সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

Cursor-এর AI এজেন্ট এবং ব্রাউজার তৈরির সত্য ঘটনা

পরিচয় (Introduction): আজকাল টেক দুনিয়ায় AI বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে আলোচনার শেষ নেই। বিশেষ করে "Cursor" (কার্সার) নামক একটি কোডিং টুল বা IDE বর্তমানে ডেভেলপারদের কাছে খুব জনপ্রিয়। সম্প্রতি কার্সার একটি দাবি করেছে যে, তারা তাদের AI এজেন্ট ব্যবহার করে মাত্র এক সপ্তাহে একদম শুরু থেকে (from scratch) একটি পূর্ণাঙ্গ ওয়েব ব্রাউজার তৈরি করেছে। এই ভিডিওতে আলোচনা করা হয়েছে সেই দাবির পেছনে আসলে কতটা সত্যতা আছে, কত টাকা খরচ হয়েছে এবং কেন এটাকে অনেকে স্রেফ "হাইপ" বা অতিরঞ্জিত প্রচার বলছেন।


১. কার্সারের বড় দাবি এবং ব্রাউজার তৈরির ঘোষণা

এই আলোচনার শুরুতে কার্সারের সেই বিতর্কিত ব্লগ পোস্টের কথা বলা হয়েছে। তারা দাবি করেছে যে, তাদের AI এজেন্টগুলো মানুষের সাহায্য ছাড়াই নিজে নিজে কোড লিখে একটি জটিল সফটওয়্যার অর্থাৎ ব্রাউজার বানিয়ে ফেলেছে।

রেফারেন্স: [00:34] - [01:13]

বিস্তারিত এবং আমার ভাবনা: কার্সার বলছে যে তাদের এজেন্টরা প্রায় ১ মিলিয়ন লাইনের কোড লিখেছে। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, আপনি যদি একজন অভিজ্ঞ ডেভেলপার হন, তবে জানবেন যে একটি ব্রাউজার তৈরি করা পৃথিবীর অন্যতম কঠিন কাজ। এতে অনেকগুলো স্তর (Layer) থাকে যেমন: নেটওয়ার্কিং, সিকিউরিটি, এবং রেন্ডারিং ইঞ্জিন। কার্সার মূলত দেখাতে চেয়েছিল যে ভবিষ্যতে আর মানুষের কোড করার দরকার নেই, AI একাই সব পারবে। আমার মতে, এটি আসলে তাদের টুলটিকে বিনিয়োগকারী বা ইনভেস্টরদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করার একটা কৌশল মাত্র।

  • সহজ ব্যাখ্যা (Difficult Words):

    • IDE (Integrated Development Environment): এটি একটি সফটওয়্যার যেখানে প্রোগ্রামাররা কোড লেখে। যেমন- ভিএস কোড বা কার্সার।

    • Agent (এজেন্ট): AI-এর এমন একটি সিস্টেম যা কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য দিলে নিজে নিজেই কাজ করতে পারে।

    • From Scratch (ফ্রম স্ক্র্যাচ): একদম শূন্য থেকে বা শুরু থেকে কিছু তৈরি করা।


২. বাস্তবের সাথে অমিল: কোড কি আদেও চলে?

ভিডিওতে দেখানো হয়েছে যে, কার্সার তাদের প্রজেক্টের কোড GitHub-এ ওপেন করে দিয়েছে। কিন্তু যখন সাধারণ মানুষ বা বিশেষজ্ঞরা সেই কোড নিয়ে কাজ করতে গেলেন, তখন দেখা গেল এক বিশাল সমস্যা।

রেফারেন্স: [04:13] - [05:47]

বিস্তারিত এবং আমার ভাবনা: সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, এই ব্রাউজারের কোডটি "Compile" হয় না। অর্থাৎ, কোডটি রান করে আপনি ব্রাউজারটি চালাতেই পারবেন না। বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষা করে দেখেছেন যে, তাদের অটোমেটেড সিস্টেমে ৮৮% বার কোড রান করতে ব্যর্থ হয়েছে। তবুও তারা দাবি করছে তারা ব্রাউজার বানিয়ে ফেলেছে। এটি অনেকটা এমন যে, কেউ বলল সে একটা গাড়ি বানিয়েছে, কিন্তু সেই গাড়ির ইঞ্জিন স্টার্টই হয় না! AI শুধু কোড লিখে গেছে, কিন্তু সেই কোডগুলো একে অপরের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না বা আদেও কাজ করে কি না, তা নিয়ে কারো মাথাব্যথা ছিল না।

