সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

তারাবিহ নামাজ ২০ রাকাত হওয়ার কারণ এবং এর সঠিক বিধান

Introduction (ভূমিকা)

রমজান মাস আসলে আমাদের মনে একটা কমন প্রশ্ন ঘোরে—তারাবিহ নামাজ আসলে কত রাকাত? কেউ বলেন ৮ রাকাত, কেউ বলেন ২০ রাকাত, আবার ইমাম মালিকের মতে ৩৬ রাকাতের কথাও শোনা যায়। এই ভিডিওতে একজন দর্শক শায়খের কাছে জানতে চেয়েছেন যে, এই ২০ রাকাতের সংখ্যাটা আসলে কোথা থেকে এল এবং কেন ওলামায়ে কেরাম এই সংখ্যাটির ওপর জোর দেন। শায়খ খুব সহজভাবে এই বিতর্কের সমাধান দিয়েছেন এবং ইসলামের উদারতা ব্যাখ্যা করেছেন।


তারাবিহ নামাজের রাকাত সংখ্যা নিয়ে মতভেদ (Differences in Rakah Count)

রেফারেন্স: [00:04] থেকে [01:06] পর্যন্ত এই বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

বিস্তারিত আলোচনা: ভিডিওর শুরুতে একজন প্রশ্নকারী উল্লেখ করেন যে, ইমাম আবু হানিফা, ইমাম শাফি এবং ইমাম আহমদ (রহ.) ২০ রাকাতের কথা বলেছেন। অন্যদিকে ইমাম মালিক (রহ.) ৩৬ রাকাতের কথা বলেছেন। প্রশ্নটি ছিল—যদি রাসূল (সা.) ৮ রাকাত বা ১১ রাকাত (বিতরসহ) পড়ে থাকেন, তবে ২০ রাকাতের এই "ঐক্যমত" (Consensus) বা সংখ্যাটি কীভাবে এল?

শায়খ পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, এখানে আসলে কোনো "একক ঐক্যমত" বা ইজমা নেই। কারণ ভিন্ন ভিন্ন ইমাম ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা বলেছেন।

  • সহজ ব্যাখ্যা: ইজমা (Consensus) মানে হলো যখন কোনো বিষয়ে সব আলেম একমত হন। কিন্তু এখানে যেহেতু একেকজন একেক রকম সংখ্যা বলেছেন, তাই এটাকে কঠোর কোনো নিয়ম বলা যাবে না।

হাদিসের আলোকে রাকাত সংখ্যা (Hadith Evidence)

রেফারেন্স: [01:17] থেকে [01:42] পর্যন্ত এই অংশটি দেখুন।

বিস্তারিত আলোচনা: রাসূল (সা.) কত রাকাত পড়তেন তা নিয়ে প্রধানত দুটি হাদিস পাওয়া যায়: ১. মা আয়েশা (রা.)-এর হাদিস অনুযায়ী, রাসূল (সা.) রমজানে বা রমজানের বাইরে ১১ রাকাতের (৮ রাকাত তারাবিহ + ৩ রাকাত বিতর) বেশি পড়তেন না। [01:25] ২. ইবনে আব্বাস (রা.)-এর আরেকটি বর্ণনা অনুযায়ী তিনি ১৩ রাকাত পড়ার কথাও জানা যায়। [01:33]

তাহলে ২০ রাকাত কেন? শায়খ ব্যাখ্যা করেছেন যে, সাহাবায়ে কেরাম, বিশেষ করে হযরত ওমর (রা.)-এর সময় থেকে ২০ রাকাত পড়ার প্রচলন শুরু হয়। এর কারণ হলো, রাসূল (সা.) রাকাতের সংখ্যা নির্দিষ্ট করে "বেঁধে" দেননি।

  • কঠিন শব্দ ব্যাখ্যা: ইনোভেটর (Innovator/Bid'ati): যারা দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছু ঢুকিয়ে দেয়। শায়খ বলেছেন, যারা ৮ বা ২০ রাকাত পড়ে, তাদের একে অপরকে ইনোভেটর বলা উচিত নয়, কারণ দুই পক্ষই কোনো না কোনো দলিল অনুসরণ করছে।

ইসলামের সহজতা ও ঝগড়া পরিহার (Ease in Islam)

