সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

মডেল কনটেক্সট প্রোটোকল (MCP) দিয়ে AI এজেন্ট ও ডেটাবেস কানেক্ট করা

Introduction

আজকাল আমরা সবাই AI বা চ্যাটবট ব্যবহার করছি। কিন্তু এই চ্যাটবটগুলো বা AI এজেন্টগুলো যখন আপনার নিজের ডেটাবেস বা পার্সোনাল ফাইলের সাথে কথা বলতে চায়, তখন সেটা বেশ ঝামেলার কাজ হয়ে দাঁড়ায়। এই সমস্যা সমাধান করতেই এসেছে MCP বা Model Context Protocol। সহজ কথায়, এটি একটি নতুন ওপেন-সোর্স স্ট্যান্ডার্ড যেটা আপনার AI এজেন্টকে বিভিন্ন ডেটা সোর্স যেমন—ডেটাবেস, এপিআই (API), বা লোকাল ফাইলের সাথে খুব সহজে জুড়ে দেয়। এটি অনেকটা "প্লাগ অ্যান্ড প্লে" সিস্টেমের মতো কাজ করে।


MCP কী এবং এর মূল অংশগুলো

ভিডিও রেফারেন্স: [00:00]

MCP হলো একটি কানেক্টর বা সেতু। এটি তিনটি প্রধান অংশ নিয়ে কাজ করে:

  1. Host (হোস্ট): এটি হলো মূল অ্যাপ্লিকেশান (যেমন: Claude Desktop বা আপনার কোড এডিটর IDE)।

  2. Client (ক্লায়েন্ট): হোস্টের ভেতরে থাকা একটি অংশ যা সার্ভারের সাথে যোগাযোগ করে।

  3. Server (সার্ভার): এটি সরাসরি আপনার ডেটাবেস বা এপিআই-এর সাথে যুক্ত থাকে এবং তথ্য এনে দেয়।

সহজ ব্যাখ্যা: মনে করুন আপনি একটা রেস্টুরেন্টে গিয়েছেন। এখানে আপনি হলেন Host, আপনার টেবিলের ওয়েটার হলো Client, আর রান্নাঘর হলো Server। আপনি যখন কোনো খাবার (ডেটা) চান, ওয়েটার রান্নাঘর থেকে সেটা এনে দেয়। এখানে রান্নাঘর (Server) জানে খাবার কোথায় আছে, আর ওয়েটার (Client) জানে আপনার কাছে কীভাবে পৌঁছাতে হবে।


MCP কীভাবে কাজ করে? (কাজের ধাপসমূহ)

ভিডিও রেফারেন্স: [01:37]

AI এজেন্ট যখন কোনো কাজ করে, তখন MCP নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করে:

  • প্রশ্ন করা: আপনি চ্যাটবটে কিছু জিজ্ঞেস করলেন (যেমন: "আজকের আবহাওয়া কেমন?" বা "আমার কাস্টমার লিস্ট দেখাও")।

  • টুল খোঁজা: হোস্ট চেক করে দেখে কোন কোন MCP সার্ভার কানেক্ট করা আছে এবং তাদের কাছে কী কী টুল আছে।

  • LLM-এর পরামর্শ: হোস্ট আপনার প্রশ্ন এবং উপলব্ধ টুলগুলোর লিস্ট AI মডেলের (LLM) কাছে পাঠায়। AI বলে দেয় কোন টুলটি ব্যবহার করতে হবে।

  • তথ্য সংগ্রহ: এরপর হোস্ট সরাসরি সেই সার্ভারকে কল করে ডেটাবেস বা এপিআই থেকে তথ্য নিয়ে আসে।

  • উত্তর প্রদান: সবশেষে সংগৃহীত তথ্য নিয়ে AI আপনাকে একটি সুন্দর উত্তর দেয়।


টেকনিক্যাল শব্দগুলোর সহজ অর্থ

  • Open Source (ওপেন সোর্স): এর মানে হলো এই সফটওয়্যার বা প্রোটোকলটি যে কেউ ফ্রিতে ব্যবহার করতে পারবে এবং চাইলে এর কোড পরিবর্তন করে আরও উন্নত করতে পারবে।

  • API (এপিআই): এটি হলো দুটি সফটওয়্যারের মধ্যে কথা বলার মাধ্যম। যেমন, আপনার অ্যাপ যদি ফেসবুক থেকে তথ্য নিতে চায়, তবে তাকে ফেসবুকের এপিআই ব্যবহার করতে হবে।

  • LLM (লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল): এটি হলো AI-এর মস্তিষ্ক (যেমন: ChatGPT বা Claude), যা মানুষের ভাষা বুঝতে এবং তৈরি করতে পারে।

  • IDE (আইডিই): যেখানে প্রোগ্রামাররা কোড লেখে (যেমন: VS Code)।


কোডিং উদাহরণ (MCP সার্ভার সেটাআপ)

MCP ব্যবহার করে একটি সাধারণ সার্ভার তৈরি করা যায় যা আপনার ডেটাকে AI-এর কাছে পৌঁছে দেবে। নিচে পাইথন (Python) দিয়ে একটি কাল্পনিক উদাহরণ দেওয়া হলো:

Python

# এটি একটি সাধারণ MCP সার্ভার উদাহরণের ধারণা
from mcp.server import Server

# ১. সার্ভার তৈরি করা
my_mcp_server = Server("Customer-Data-Server")

# ২. একটি টুল ডিফাইন করা যা কাস্টমার লিস্ট আনবে
@my_mcp_server.list_customers()
def handle_list_customers():
    # এখানে ডেটাবেস থেকে ডাটা আনার কোড থাকে
    return ["Rahim", "Karim", "Jabbar"]

