সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ডোমেইন-ড্রিভেন ডিজাইন (DDD) এ অ্যাগ্রিগেট কনসেপ্টের সহজ পাঠ

নিচে আপনার দেওয়া ভিডিওর ভিত্তিতে ডোমেইন-ড্রিভেন ডিজাইন (DDD) এ 'অ্যাগ্রিগেট' (Aggregates) কনসেপ্টের ওপর একটি সহজবোধ্য সারাংশ দেওয়া হলো:

Introduction

সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের জগতে যখন আমরা বড় কোনো প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করি, তখন ডেটা বা তথ্যের গঠন বোঝা খুব জরুরি হয়ে পড়ে। ডোমেইন-ড্রিভেন ডিজাইন বা DDD হলো এমন একটি পদ্ধতি যা আমাদের জটিল বিজনেস লজিককে সহজে সাজাতে সাহায্য করে। এই পদ্ধতির অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো Aggregates। সহজ কথায়, অ্যাগ্রিগেট হলো কতগুলো সম্পর্কিত জিনিসের একটি দল বা গুচ্ছ, যাদেরকে আমরা একসাথে একটি ইউনিট হিসেবে বিবেচনা করি। আজকের এই আলোচনায় আমরা জানবো অ্যাগ্রিগেট কী, এটি কীভাবে কাজ করে এবং কেন এটি আমাদের কোডিংয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।


১. অ্যাগ্রিগেট (Aggregates) কী?

অ্যাগ্রিগেট হলো কিছু ক্লাসের একটি সংগ্রহ যা একটি নির্দিষ্ট সীমানা বা বাউন্ডারির মধ্যে থাকে।

ভিডিও রেফারেন্স: [10:25]

বিস্তারিত আলোচনা: অ্যাগ্রিগেট আসলে কিছু অবজেক্টের গ্রুপ। ধরুন, একটি 'অর্ডার' (Order) এবং সেই অর্ডারের ভেতরে থাকা অনেকগুলো 'আইটেম' (Items)। এখানে অর্ডার এবং আইটেমগুলো মিলে একটি অ্যাগ্রিগেট তৈরি করে।

  • একটি অ্যাগ্রিগেটে সাধারণত একটি মূল ক্লাস থাকে যাকে বলা হয় Aggregate Root

  • বাইরের কেউ যদি ওই গ্রুপের ভিতরের কোনো তথ্য পরিবর্তন করতে চায়, তবে তাকে অবশ্যই এই 'রুট' বা মেইন ক্লাসের মাধ্যমেই আসতে হবে।

সহজ ব্যাখ্যা: মনে করুন একটি পরিবার। পরিবারের সব বড় সিদ্ধান্ত যেমন বাবা বা মা (Aggregate Root) নেন। বাইরের কেউ যদি পরিবারের কোনো ছোট সদস্যের সাথে কোনো লেনদেন করতে চায়, তবে তাকে আগে পরিবারের প্রধানের অনুমতি নিতে হয়। এতে পরিবারের শৃঙ্খলা বজায় থাকে। সফটওয়্যারের ক্ষেত্রেও এটি ডেটার শুদ্ধতা (Consistency) বজায় রাখে।


২. ট্রানজ্যাকশনাল কনসিস্টেন্সি (Transactional Consistency)

অ্যাগ্রিগেটের ভেতরের সব কাজ হয় 'হয় সব হবে, না হয় কিছুই হবে না' ভিত্তিতে।

ভিডিও রেফারেন্স: [11:15]

বিস্তারিত আলোচনা: অ্যাগ্রিগেটের একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো এটি সবসময় Transactionally Consistent থাকে। এর মানে হলো, আপনি যখন একটি অ্যাগ্রিগেটে কোনো পরিবর্তন করবেন, তখন ওই গ্রুপের সব ডেটা একসাথে সেভ হবে। যদি কোনো একটি অংশ সেভ হতে ব্যর্থ হয়, তবে পুরো প্রসেসটি বাতিল হয়ে যাবে।

  • Transactional (ট্রানজ্যাকশনাল): এটি একটি ডাটাবেস শব্দ। এর অর্থ হলো একটি কাজের পুরো সেটটি সফলভাবে সম্পন্ন হওয়া। যদি মাঝপথে কোনো সমস্যা হয়, তবে আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়া (Rollback)।

  • Consistency (কনসিস্টেন্সি): এর অর্থ হলো ডেটার সঠিকতা বা সামঞ্জস্য বজায় রাখা।


৩. অ্যাগ্রিগেট রুট এবং কন্ট্রোল (Aggregate Root & Control)

অ্যাগ্রিগেটের সব ক্ষমতা থাকে তার মেইন বা রুট ক্লাসের হাতে।

ভিডিও রেফারেন্স: [11:25]

