • বিবরণ: কোড রান করার আগে আপনাকে নিজেকে কিছু প্রশ্ন করতে হবে:

    1. আমি কি সঠিক সমস্যার সমাধান করছি? (Correctness)

    2. কোডটি কি দ্রুত কাজ করবে? (Performance)

    3. ভবিষ্যতে অন্য কেউ কি এই কোড সহজে বুঝতে পারবে? (Maintainability)

  • সহজ ব্যাখ্যা: Edge Case মানে হলো এমন কিছু অস্বাভাবিক পরিস্থিতি যা সাধারণত ঘটে না, কিন্তু ঘটলে কোড ক্রাশ করতে পারে (যেমন: ইউজার নামের বদলে খালি ঘর রাখলে কী হবে)।

  • আমার চিন্তাভাবনা: কোড কপি-পেস্ট করা সহজ, কিন্তু সেই কোডের দায়ভার নেওয়া কঠিন। এই চেকলিস্ট মেনে চললে কোডের মান অনেক বেড়ে যায়।


কোডিং উদাহরণ এবং NeetCode-এর নতুন ফিচার

রেফারেন্স: [18:22]

ভিডিওতে একটি ছোট বাগ (Bug) বা ভুল কোড ঠিক করার উদাহরণ দেখানো হয়েছে।

Python

# ভুল কোড (Buggy Code)
for i in range(len(nums)):
    for j in range(i, len(nums)): # এখানে ভুল, j শুরু হওয়া উচিত i+1 থেকে
        if nums[i] == nums[j]:
            return True 

ব্যাখ্যা: এই কোডটি একটি লিস্টে ডুপ্লিকেট সংখ্যা আছে কিনা তা চেক করে। কিন্তু j কে i থেকে শুরু করলে এটি একই সংখ্যাকে নিজের সাথে তুলনা করে সবসময় 'True' দেখাবে।

Python

# সঠিক কোড (Corrected Code)
for i in range(len(nums)):
    for j in range(i + 1, len(nums)): # i+1 থেকে শুরু করলে পরের সংখ্যাগুলোর সাথে চেক হবে
        if nums[i] == nums[j]:
            return True 

অ্যাচিভমেন্ট: এই ছোট পরিবর্তনের মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত করলাম যে লুপটি নিজেকে নিজে চেক করছে না, বরং তার পরের এলিমেন্টগুলোর সাথে তুলনা করছে। NeetCode সাইটে এখন AI দিয়ে এমন ভুলের Hint বা সংকেত পাওয়া যায় যা শেখার প্রক্রিয়াকে সহজ করে দেয়।


এনালাইসিস এবং চূড়ান্ত মতামত

বক্তা যা বোঝাতে চেয়েছেন: ২০২৬ সালেও "চিন্তা করার ক্ষমতা" বা Thinking Skill সবচেয়ে মূল্যবান। প্রযুক্তির পরিবর্তন হবেই, কিন্তু ফান্ডামেন্টাল বা মূল ভিত্তি (যেমন DSA, লজিক, প্রবলেম সলভিং) অপরিবর্তিত থাকবে। AI টুলগুলো আপনাকে দ্রুত কাজ করতে সাহায্য করবে, কিন্তু সেগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আপনার নিজস্ব জ্ঞান প্রয়োজন।

বাস্তবতা ও সম্ভাবনা: ১. AI ইন্টারভিউ: ভবিষ্যতে ইন্টারভিউতে ক্যালকুলেটরের মতো AI টুল ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে, কিন্তু প্রশ্নগুলো হবে আরও জটিল এবং আর্কিটেকচার নির্ভর। ২. বিকল্প পথ: শুধু কোড লিখতে পারা এখন আর বড় কোনো গুণ নয়। সিস্টেম ডিজাইন এবং বড় প্রজেক্ট মেইনটেইন করার দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

পরামর্শ:

  • AI ব্যবহার করুন, কিন্তু অন্ধভাবে নয়। কোড কপি করার আগে প্রতিটি লাইন বুঝে নিন।

  • DSA শেখা বাদ দেবেন না, কারণ বড় কোম্পানিগুলো এখনও এটিকেই মেধা যাচাইয়ের মাপকাঠি হিসেবে দেখে।

  • শিখার জন্য NeetCode-এর মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে পারেন যা এখন স্টাডি প্ল্যান তৈরি করে দিতে পারে।

সহজ কথায়: যন্ত্র (AI) থাকলেও ড্রাইভার (ডেভেলপার) কে হতে হবে দক্ষ এবং সচেতন। [HH:MM:SS] format-এ ভিডিওর টাইমস্ট্যাম্পগুলো চেক করে আপনি সরাসরি ওই অংশগুলো দেখে নিতে পারেন।

[

Coding Interviews in 2026

NeetCode · 179K views

](http://www.youtube.com/watch?v=eTY2Lwnd2fI)

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সিজ্জিন (Sijjin) vs ইল্লিয়িন (Illiyin) পার্থক্য Difference

