সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

সূরা আদ-দুখান-এর প্রথম ও দ্বিতীয় রুকুর সহজ তাফসির

Introduction

এই ভিডিওতে মুফতি তারিক মাসুদ সূরা আদ-দুখান-এর প্রথম ও দ্বিতীয় রুকু (২৫তম পারার ১৪ ও ১৫ নম্বর রুকু) নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তিনি অত্যন্ত সহজ ভাষায় পবিত্র কুরআনের এই আয়াতগুলোর অনুবাদ ও ব্যাখ্যা করেছেন। আলোচনার মূল বিষয়বস্তু হলো কুরআনের অবতরণ, কদরের রাতের গুরুত্ব, তাকদির বা ভাগ্য, ফেরাউনের কাহিনী এবং মৃত্যুর পরের জীবন বা আখেরাত। যারা ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো এবং কুরআনের বার্তার গভীরতা সহজভাবে বুঝতে চান, তাদের জন্য এই আলোচনাটি অনেক বেশি কার্যকর।


প্রথম অংশ: কুরআনের অবতরণ ও বরকতময় রাত

এই অংশে মুফতি সাহেব আলোচনা শুরু করেছেন সূরা আদ-দুখান-এর শুরুর আয়াতগুলো নিয়ে, যেখানে আল্লাহ কসম খেয়ে কুরআনের সত্যতা বর্ণনা করেছেন।

ভিডিও রেফারেন্স: [00:20]

বিস্তারিত আলোচনা: আল্লাহ তাআলা কসম খেয়ে বলেছেন যে, তিনি এই কুরআনকে একটি "বরকতময় রাতে" নাযিল করেছেন। এই বরকতময় রাত বলতে মুফতি সাহেব লাইলাতুল কদর-কে বুঝিয়েছেন। যদিও কেউ কেউ একে শবে বরাত বা ১৫ই শাবান মনে করেন, তবে শক্তিশালী মত হলো এটি কদরের রাত।

  • কুরআন কেন নাযিল হলো? আল্লাহ আমাদের সতর্ক করার জন্য এটি পাঠিয়েছেন। মানুষ যখন অন্যায়, জুলুম এবং পাপে ডুবে গিয়েছিল, তখন আল্লাহ কুরআন পাঠিয়ে মানুষকে সাবধান করেছেন যে, একদিন তাদের সব কাজের হিসাব দিতে হবে।

  • তাকদির ও ফেরেশতাদের দায়িত্ব: এই রাতে সারা বছরের ভাগ্য বা সিদ্ধান্তের ফাইলগুলো ফেরেশতাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কে জন্মাবে, কে মারা যাবে, কার রিজিক কেমন হবে—সবই এই রাতে নির্ধারিত হয়।

সহজ ব্যাখ্যা (Difficult Words):

  • খায়রে কাসীর (বরকত): কোনো ছোট জিনিসে অনেক বেশি কল্যাণ থাকা। যেমন অল্প খাবারে অনেকের পেট ভরে যাওয়া।

  • তাকদিরে মুয়াল্লাক: এমন ভাগ্য যা দোয়া বা আমলের মাধ্যমে পরিবর্তন হতে পারে।

  • তাকদিরে মুবরাম: যা একদম অটল, যা কখনো পরিবর্তন হয় না।


দ্বিতীয় অংশ: কুরাইশদের জন্য সতর্কতা ও ধোঁয়ার আযাব

এখানে মক্কার কাফেরদের অবাধ্যতা এবং তাদের ওপর আসা একটি বিশেষ বিপদের কথা বলা হয়েছে।

ভিডিও রেফারেন্স: [13:49]

বিস্তারিত আলোচনা: আল্লাহ বলেছেন একসময় আকাশ থেকে স্পষ্ট ধোঁয়া (দুখান) আসবে যা মানুষকে ঘিরে ফেলবে। মুফতি সাহেব ব্যাখ্যা করেছেন যে, এটি মক্কার সেই দুর্ভিক্ষের সময়কে বোঝায় যখন ক্ষুধার জ্বালায় মানুষের চোখের সামনে ধোঁয়াটে অন্ধকার লাগত।

  • কাফেরদের ভণ্ডামি: যখন বিপদ আসত, কাফেররা বলত, "হে আল্লাহ! আমাদের বাঁচাও, আমরা ঈমান আনব।" কিন্তু বিপদ কেটে গেলেই তারা আবার আগের মতো খারাপ হয়ে যেত।

  • রাসূলের (সা.) মোজেজা: রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র চরিত্র এবং সত্যবাদিতা দেখার পরও যারা বিশ্বাস করেনি, তারা বিপদে পড়ে সাময়িক কান্নাকাটি করলেও পরে আবার অস্বীকার করত।

সহজ ব্যাখ্যা (Difficult Words):

  • দুখানে মুবীন: স্পষ্ট ধোঁয়া বা কুয়াশা। এখানে বিপদ বা বড় কোনো মুসিবত বোঝানো হয়েছে।