  • সহজ ব্যাখ্যা (Difficult Words):

    • Compile (কম্পাইল): প্রোগ্রামিং ভাষাকে কম্পিউটারের বোঝার উপযোগী করে তোলা যাতে সফটওয়্যারটি চালানো যায়।

    • GitHub (গিটহাব): যেখানে প্রোগ্রামাররা তাদের কোড জমা রাখে এবং অন্যদের সাথে শেয়ার করে।

    • CI/CD (সিআই/সিডি): কোড লেখার পর তা ঠিক আছে কি না তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরীক্ষা করার একটি পদ্ধতি।


৩. "শুরু থেকে তৈরির" মিথ্যা দাবি এবং কোড ব্লট (Bloat)

কার্সার বলেছিল তারা ব্রাউজারটি একদম শুরু থেকে বানিয়েছে। কিন্তু কোড বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় তারা অন্য বড় বড় কোম্পানির (যেমন- Mozilla) লাইব্রেরি ব্যবহার করেছে।

রেফারেন্স: [07:58] - [09:28]

বিস্তারিত এবং আমার ভাবনা: প্রকৃতপক্ষে, AI এজেন্টগুলো নিজে থেকে নতুন কিছু করার চেয়ে ইন্টারনেটে থাকা অন্য ওপেন সোর্স প্রজেক্টের কোড জোড়াাতালি দিয়েছে। আরও ভয়ের ব্যাপার হলো, একটি ভালো ব্রাউজারের কোড যেখানে পরিষ্কার হওয়া উচিত, সেখানে AI-এর লেখা কোডগুলো ছিল একদম অগোছালো বা "Spaghetti Code"। যেখানে ১ মিলিয়ন লাইনে কাজ হয়ে যেত, সেখানে AI অপ্রয়োজনীয়ভাবে ৩ মিলিয়ন লাইন কোড লিখেছে। এটাকে টেকনিক্যাল ভাষায় বলা হয় "Bloat" বা মেদবহুল কোড, যা সফটওয়্যারের গতি কমিয়ে দেয় এবং ত্রুটি বাড়ায়।


৪. আকাশচুম্বী খরচ: এক সপ্তাহে কোটি কোটি টাকা!

AI দিয়ে কোড করানো কিন্তু ফ্রি নয়। কার্সার এই প্রজেক্টের জন্য কয়েক ট্রিলিয়ন "Token" ব্যবহার করেছে।

রেফারেন্স: [10:51] - [12:34]

বিস্তারিত এবং আমার ভাবনা: হিসাব করে দেখা গেছে, OpenAI-এর মতো কোম্পানির মডেল ব্যবহার করে এত বড় প্রজেক্ট করতে প্রায় ৮ থেকে ১৬ মিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। বাংলাদেশি টাকায় যা প্রায় ১০০ থেকে ১৯০ কোটি টাকা! মাত্র এক সপ্তাহে একটি অকেজো (যা চলে না) ব্রাউজার বানাতে এত টাকা খরচ করাকে অনেকেই পাগলামি বলছেন। এই টাকা দিয়ে সত্যিকারের একদল ইঞ্জিনিয়ার দিয়ে অনেক ভালো মানের ব্রাউজার বানানো সম্ভব ছিল।

  • সহজ ব্যাখ্যা (Difficult Words):

    • Token (টোকেন): AI মডেলে ইনপুট বা আউটপুট দেওয়ার একক। সহজ কথায়, AI যত বেশি শব্দ প্রসেস করে, তত বেশি টোকেন খরচ হয় এবং তার জন্য টাকা দিতে হয়।

৫. গুণমান (Quality) বনাম গতি: কেন এমন ব্যর্থতা?