বিস্তারিত আলোচনা: অ্যাগ্রিগেটের ভেতরের ক্লাসগুলোকে বাইরের জগত সরাসরি চিনতে পারে না। আপনি যদি একটি 'শিপমেন্ট' (Shipment) এবং তার ভেতরের 'আইটেম' (Item) নিয়ে কাজ করেন, তবে আপনাকে শিপমেন্টের মাধ্যমেই আইটেমে পৌঁছাতে হবে।

আমার চিন্তা: এটি অনেকটা একটি বাড়ির দরজার মতো। আপনি বাড়ির ভেতরে যেকোনো ঘরে যেতে চাইলে আপনাকে মেইন গেট দিয়ে ঢুকতে হবে। এই মেইন গেটটাই হলো 'Aggregate Root'। এটি কোডকে অনেক বেশি গোছানো এবং সুরক্ষিত রাখে।


৪. আইডেন্টিফাইং অ্যাগ্রিগেটস (Identifying Aggregates)

কোনটি আলাদা অ্যাগ্রিগেট আর কোনটি একই দলের অংশ তা চেনা খুবই জরুরি।

ভিডিও রেফারেন্স: [14:53]

বিস্তারিত আলোচনা: ভিডিওতে একটি উদাহরণ দেওয়া হয়েছে—শিপমেন্ট (Shipment) এবং কাস্টমার (Customer)। শিপমেন্ট কি কাস্টমার ছাড়া থাকতে পারে? হয়তো পারে, কিন্তু সেটি অসম্পূর্ণ। কিন্তু শিপমেন্টের ভেতরের আইটেমগুলো শিপমেন্ট ছাড়া একদম অর্থহীন। তাই শিপমেন্ট এবং আইটেম মিলে একটি অ্যাগ্রিগেট গঠন করে, কিন্তু কাস্টমার একটি আলাদা অ্যাগ্রিগেট হিসেবে থাকতে পারে।


এনালাইসিস এবং বাস্তবতা (Analysis & Perception)

সারাংশ এবং উদ্দেশ্য: ভিডিওর বক্তা জেনস শাউডার (Jens Schauder) মূলত বোঝাতে চেয়েছেন যে, আমরা যখন JPA থেকে Spring Data JDBC-তে মাইগ্রেট করি, তখন অ্যাগ্রিগেট কনসেপ্ট বোঝা অপরিহার্য। JPA-তে আমরা অনেক সময় সবকিছুকে একে অপরের সাথে পেঁচিয়ে ফেলি (Bi-directional mapping), যা কোডকে জটিল করে তোলে। কিন্তু অ্যাগ্রিগেট আমাদের শেখায় কীভাবে সীমানা নির্ধারণ করতে হয়।

বাস্তব প্রেক্ষাপট ও পরামর্শ: বাস্তব জীবনে বড় প্রজেক্টগুলোতে যখন শত শত টেবিল থাকে, তখন অ্যাগ্রিগেট ছাড়া কাজ করলে ডেটাবেসে অনেক 'Garbage' বা ভুল ডেটা জমা হতে পারে।

  • বিকল্প: আপনি যদি এখনই পুরো প্রজেক্ট মাইগ্রেট করতে না পারেন, তবে বক্তার পরামর্শ অনুযায়ী 'Depth-first' পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন। অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট অংশ ধরুন এবং সেটিকে পুরোপুরি অ্যাগ্রিগেট মডেলে নিয়ে আসুন।

  • পরামর্শ: কোডিং করার সময় সবসময় চিন্তা করবেন, "এই অবজেক্টটি কি একা চলতে পারে?" যদি উত্তর 'না' হয়, তবে বুঝবেন সেটি অন্য কোনো অ্যাগ্রিগেটের অংশ।

অ্যাগ্রিগেট ব্যবহারের ফলে কোড মেইনটেইন করা সহজ হয় এবং ফিউচারে সিস্টেম বড় হলেও সেটি ভেঙে পড়ার ভয় থাকে না।

[

Migrating from (Spring Data) JPA to Spring Data JDBC by Jens Schauder @ Spring I/O 2024

Spring I/O · 27K views

](http://www.youtube.com/watch?v=WYa9n0F4CRM)

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সিজ্জিন (Sijjin) vs ইল্লিয়িন (Illiyin) পার্থক্য Difference