Sijjin (سِجِّين) এবং Illiyin (عِلِّيِّين) —এ দুটি শব্দ কুরআনে এসেছে এবং দুটোই মানুষের আমলনামা সংরক্ষণ সম্পর্কিত স্থানকে নির্দেশ করে। ১. সিজ্জিন (Sijjin) সিজ্জিন হলো পাপীদের (কাফের, মুনাফিক ও দুরাচারীদের) আমলনামা সংরক্ষণের স্থান। এটি সাত তলদেশের নীচে এক কারাগার বা অন্ধকার জগতে অবস্থিত বলে উল্লেখ রয়েছে। সূরা আল-মুতাফফিফীন (৮৩:৭-৯) তে বলা হয়েছে: "كَلَّا إِنَّ كِتَابَ الْفُجَّارِ لَفِي سِجِّينٍ ۝ وَمَا أَدْرَاكَ مَا سِجِّينٌ ۝ كِتَابٌ مَرْقُومٌ" অর্থ: "না, পাপীদের আমলনামা সিজ্জিনে সংরক্ষিত। তুমি কি জানো, সিজ্জিন কী? এটি এক লিখিত দলিল।" সিজ্জিনকে একটি কারাগার, সংকীর্ণ স্থান, বা নিচের স্তরে অবস্থিত এক অন্ধকার দুনিয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। ২. ইল্লিয়িন (Illiyin) ইল্লিয়িন হলো সৎকর্মশীলদের (মুমিন ও নেককারদের) আমলনামা সংরক্ষণের স্থান । এটি সপ্তম আসমানের ওপরে সংরক্ষিত এক সম্মানিত স্থান। সূরা আল-মুতাফফিফীন (৮৩:১৮-২১) তে বলা হয়েছে: "كَلَّا إِنَّ كِتَابَ الْأَبْرَارِ لَفِي عِلِّيِّينَ ۝ وَمَا أَدْرَاكَ مَا عِلِّيُّونَ ۝ كِتَابٌ مَرْقُومٌ ۝ يَش...

তারাবিহ সমগ্র - প্রথম আলো

রামাদান ২০২৪ উপলক্ষে প্রথম আলোর নিয়মিত আয়োজন - খতমে তারাবিহ'র সূরা গুলো নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা'র লিংক  নিচে দেওয়া হলো।  লিংকে ক্লিক করলেই আপনাকে আলোচনা তে নিয়ে যাবে। তারাবিহ: ১ | একটি খুন ও গাভি নিয়ে বনি ইসরাইলের বাড়াবাড়ি তারাবিহ: ২ | নারীর মর্যাদা ও অধিকার এবং অলৌকিক তিন ঘটনা তারাবিহ: ৩ | যে ১৪ নারীকে বিয়ে করা হারাম তারাবিতে: ১২ | মহানবী (সা.)–এর আকাশভ্রমণ এবং আসহাবে কাহাফের কাহিনি

রেডমি নোট ৯ এর বিস্তারিত | Redmi Note 9 in Bangla

৩০ এপ্রিল, ২০২০ এ শাওমির ঘোষনা আসে এই ফোনটি নিয়ে। কিন্তু ফোনটি মার্কেটে আসে মে মাসের শেষের দিকে৷ করোনার কারনে ফোনটি বাংলাদেশে আসতে আরো সময় নেয়। বর্তমানে বাংলাদেশে আন অফিশিয়াল ভাবে ফোনটি পাওয়া যাচ্ছে৷ বাংলাদেশে অফিশিয়াল ভাবে এখনো ফোনটি আসার তথ্য নেয়৷ চলুন ফোনটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা যাক। শাওমি নোট সিরিজের ফোন বের করে এদের রেডমি নামে সাব ব্যান্ড৷ এদের কাজ হল এই নোট সিরিজ নিয়ে কাজ করা৷ প্রতিবছর নোট সিরিজের ১/২ টা ফোন বাজারে আসে। সাথে সেই ফোন গুলার বিভিন্ন ভার্সন (যেমন - র‍্যাম ও রমের ভিত্তিতে) বাজারে আসে। এই বছরও তারা রেডমি সিরিজের নোট ৯ বাজারে আনে। এই বছর হয়তো এই সিরিজের আরো ফোন বাজারে আসবে। ডিস্পলেঃ ফোনটির ডিসপ্লে সাইজ ৬.৫৩ ইঞ্চি। এতে আইপিএস এলসিডি ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে। এই ফোনের ডিসপ্লে প্রটেকশন হিসেবে আছে গরিলা গ্লাস ফাইভ। স্ক্রিন আর ফোনের বডির অনুপাত প্রায় ৮৩.৫%। এই ফোনের ডিসপ্লে ফুলএইচডি মানে ১০৮০পি। এই ডিস্পলের দৈর্ঘ্য ১৯.৫ একক এবং প্রস্থ হল ৯ একক। এত বড় ফোনের কারনে এই ফোনের পিপি আই ডেনসিটি ৩৯৫। যা একটু কম। প্লাটফর্মঃ এই ফোনের অপারেটিং সিস্টেম এন্ড্রয়েড ১০ এবং এর...