তৃতীয় অংশ: ফেরাউন ও বনী ইসরাঈলের কাহিনী

আল্লাহ তাআলা ফেরাউনের অহংকার এবং তার করুণ পরিণতির কথা এই অংশে মনে করিয়ে দিয়েছেন।

ভিডিও রেফারেন্স: [20:22]

বিস্তারিত আলোচনা: ফেরাউন ছিল একজন প্রচণ্ড অহংকারী ও জালেম শাসক। সে বনী ইসরাঈলদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন করত। হযরত মুসা (আ.) যখন তাকে আল্লাহর দাওয়াত দিলেন, সে তা অস্বীকার করল।

  • সমুদ্রে ডুবে মরা: আল্লাহ মুসা (আ.)-কে নির্দেশ দিলেন বনী ইসরাঈলদের নিয়ে রাতে বেরিয়ে যেতে। সমুদ্রের মাঝখান দিয়ে আল্লাহ রাস্তা বানিয়ে দিলেন। মুসা (আ.) পার হয়ে যাওয়ার পর ফেরাউন যখন সেই রাস্তা দিয়ে আসতে চাইল, আল্লাহ তাকে লস্করসহ ডুবিয়ে মারলেন।

  • সবই রয়ে গেল: ফেরাউনের বিশাল প্রাসাদ, বাগান, ধন-সম্পদ—সব পড়ে রইল দুনিয়াতে, কিন্তু সে কিছুই নিয়ে যেতে পারল না। তার মৃত্যুতে আসমান-জমিন কেউ কাঁদেনি।

সহজ ব্যাখ্যা (Difficult Words):

  • মুসরিফীন: যারা সীমা লঙ্ঘন করে বা অপচয় ও অহংকার করে।

  • কারীম: সম্মানিত। আল্লাহ হযরত মুসা (আ.)-কে 'কারীম' বলেছেন কারণ তিনি আল্লাহর কাছে অত্যন্ত মর্যাদাবান ছিলেন।


চতুর্থ অংশ: আখেরাত ও পুনরুত্থানের প্রমাণ

শেষ রুকুতে মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত হওয়া এবং কিয়ামতের দিনের ভয়াবহতা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

ভিডিও রেফারেন্স: [33:58]

বিস্তারিত আলোচনা: মক্কার কাফেররা দাবি করত যে, একবার মরে গেলে আর কোনোদিন জিন্দা হওয়া সম্ভব নয়। তারা উপহাস করে বলত, "পারলে আমাদের বাপ-দাদাদের জিন্দা করে দেখাও।"

  • আল্লাহর যুক্তি: আল্লাহ বলেছেন, এই বিশাল আসমান ও জমিন কি এমনি এমনি বা কোনো খেলার ছলে বানানো হয়েছে? কখনোই না। এটি একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে বানানো হয়েছে।

  • ফয়সালার দিন: কিয়ামতের দিন সবার আমলের হিসাব নেওয়া হবে। সেদিন কোনো বন্ধু বন্ধুর কাজে আসবে না। শুধু আল্লাহ যাদের ওপর রহমত করবেন, তারাই মুক্তি পাবে।


বিশ্লেষণ ও লেখকের চিন্তাভাবনা

এই ভিডিওর মাধ্যমে মুফতি তারিক মাসুদ আমাদের এই বাস্তব সত্যটি বোঝাতে চেয়েছেন যে: ১. দুনিয়া চিরস্থায়ী নয়: ফেরাউনের মতো প্রতাপশালী রাজা যদি সব ছেড়ে শূন্য হাতে চলে যেতে পারে, তবে আমাদেরও একদিন সব ছাড়তে হবে। ২. তাকদির ও আমল: ভাগ্য আল্লাহর হাতে হলেও আমাদের উচিত ভালো আমল ও দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর রহমত প্রার্থনা করা, বিশেষ করে বরকতময় রাতগুলোতে। ৩. আখেরাতের প্রস্তুতি: দুনিয়াটা কোনো খেলার জায়গা নয়। আমরা যা করছি, প্রতিটি কাজের হিসাব দিতে হবে। মৃত্যুর পর জীবনই আসল জীবন।

পরামর্শ: আমাদের উচিত কুরআনকে নিছক সওয়াবের জন্য না পড়ে এর অর্থ ও শিক্ষা বোঝার চেষ্টা করা। মুফতি সাহেবের এই সহজ ব্যাখ্যা সাধারণ মানুষের জন্য দ্বীন বোঝা অনেক সহজ করে দিয়েছে। আমাদের উচিত অহংকার ত্যাগ করে এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে জীবন অতিবাহিত করা।

রেফারেন্স ভিডিও লিংক: Tafseer-e-Quran Class # 510

[

Tafseer-e-Quran Class # 510 Surah Ad-Dukhan Ruko # 1/2 | Mufti Tariq Masood Speeches

Mufti Tariq Masood Speeches · 14K views

](http://www.youtube.com/watch?v=KpkMvvkjg10)

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সিজ্জিন (Sijjin) vs ইল্লিয়িন (Illiyin) পার্থক্য Difference