Sijjin (سِجِّين) এবং Illiyin (عِلِّيِّين) —এ দুটি শব্দ কুরআনে এসেছে এবং দুটোই মানুষের আমলনামা সংরক্ষণ সম্পর্কিত স্থানকে নির্দেশ করে। ১. সিজ্জিন (Sijjin) সিজ্জিন হলো পাপীদের (কাফের, মুনাফিক ও দুরাচারীদের) আমলনামা সংরক্ষণের স্থান। এটি সাত তলদেশের নীচে এক কারাগার বা অন্ধকার জগতে অবস্থিত বলে উল্লেখ রয়েছে। সূরা আল-মুতাফফিফীন (৮৩:৭-৯) তে বলা হয়েছে: "كَلَّا إِنَّ كِتَابَ الْفُجَّارِ لَفِي سِجِّينٍ ۝ وَمَا أَدْرَاكَ مَا سِجِّينٌ ۝ كِتَابٌ مَرْقُومٌ" অর্থ: "না, পাপীদের আমলনামা সিজ্জিনে সংরক্ষিত। তুমি কি জানো, সিজ্জিন কী? এটি এক লিখিত দলিল।" সিজ্জিনকে একটি কারাগার, সংকীর্ণ স্থান, বা নিচের স্তরে অবস্থিত এক অন্ধকার দুনিয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। ২. ইল্লিয়িন (Illiyin) ইল্লিয়িন হলো সৎকর্মশীলদের (মুমিন ও নেককারদের) আমলনামা সংরক্ষণের স্থান । এটি সপ্তম আসমানের ওপরে সংরক্ষিত এক সম্মানিত স্থান। সূরা আল-মুতাফফিফীন (৮৩:১৮-২১) তে বলা হয়েছে: "كَلَّا إِنَّ كِتَابَ الْأَبْرَارِ لَفِي عِلِّيِّينَ ۝ وَمَا أَدْرَاكَ مَا عِلِّيُّونَ ۝ كِتَابٌ مَرْقُومٌ ۝ يَش...

তারাবিহ সমগ্র - প্রথম আলো

রামাদান ২০২৪ উপলক্ষে প্রথম আলোর নিয়মিত আয়োজন - খতমে তারাবিহ'র সূরা গুলো নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা'র লিংক  নিচে দেওয়া হলো।  লিংকে ক্লিক করলেই আপনাকে আলোচনা তে নিয়ে যাবে। তারাবিহ: ১ | একটি খুন ও গাভি নিয়ে বনি ইসরাইলের বাড়াবাড়ি তারাবিহ: ২ | নারীর মর্যাদা ও অধিকার এবং অলৌকিক তিন ঘটনা তারাবিহ: ৩ | যে ১৪ নারীকে বিয়ে করা হারাম তারাবিতে: ১২ | মহানবী (সা.)–এর আকাশভ্রমণ এবং আসহাবে কাহাফের কাহিনি

রেডমি নোট ৯ এর বিস্তারিত | Redmi Note 9 in Bangla

৩০ এপ্রিল, ২০২০ এ শাওমির ঘোষনা আসে এই ফোনটি নিয়ে। কিন্তু ফোনটি মার্কেটে আসে মে মাসের শেষের দিকে৷ করোনার কারনে ফোনটি বাংলাদেশে আসতে আরো সময় নেয়। বর্তমানে বাংলাদেশে আন অফিশিয়াল ভাবে ফোনটি পাওয়া যাচ্ছে৷ বাংলাদেশে অফিশিয়াল ভাবে এখনো ফোনটি আসার তথ্য নেয়৷ চলুন ফোনটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা যাক। শাওমি নোট সিরিজের ফোন বের করে এদের রেডমি নামে সাব ব্যান্ড৷ এদের কাজ হল এই নোট সিরিজ নিয়ে কাজ করা৷ প্রতিবছর নোট সিরিজের ১/২ টা ফোন বাজারে আসে। সাথে সেই ফোন গুলার বিভিন্ন ভার্সন (যেমন - র‍্যাম ও রমের ভিত্তিতে) বাজারে আসে। এই বছরও তারা রেডমি সিরিজের নোট ৯ বাজারে আনে। এই বছর হয়তো এই সিরিজের আরো ফোন বাজারে আসবে। ডিস্পলেঃ ফোনটির ডিসপ্লে সাইজ ৬.৫৩ ইঞ্চি। এতে আইপিএস এলসিডি ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে। এই ফোনের ডিসপ্লে প্রটেকশন হিসেবে আছে গরিলা গ্লাস ফাইভ। স্ক্রিন আর ফোনের বডির অনুপাত প্রায় ৮৩.৫%। এই ফোনের ডিসপ্লে ফুলএইচডি মানে ১০৮০পি। এই ডিস্পলের দৈর্ঘ্য ১৯.৫ একক এবং প্রস্থ হল ৯ একক। এত বড় ফোনের কারনে এই ফোনের পিপি আই ডেনসিটি ৩৯৫। যা একটু কম। প্লাটফর্মঃ এই ফোনের অপারেটিং সিস্টেম এন্ড্রয়েড ১০ এবং এর...