রেফারেন্স: [02:16] থেকে [03:31] পর্যন্ত।

বিস্তারিত আলোচনা: শায়খ একটি খুব সুন্দর পয়েন্ট তুলে ধরেছেন। আপনি যদি ১১ রাকাত পড়তে চান, পড়ুন—আপনার কাছে মা আয়েশা (রা.)-এর সহিহ হাদিস আছে। আবার আপনি যদি ২০ রাকাত পড়তে চান, তাও পড়তে পারেন—কারণ ওমর (রা.) এবং অধিকাংশ সাহাবী ও তাবিঈগণ ২০ রাকাত পড়েছেন। এমনকি কারো শারীরিক শক্তি কম থাকলে সে ৭ রাকাতও পড়তে পারে। [02:56]

তারাবিহ নামাজ মূলত "নফল" বা সুন্নাহ ইবাদত। এখানে মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা, একে অপরকে দোষারোপ করা নয়। শায়খের মতে, এই ছোটখাটো বিষয় নিয়ে মারামারি বা ঝগড়া করা শয়তানের কাজ। [03:14]


বিশ্লেষণ ও আমার মতামত (Analysis and Thinking)

মূল বক্তব্য: কন্টেন্ট ক্রিয়েটর বা শায়খ এখানে বোঝাতে চেয়েছেন যে, ইসলাম একটি সহজ ধর্ম। তারাবিহ নামাজের রাকাত সংখ্যা নিয়ে কঠোর কোনো সীমা নেই। কেউ যদি বেশি পড়তে চায় সে সওয়াব পাবে, আর কেউ যদি কম পড়ে তবে তার নামাজও বাতিল হয়ে যাবে না।

বাস্তবসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি ও পরামর্শ: ১. পরমতসহিষ্ণুতা: আমাদের সমাজে ৮ রাকাত বনাম ২০ রাকাত নিয়ে যে কাদা ছোঁড়াছুড়ি হয়, তা আসলে অজ্ঞতা। শায়খের পরামর্শ অনুযায়ী, আমাদের উচিত যার যার দলিল অনুযায়ী আমল করা এবং অন্যকে সম্মান করা। ২. মানসিকতা পরিবর্তন: ২০ রাকাত পড়তে গিয়ে যদি তাড়াহুড়ো করে সুরা-কেরাত ভুল পড়া হয়, তবে তার চেয়ে ধীরে সুস্থে ৮ রাকাত পড়া অনেক ভালো। আবার কারো শক্তি থাকলে সে ২০ বা তার বেশিও পড়তে পারে। ৩. বিকল্প চিন্তা: আপনি যদি মসজিদে ২০ রাকাত জামাতে অংশ নিতে না পারেন, তবে বাসায় নিজের সুবিধামতো নফল হিসেবে তাহাজ্জুদ বা তারাবিহ পড়তে পারেন। রাকাত সংখ্যার চেয়ে নামাজের "কোয়ালিটি" বা একাগ্রতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

উপসংহার: তারাবিহ নামাজের রাকাত সংখ্যা একটি প্রশস্ত বিষয়। আপনি ১১, ২০, ৩৬ বা তার কম-বেশি পড়তে পারেন। মূল বিষয় হলো আল্লাহর ইবাদত করা এবং মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ঐক্য বজায় রাখা। [03:31]

[

Why Is Taraweeh 20 Rakah ? | Where Did This Number Come From ?

NoorNiche · 18K views

](http://www.youtube.com/watch?v=iGZfrW0eQNg)

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সিজ্জিন (Sijjin) vs ইল্লিয়িন (Illiyin) পার্থক্য Difference

