সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

সূরা আদ-দুখান: পবিত্র কুরআনের মহিমা ও সতর্কবাণী

Introduction

সুরা আদ-দুখান পবিত্র কুরআনের ৪৪তম সূরা। এই ভিডিওতে ১ থেকে ১৬ নম্বর আয়াতের সহজ ব্যাখ্যা বা তাফসীর তুলে ধরা হয়েছে। 'দুখান' শব্দের অর্থ হলো 'ধোঁয়া'। কিয়ামতের আগে বা মক্কার কাফিরদের ওপর আসা দুর্ভিক্ষের সময় আকাশে যে ধোঁয়া দেখা গিয়েছিল, তার নামেই এই সূরার নামকরণ করা হয়েছে। ভিডিওটিতে মূলত কুরআনের অবতীর্ণ হওয়া, লাইলাতুল কদর এবং পরকালের শাস্তি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।


পার্ট ১: সূরা আদ-দুখানের শুরুর গুরুত্ব ও শপথ

ভিডিওতে সূরার শুরুর আয়াতগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। রেফারেন্স: [০০:০০:১৬]

বিস্তারিত আলোচনা: এই সূরাটি 'হা-মীম' দিয়ে শুরু হয়েছে, যা কুরআনের রহস্যময় হরফগুলোর একটি। আল্লাহ তায়ালা এখানে 'পরিষ্কার কিতাব' অর্থাৎ কুরআনের কসম খেয়েছেন। এর মাধ্যমে কুরআনের সত্যতা ও মহিমাকে তুলে ধরা হয়েছে।

  • সহজ ব্যাখ্যা: 'হা-মীম' এর মতো শব্দগুলোকে 'হরুফে মুকাত্তাআত' বলা হয়, যার সঠিক অর্থ একমাত্র আল্লাহই জানেন। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে আল্লাহর জ্ঞানের কোনো শেষ নেই।

পার্ট ২: বরকতময় রাত ও কুরআন অবতীর্ণ হওয়া

কুরআন কখন এবং কীভাবে নাযিল হয়েছে, তা নিয়ে এখানে বিস্তারিত বলা হয়েছে। রেফারেন্স: [০০:০৩:৪৪]

বিস্তারিত আলোচনা: আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনকে একটি 'বরকতময় রাতে' (লাইলাতুল কদর) নাযিল করেছেন। এই রাতে সারা বছরের মানুষের হায়াত, মউত এবং রিজিকের ফয়সালা ফেরেশতাদের হাতে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

  • একবারে নাযিল হওয়া: ভিডিওতে বলা হয়েছে, লওহে মাহফুজ থেকে দুনিয়ার আসমানে কুরআন একবারে নাযিল হয়েছিল এই রাতে। এরপর ২৩ বছর ধরে নবীজির (সা.) ওপর অল্প অল্প করে তা এসেছে।

  • কঠিন শব্দ: লওহে মাহফুজ (Preserved Tablet) - এটি এমন একটি জায়গা যেখানে সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সবকিছুর তথ্য সংরক্ষিত আছে। একে 'সংরক্ষিত ফলক' বলা যেতে পারে।


পার্ট ৩: দুখান বা ধোঁয়ার রহস্য

সূরার মূল বিষয় অর্থাৎ 'ধোঁয়া' নিয়ে দুটি ভিন্ন মত আলোচনা করা হয়েছে। রেফারেন্স: [০০:০৮:৩৯]

বিস্তারিত আলোচনা: ১. কিয়ামতের আলামত: একদল বিশেষজ্ঞ মনে করেন, কিয়ামতের আগে আকাশ ধোঁয়ায় ভরে যাবে, যা অবিশ্বাসীদের জন্য হবে এক যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। ২. মক্কার দুর্ভিক্ষ: অন্য এক মত অনুযায়ী, নবীজির (সা.) সময়ে মক্কার কাফিররা যখন ইসলাম মানতে অস্বীকার করে, তখন এক ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ হয়েছিল। ক্ষুধার চোটে তারা আকাশে ধোঁয়ার মতো ঝাপসা দেখতে পেত।

  • আমার ভাবনা: এটি আমাদের শিক্ষা দেয় যে আল্লাহর অবাধ্য হলে প্রকৃতিও আমাদের বিরুদ্ধে চলে যেতে পারে। তাই সময় থাকতেই সঠিক পথে আসা জরুরি।

পার্ট ৪: তওবা ও মানুষের জেদ

শাস্তি দেখে মানুষের মানসিকতা কেমন হয়, তা এখানে ফুটে উঠেছে। রেফারেন্স: [০০:১১:২০]