কার্সার তাদের সিস্টেমে কোড চেক করার জন্য "Integrator" বা কোড পরীক্ষক এজেন্ট রেখেছিল। কিন্তু পরে তারা সেটি সরিয়ে দেয় কারণ সেটি কাজ ধীর করে দিচ্ছিল।

রেফারেন্স: [13:04] - [14:14]

বিস্তারিত এবং আমার ভাবনা: সফটওয়্যার তৈরিতে কোড রিভিউ বা পরীক্ষা করা খুবই জরুরি। কিন্তু কার্সার শুধু কত দ্রুত এবং কত বেশি কোড লেখা যায় (Velocity) সেদিকে নজর দিয়েছে। ফলে কোডের মান বা সেটি কাজ করবে কি না, তা গুরুত্ব হারিয়েছে। এটি বর্তমান সময়ের অনেক কোম্পানির একটি খারাপ অভ্যাস—শুধুমাত্র সংখ্যা বা মেট্রিক্স বাড়ানোর জন্য কাজের মান বিসর্জন দেওয়া।


৬. বিশ্লেষণ এবং লেখকের ভাবনা (Analysis & Perception)

বিশ্লেষণ ও বাস্তবতা: কার্সারের এই ঘটনাটি আমাদের শেখায় যে, AI বর্তমানে আমাদের কোডিং-এ অনেক সাহায্য করতে পারে ঠিকই, কিন্তু একদম মানুষের বিকল্প হিসেবে একা একটি বিশাল সিস্টেম তৈরি করার মতো পরিপক্কতা এখনো আসেনি। কার্সার নিজেই তাদের অন্যান্য ছোট ছোট প্রজেক্টে (যেমন- এক ফ্রেমওয়ার্ক থেকে অন্য ফ্রেমওয়ার্কে মাইগ্রেশন) সফল হয়েছে, কারণ সেই কাজগুলো ছিল নির্দিষ্ট এবং নিয়ন্ত্রিত। কিন্তু ব্রাউজারের মতো বিশাল কাজ AI-কে দিয়ে করানোটা ছিল নিছক একটা প্রচারণামূলক স্টান্ট।

সম্ভাবনা ও বিকল্প: ১. AI as a Partner, not Author: AI-কে পুরো দায়িত্ব না দিয়ে একজন সহযোগী বা "Pair Programmer" হিসেবে ব্যবহার করা উচিত। ২. Trust Factor: কার্সারের মতো বড় কোম্পানিগুলো যখন এরকম অতিরঞ্জিত দাবি করে, তখন সাধারণ মানুষের AI প্রযুক্তির ওপর থেকে বিশ্বাস উঠে যায়। এটি টেক ইন্ডাস্ট্রির জন্য ক্ষতিকর। ৩. Suggestion: হাইপ বা চাকচিক্য দেখে মুগ্ধ না হয়ে কোড আদেও কাজ করে কি না, সেদিকে নজর দেওয়া উচিত। আমাদের উচিত AI টুলগুলোকে বুদ্ধিমানের মতো ব্যবহার করা, যাতে আমাদের কাজের গতি বাড়ে, কিন্তু গুণমান না কমে।

উপসংহার: ভিডিওর মূল বার্তা হলো—AI চমৎকার একটি প্রযুক্তি, কিন্তু বর্তমান সময়ে বড় বড় কোম্পানিগুলো তাদের মার্কেটিং বা বিনিয়োগ পাওয়ার জন্য যে পরিমাণ মিথ্যা বা অতিরঞ্জিত কথা বলছে, তা থেকে আমাদের সাবধান থাকতে হবে। কোড না চলা একটি ব্রাউজারকে "সফল প্রজেক্ট" বলা আসলে প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়।


এই সারসংক্ষেপটি "Java Brains" চ্যানেলের ভিডিওর ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। আপনি যদি একজন ডেভেলপার হন, তবে নিজে পরীক্ষা করে দেখার জন্য ভিডিওর লিঙ্কটি ব্যবহার করতে পারেন। http://www.youtube.com/watch?v=yzqNWVvd2BM

[

The Cursor Situation

Java Brains · 81K views

](http://www.youtube.com/watch?v=yzqNWVvd2BM)

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সিজ্জিন (Sijjin) vs ইল্লিয়িন (Illiyin) পার্থক্য Difference