Sijjin (سِجِّين) এবং Illiyin (عِلِّيِّين) —এ দুটি শব্দ কুরআনে এসেছে এবং দুটোই মানুষের আমলনামা সংরক্ষণ সম্পর্কিত স্থানকে নির্দেশ করে। ১. সিজ্জিন (Sijjin) সিজ্জিন হলো পাপীদের (কাফের, মুনাফিক ও দুরাচারীদের) আমলনামা সংরক্ষণের স্থান। এটি সাত তলদেশের নীচে এক কারাগার বা অন্ধকার জগতে অবস্থিত বলে উল্লেখ রয়েছে। সূরা আল-মুতাফফিফীন (৮৩:৭-৯) তে বলা হয়েছে: "كَلَّا إِنَّ كِتَابَ الْفُجَّارِ لَفِي سِجِّينٍ ۝ وَمَا أَدْرَاكَ مَا سِجِّينٌ ۝ كِتَابٌ مَرْقُومٌ" অর্থ: "না, পাপীদের আমলনামা সিজ্জিনে সংরক্ষিত। তুমি কি জানো, সিজ্জিন কী? এটি এক লিখিত দলিল।" সিজ্জিনকে একটি কারাগার, সংকীর্ণ স্থান, বা নিচের স্তরে অবস্থিত এক অন্ধকার দুনিয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। ২. ইল্লিয়িন (Illiyin) ইল্লিয়িন হলো সৎকর্মশীলদের (মুমিন ও নেককারদের) আমলনামা সংরক্ষণের স্থান । এটি সপ্তম আসমানের ওপরে সংরক্ষিত এক সম্মানিত স্থান। সূরা আল-মুতাফফিফীন (৮৩:১৮-২১) তে বলা হয়েছে: "كَلَّا إِنَّ كِتَابَ الْأَبْرَارِ لَفِي عِلِّيِّينَ ۝ وَمَا أَدْرَاكَ مَا عِلِّيُّونَ ۝ كِتَابٌ مَرْقُومٌ ۝ يَش...

তারাবিহ সমগ্র - প্রথম আলো

রামাদান ২০২৪ উপলক্ষে প্রথম আলোর নিয়মিত আয়োজন - খতমে তারাবিহ'র সূরা গুলো নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা'র লিংক  নিচে দেওয়া হলো।  লিংকে ক্লিক করলেই আপনাকে আলোচনা তে নিয়ে যাবে। তারাবিহ: ১ | একটি খুন ও গাভি নিয়ে বনি ইসরাইলের বাড়াবাড়ি তারাবিহ: ২ | নারীর মর্যাদা ও অধিকার এবং অলৌকিক তিন ঘটনা তারাবিহ: ৩ | যে ১৪ নারীকে বিয়ে করা হারাম তারাবিতে: ১২ | মহানবী (সা.)–এর আকাশভ্রমণ এবং আসহাবে কাহাফের কাহিনি

রেডমি নোট ৯ এর বিস্তারিত | Redmi Note 9 in Bangla

৩০ এপ্রিল, ২০২০ এ শাওমির ঘোষনা আসে এই ফোনটি নিয়ে। কিন্তু ফোনটি মার্কেটে আসে মে মাসের শেষের দিকে৷ করোনার কারনে ফোনটি বাংলাদেশে আসতে আরো সময় নেয়। বর্তমানে বাংলাদেশে আন অফিশিয়াল ভাবে ফোনটি পাওয়া যাচ্ছে৷ বাংলাদেশে অফিশিয়াল ভাবে এখনো ফোনটি আসার তথ্য নেয়৷ চলুন ফোনটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা যাক। শাওমি নোট সিরিজের ফোন বের করে এদের রেডমি নামে সাব ব্যান্ড৷ এদের কাজ হল এই নোট সিরিজ নিয়ে কাজ করা৷ প্রতিবছর নোট সিরিজের ১/২ টা ফোন বাজারে আসে। সাথে সেই ফোন গুলার বিভিন্ন ভার্সন (যেমন - র‍্যাম ও রমের ভিত্তিতে) বাজারে আসে। এই বছরও তারা রেডমি সিরিজের নোট ৯ বাজারে আনে। এই বছর হয়তো এই সিরিজের আরো ফোন বাজারে আসবে। ডিস্পলেঃ ফোনটির ডিসপ্লে সাইজ ৬.৫৩ ইঞ্চি। এতে আইপিএস এলসিডি ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে। এই ফোনের ডিসপ্লে প্রটেকশন হিসেবে আছে গরিলা গ্লাস ফাইভ। স্ক্রিন আর ফোনের বডির অনুপাত প্রায় ৮৩.৫%। এই ফোনের ডিসপ্লে ফুলএইচডি মানে ১০৮০পি। এই ডিস্পলের দৈর্ঘ্য ১৯.৫ একক এবং প্রস্থ হল ৯ একক। এত বড় ফোনের কারনে এই ফোনের পিপি আই ডেনসিটি ৩৯৫। যা একটু কম। প্লাটফর্মঃ এই ফোনের অপারেটিং সিস্টেম এন্ড্রয়েড ১০ এবং এর...