বিস্তারিত আলোচনা: যখন কোনো বিপদ বা শাস্তি আসে, তখন অবিশ্বাসীরা বলে, "হে আল্লাহ! আমাদের এই কষ্ট দূর করে দাও, আমরা বিশ্বাস স্থাপন করব।" কিন্তু আল্লাহ জানেন, কষ্ট দূর হয়ে গেলে তারা আবার আগের মতোই অবাধ্য হয়ে যাবে।

  • সহজ ব্যাখ্যা: মানুষ বিপদে পড়লে আল্লাহকে ডাকে, কিন্তু বিপদ কাটলে আবার সব ভুলে যায়। ভিডিওতে সতর্ক করা হয়েছে যেন আমরা এই ভুল না করি।

পার্ট ৫: চরম পাকড়াও বা বদরের যুদ্ধ

অবিশ্বাসীদের জন্য আল্লাহর চূড়ান্ত ফয়সালা নিয়ে এই অংশটি। রেফারেন্স: [০০:১৭:১৬]

বিস্তারিত আলোচনা: আল্লাহ বলেছেন তিনি বড় ধরনের 'পাকড়াও' করবেন। এর দুটি অর্থ হতে পারে: ১. কিয়ামত: কিয়ামতের দিনের কঠিন বিচার। ২. বদরের যুদ্ধ: যেখানে মক্কার প্রভাবশালী কাফিররা পরাজিত ও ধ্বংস হয়েছিল।

  • কঠিন শব্দ: ইন্তিকাম (Retribution) - এর মানে হলো ন্যায়বিচার বা প্রতিশোধ। অর্থাৎ কেউ অন্যায় করলে তার উপযুক্ত প্রতিদান পাওয়া।

বিশ্লেষণ ও শেষ কথা

এই কন্টেন্ট থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, কুরআন কেবল একটি বই নয়, এটি আমাদের জীবনের জন্য একটি সতর্কবার্তা। সৃষ্টিকর্তা আমাদের বারবার সুযোগ দেন যেন আমরা নিজেদের সংশোধন করি।

বাস্তবতা ও সম্ভাবনা: ভিডিওটির মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষকে 'বর্তমান সময়ে' ভালো কাজ করতে উৎসাহিত করা। আমরা প্রায়ই ভাবি "বুড়ো হলে ইবাদত করব" বা "বিপদ আসুক তারপর দেখা যাবে"। কিন্তু ভিডিওতে বলা হয়েছে, কিয়ামতের বড় আলামতগুলো (যেমন: ধোঁয়া, দাজ্জাল, সূর্য পশ্চিম দিকে ওঠা) শুরু হয়ে গেলে আর তওবা কবুল হবে না।

পরামর্শ: ১. প্রতিদিন অন্তত অল্প সময় হলেও কুরআনের অর্থ বোঝার চেষ্টা করা উচিত। ২. ভিডিওতে যেমন বলা হয়েছে, কোনো কঠিন পরিস্থিতির জন্য অপেক্ষা না করে আজ থেকেই ছোট ছোট ভালো কাজ শুরু করা দরকার। ৩. সূরা আদ-দুখানের এই তাফসীর আমাদের পরকাল সম্পর্কে সচেতন করে তোলে, যা বর্তমানের অস্থির সময়ে মানসিকভাবে শান্ত থাকতে সাহায্য করে।

ইউটিউব ভিডিও লিঙ্ক: https://www.youtube.com/watch?v=G3HxCWS2BQo

[

Surah 44: Al-Dukhan (Verses 01-16) - Brief English Tafseer and Translation by Safwatul Quran

Safwatul Quran · 435 views

](http://www.youtube.com/watch?v=G3HxCWS2BQo)

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সিজ্জিন (Sijjin) vs ইল্লিয়িন (Illiyin) পার্থক্য Difference