Sijjin (سِجِّين) এবং Illiyin (عِلِّيِّين) —এ দুটি শব্দ কুরআনে এসেছে এবং দুটোই মানুষের আমলনামা সংরক্ষণ সম্পর্কিত স্থানকে নির্দেশ করে। ১. সিজ্জিন (Sijjin) সিজ্জিন হলো পাপীদের (কাফের, মুনাফিক ও দুরাচারীদের) আমলনামা সংরক্ষণের স্থান। এটি সাত তলদেশের নীচে এক কারাগার বা অন্ধকার জগতে অবস্থিত বলে উল্লেখ রয়েছে। সূরা আল-মুতাফফিফীন (৮৩:৭-৯) তে বলা হয়েছে: "كَلَّا إِنَّ كِتَابَ الْفُجَّارِ لَفِي سِجِّينٍ ۝ وَمَا أَدْرَاكَ مَا سِجِّينٌ ۝ كِتَابٌ مَرْقُومٌ" অর্থ: "না, পাপীদের আমলনামা সিজ্জিনে সংরক্ষিত। তুমি কি জানো, সিজ্জিন কী? এটি এক লিখিত দলিল।" সিজ্জিনকে একটি কারাগার, সংকীর্ণ স্থান, বা নিচের স্তরে অবস্থিত এক অন্ধকার দুনিয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। ২. ইল্লিয়িন (Illiyin) ইল্লিয়িন হলো সৎকর্মশীলদের (মুমিন ও নেককারদের) আমলনামা সংরক্ষণের স্থান । এটি সপ্তম আসমানের ওপরে সংরক্ষিত এক সম্মানিত স্থান। সূরা আল-মুতাফফিফীন (৮৩:১৮-২১) তে বলা হয়েছে: "كَلَّا إِنَّ كِتَابَ الْأَبْرَارِ لَفِي عِلِّيِّينَ ۝ وَمَا أَدْرَاكَ مَا عِلِّيُّونَ ۝ كِتَابٌ مَرْقُومٌ ۝ يَش...

তারাবিহ সমগ্র - প্রথম আলো

রামাদান ২০২৪ উপলক্ষে প্রথম আলোর নিয়মিত আয়োজন - খতমে তারাবিহ'র সূরা গুলো নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা'র লিংক  নিচে দেওয়া হলো।  লিংকে ক্লিক করলেই আপনাকে আলোচনা তে নিয়ে যাবে। তারাবিহ: ১ | একটি খুন ও গাভি নিয়ে বনি ইসরাইলের বাড়াবাড়ি তারাবিহ: ২ | নারীর মর্যাদা ও অধিকার এবং অলৌকিক তিন ঘটনা তারাবিহ: ৩ | যে ১৪ নারীকে বিয়ে করা হারাম তারাবিতে: ১২ | মহানবী (সা.)–এর আকাশভ্রমণ এবং আসহাবে কাহাফের কাহিনি

রেডমি নোট ৯ এর বিস্তারিত | Redmi Note 9 in Bangla

৩০ এপ্রিল, ২০২০ এ শাওমির ঘোষনা আসে এই ফোনটি নিয়ে। কিন্তু ফোনটি মার্কেটে আসে মে মাসের শেষের দিকে৷ করোনার কারনে ফোনটি বাংলাদেশে আসতে আরো সময় নেয়। বর্তমানে বাংলাদেশে আন অফিশিয়াল ভাবে ফোনটি পাওয়া যাচ্ছে৷ বাংলাদেশে অফিশিয়াল ভাবে এখনো ফোনটি আসার তথ্য নেয়৷ চলুন ফোনটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা যাক। শাওমি নোট সিরিজের ফোন বের করে এদের রেডমি নামে সাব ব্যান্ড৷ এদের কাজ হল এই নোট সিরিজ নিয়ে কাজ করা৷ প্রতিবছর নোট সিরিজের ১/২ টা ফোন বাজারে আসে। সাথে সেই ফোন গুলার বিভিন্ন ভার্সন (যেমন - র‍্যাম ও রমের ভিত্তিতে) বাজারে আসে। এই বছরও তারা রেডমি সিরিজের নোট ৯ বাজারে আনে। এই বছর হয়তো এই সিরিজের আরো ফোন বাজারে আসবে। ডিস্পলেঃ ফোনটির ডিসপ্লে সাইজ ৬.৫৩ ইঞ্চি। এতে আইপিএস এলসিডি ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে। এই ফোনের ডিসপ্লে প্রটেকশন হিসেবে আছে গরিলা গ্লাস ফাইভ। স্ক্রিন আর ফোনের বডির অনুপাত প্রায় ৮৩.৫%। এই ফোনের ডিসপ্লে ফুলএইচডি মানে ১০৮০পি। এই ডিস্পলের দৈর্ঘ্য ১৯.৫ একক এবং প্রস্থ হল ৯ একক। এত বড় ফোনের কারনে এই ফোনের পিপি আই ডেনসিটি ৩৯৫। যা একটু কম। প্লাটফর্মঃ এই ফোনের অপারেটিং সিস্টেম এন্ড্রয়েড ১০ এবং এর...