Sijjin (سِجِّين) এবং Illiyin (عِلِّيِّين) —এ দুটি শব্দ কুরআনে এসেছে এবং দুটোই মানুষের আমলনামা সংরক্ষণ সম্পর্কিত স্থানকে নির্দেশ করে। ১. সিজ্জিন (Sijjin) সিজ্জিন হলো পাপীদের (কাফের, মুনাফিক ও দুরাচারীদের) আমলনামা সংরক্ষণের স্থান। এটি সাত তলদেশের নীচে এক কারাগার বা অন্ধকার জগতে অবস্থিত বলে উল্লেখ রয়েছে। সূরা আল-মুতাফফিফীন (৮৩:৭-৯) তে বলা হয়েছে: "كَلَّا إِنَّ كِتَابَ الْفُجَّارِ لَفِي سِجِّينٍ ۝ وَمَا أَدْرَاكَ مَا سِجِّينٌ ۝ كِتَابٌ مَرْقُومٌ" অর্থ: "না, পাপীদের আমলনামা সিজ্জিনে সংরক্ষিত। তুমি কি জানো, সিজ্জিন কী? এটি এক লিখিত দলিল।" সিজ্জিনকে একটি কারাগার, সংকীর্ণ স্থান, বা নিচের স্তরে অবস্থিত এক অন্ধকার দুনিয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। ২. ইল্লিয়িন (Illiyin) ইল্লিয়িন হলো সৎকর্মশীলদের (মুমিন ও নেককারদের) আমলনামা সংরক্ষণের স্থান । এটি সপ্তম আসমানের ওপরে সংরক্ষিত এক সম্মানিত স্থান। সূরা আল-মুতাফফিফীন (৮৩:১৮-২১) তে বলা হয়েছে: "كَلَّا إِنَّ كِتَابَ الْأَبْرَارِ لَفِي عِلِّيِّينَ ۝ وَمَا أَدْرَاكَ مَا عِلِّيُّونَ ۝ كِتَابٌ مَرْقُومٌ ۝ يَش...

তারাবিহ সমগ্র - প্রথম আলো

রামাদান ২০২৪ উপলক্ষে প্রথম আলোর নিয়মিত আয়োজন - খতমে তারাবিহ'র সূরা গুলো নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা'র লিংক  নিচে দেওয়া হলো।  লিংকে ক্লিক করলেই আপনাকে আলোচনা তে নিয়ে যাবে। তারাবিহ: ১ | একটি খুন ও গাভি নিয়ে বনি ইসরাইলের বাড়াবাড়ি তারাবিহ: ২ | নারীর মর্যাদা ও অধিকার এবং অলৌকিক তিন ঘটনা তারাবিহ: ৩ | যে ১৪ নারীকে বিয়ে করা হারাম তারাবিতে: ১২ | মহানবী (সা.)–এর আকাশভ্রমণ এবং আসহাবে কাহাফের কাহিনি

রেডমি নোট ৯ এর বিস্তারিত | Redmi Note 9 in Bangla

৩০ এপ্রিল, ২০২০ এ শাওমির ঘোষনা আসে এই ফোনটি নিয়ে। কিন্তু ফোনটি মার্কেটে আসে মে মাসের শেষের দিকে৷ করোনার কারনে ফোনটি বাংলাদেশে আসতে আরো সময় নেয়। বর্তমানে বাংলাদেশে আন অফিশিয়াল ভাবে ফোনটি পাওয়া যাচ্ছে৷ বাংলাদেশে অফিশিয়াল ভাবে এখনো ফোনটি আসার তথ্য নেয়৷ চলুন ফোনটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা যাক। শাওমি নোট সিরিজের ফোন বের করে এদের রেডমি নামে সাব ব্যান্ড৷ এদের কাজ হল এই নোট সিরিজ নিয়ে কাজ করা৷ প্রতিবছর নোট সিরিজের ১/২ টা ফোন বাজারে আসে। সাথে সেই ফোন গুলার বিভিন্ন ভার্সন (যেমন - র‍্যাম ও রমের ভিত্তিতে) বাজারে আসে। এই বছরও তারা রেডমি সিরিজের নোট ৯ বাজারে আনে। এই বছর হয়তো এই সিরিজের আরো ফোন বাজারে আসবে। ডিস্পলেঃ ফোনটির ডিসপ্লে সাইজ ৬.৫৩ ইঞ্চি। এতে আইপিএস এলসিডি ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে। এই ফোনের ডিসপ্লে প্রটেকশন হিসেবে আছে গরিলা গ্লাস ফাইভ। স্ক্রিন আর ফোনের বডির অনুপাত প্রায় ৮৩.৫%। এই ফোনের ডিসপ্লে ফুলএইচডি মানে ১০৮০পি। এই ডিস্পলের দৈর্ঘ্য ১৯.৫ একক এবং প্রস্থ হল ৯ একক। এত বড় ফোনের কারনে এই ফোনের পিপি আই ডেনসিটি ৩৯৫। যা একটু কম। প্লাটফর্মঃ এই ফোনের অপারেটিং সিস্টেম এন্ড্রয়েড ১০ এবং এর...