Sijjin (سِجِّين) এবং Illiyin (عِلِّيِّين) —এ দুটি শব্দ কুরআনে এসেছে এবং দুটোই মানুষের আমলনামা সংরক্ষণ সম্পর্কিত স্থানকে নির্দেশ করে। ১. সিজ্জিন (Sijjin) সিজ্জিন হলো পাপীদের (কাফের, মুনাফিক ও দুরাচারীদের) আমলনামা সংরক্ষণের স্থান। এটি সাত তলদেশের নীচে এক কারাগার বা অন্ধকার জগতে অবস্থিত বলে উল্লেখ রয়েছে। সূরা আল-মুতাফফিফীন (৮৩:৭-৯) তে বলা হয়েছে: "كَلَّا إِنَّ كِتَابَ الْفُجَّارِ لَفِي سِجِّينٍ ۝ وَمَا أَدْرَاكَ مَا سِجِّينٌ ۝ كِتَابٌ مَرْقُومٌ" অর্থ: "না, পাপীদের আমলনামা সিজ্জিনে সংরক্ষিত। তুমি কি জানো, সিজ্জিন কী? এটি এক লিখিত দলিল।" সিজ্জিনকে একটি কারাগার, সংকীর্ণ স্থান, বা নিচের স্তরে অবস্থিত এক অন্ধকার দুনিয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। ২. ইল্লিয়িন (Illiyin) ইল্লিয়িন হলো সৎকর্মশীলদের (মুমিন ও নেককারদের) আমলনামা সংরক্ষণের স্থান । এটি সপ্তম আসমানের ওপরে সংরক্ষিত এক সম্মানিত স্থান। সূরা আল-মুতাফফিফীন (৮৩:১৮-২১) তে বলা হয়েছে: "كَلَّا إِنَّ كِتَابَ الْأَبْرَارِ لَفِي عِلِّيِّينَ ۝ وَمَا أَدْرَاكَ مَا عِلِّيُّونَ ۝ كِتَابٌ مَرْقُومٌ ۝ يَش...

তারাবিহ সমগ্র - প্রথম আলো

রামাদান ২০২৪ উপলক্ষে প্রথম আলোর নিয়মিত আয়োজন - খতমে তারাবিহ'র সূরা গুলো নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা'র লিংক  নিচে দেওয়া হলো।  লিংকে ক্লিক করলেই আপনাকে আলোচনা তে নিয়ে যাবে। তারাবিহ: ১ | একটি খুন ও গাভি নিয়ে বনি ইসরাইলের বাড়াবাড়ি তারাবিহ: ২ | নারীর মর্যাদা ও অধিকার এবং অলৌকিক তিন ঘটনা তারাবিহ: ৩ | যে ১৪ নারীকে বিয়ে করা হারাম তারাবিতে: ১২ | মহানবী (সা.)–এর আকাশভ্রমণ এবং আসহাবে কাহাফের কাহিনি

রেডমি নোট ৯ এর বিস্তারিত | Redmi Note 9 in Bangla

৩০ এপ্রিল, ২০২০ এ শাওমির ঘোষনা আসে এই ফোনটি নিয়ে। কিন্তু ফোনটি মার্কেটে আসে মে মাসের শেষের দিকে৷ করোনার কারনে ফোনটি বাংলাদেশে আসতে আরো সময় নেয়। বর্তমানে বাংলাদেশে আন অফিশিয়াল ভাবে ফোনটি পাওয়া যাচ্ছে৷ বাংলাদেশে অফিশিয়াল ভাবে এখনো ফোনটি আসার তথ্য নেয়৷ চলুন ফোনটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা যাক। শাওমি নোট সিরিজের ফোন বের করে এদের রেডমি নামে সাব ব্যান্ড৷ এদের কাজ হল এই নোট সিরিজ নিয়ে কাজ করা৷ প্রতিবছর নোট সিরিজের ১/২ টা ফোন বাজারে আসে। সাথে সেই ফোন গুলার বিভিন্ন ভার্সন (যেমন - র‍্যাম ও রমের ভিত্তিতে) বাজারে আসে। এই বছরও তারা রেডমি সিরিজের নোট ৯ বাজারে আনে। এই বছর হয়তো এই সিরিজের আরো ফোন বাজারে আসবে। ডিস্পলেঃ ফোনটির ডিসপ্লে সাইজ ৬.৫৩ ইঞ্চি। এতে আইপিএস এলসিডি ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে। এই ফোনের ডিসপ্লে প্রটেকশন হিসেবে আছে গরিলা গ্লাস ফাইভ। স্ক্রিন আর ফোনের বডির অনুপাত প্রায় ৮৩.৫%। এই ফোনের ডিসপ্লে ফুলএইচডি মানে ১০৮০পি। এই ডিস্পলের দৈর্ঘ্য ১৯.৫ একক এবং প্রস্থ হল ৯ একক। এত বড় ফোনের কারনে এই ফোনের পিপি আই ডেনসিটি ৩৯৫। যা একটু কম। প্লাটফর্মঃ এই ফোনের অপারেটিং সিস্টেম এন্ড্রয়েড ১০ এবং এর...