# ৩. সার্ভার রান করা
if __name__ == "__main__":
    my_mcp_server.run() 

এই কোড দিয়ে কী হচ্ছে? এই কোডটি একটি ছোট্ট সার্ভার তৈরি করছে যার নাম "Customer-Data-Server"। যখনই কোনো AI এজেন্ট জানতে চাইবে কাস্টমার কারা, এই সার্ভারটি ডেটাবেস থেকে রহিম, করিম বা জব্বারের নামগুলো খুঁজে বের করে AI-কে দিয়ে দেবে। এতে AI নিজে থেকে আপনার ডেটাবেস এক্সেস করতে পারছে না, বরং আপনি যতটুকু দিচ্ছেন ততটুকুই পাচ্ছে।


আমার বিশ্লেষণ ও চিন্তাভাবনা (Analysis & Perception)

কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ? আগে প্রতিটি AI অ্যাপের জন্য আলাদা আলাদা করে ডেটাবেস কানেক্টর বানাতে হতো। MCP আসাতে এখন একবার একটা "MCP Server" বানালে সেটা যেকোনো AI অ্যাপে (যা MCP সাপোর্ট করে) ব্যবহার করা যাবে। এটি ডেভেলপারদের অনেক সময় বাঁচাবে।

ভবিষ্যতের সম্ভাবনা: ভবিষ্যতে আমরা এমন AI দেখব যা আপনার পিসির সব ফাইল, আপনার অফিসের ডেটাবেস এবং ইন্টারনেটের তথ্য—সব এক জায়গায় করে আপনাকে একদম সঠিক ডিসিশন নিতে সাহায্য করবে। আর এর মূলে থাকবে এই MCP প্রোটোকল।

বিকল্প ও পরামর্শ: বর্তমানে MCP ছাড়াও 'LangChain' বা 'LlamaIndex' এর মতো ফ্রেমওয়ার্ক আছে। তবে MCP সরাসরি প্রোটোকল লেভেলে কাজ করায় এটি অনেক বেশি ফাস্ট এবং স্ট্যান্ডার্ড। আমার পরামর্শ হলো, আপনি যদি AI এজেন্ট নিয়ে কাজ করতে চান, তবে অবশ্যই MCP শিখুন কারণ এটি আগামী দিনে ইন্ডাস্ট্রি স্ট্যান্ডার্ড হতে যাচ্ছে। বিশেষ করে এনথ্রোপিক (Anthropic) এর মতো বড় কোম্পানিগুলো এটাকে অনেক প্রমোট করছে।

বাস্তবতা: বাস্তব জীবনে এর ব্যবহার হবে চমৎকার। ধরুন, আপনি আপনার কোড এডিটরকে বললেন, "আমার গত মাসের সেলস রিপোর্ট দেখে একটা গ্রাফ বানাও।" MCP-এর মাধ্যমে AI আপনার ডেটাবেসে ঢুকে তথ্য নিয়ে সেকেন্ডের মধ্যে গ্রাফ বানিয়ে দেবে, যা আগে হাতে করতে অনেক সময় লাগত।

[

What is MCP? Integrate AI Agents with Databases & APIs

IBM Technology · 472K views

](http://www.youtube.com/watch?v=eur8dUO9mvE)

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সিজ্জিন (Sijjin) vs ইল্লিয়িন (Illiyin) পার্থক্য Difference

Sijjin (سِجِّين) এবং Illiyin (عِلِّيِّين) —এ দুটি শব্দ কুরআনে এসেছে এবং দুটোই মানুষের আমলনামা সংরক্ষণ সম্পর্কিত স্থানকে নির্দেশ করে। ১. সিজ্জিন (Sijjin) সিজ্জিন হলো পাপীদের (কাফের, মুনাফিক ও দুরাচারীদের) আমলনামা সংরক্ষণের স্থান। এটি সাত তলদেশের নীচে এক কারাগার বা অন্ধকার জগতে অবস্থিত বলে উল্লেখ রয়েছে। সূরা আল-মুতাফফিফীন (৮৩:৭-৯) তে বলা হয়েছে: "كَلَّا إِنَّ كِتَابَ الْفُجَّارِ لَفِي سِجِّينٍ ۝ وَمَا أَدْرَاكَ مَا سِجِّينٌ ۝ كِتَابٌ مَرْقُومٌ" অর্থ: "না, পাপীদের আমলনামা সিজ্জিনে সংরক্ষিত। তুমি কি জানো, সিজ্জিন কী? এটি এক লিখিত দলিল।" সিজ্জিনকে একটি কারাগার, সংকীর্ণ স্থান, বা নিচের স্তরে অবস্থিত এক অন্ধকার দুনিয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। ২. ইল্লিয়িন (Illiyin) ইল্লিয়িন হলো সৎকর্মশীলদের (মুমিন ও নেককারদের) আমলনামা সংরক্ষণের স্থান । এটি সপ্তম আসমানের ওপরে সংরক্ষিত এক সম্মানিত স্থান। সূরা আল-মুতাফফিফীন (৮৩:১৮-২১) তে বলা হয়েছে: "كَلَّا إِنَّ كِتَابَ الْأَبْرَارِ لَفِي عِلِّيِّينَ ۝ وَمَا أَدْرَاكَ مَا عِلِّيُّونَ ۝ كِتَابٌ مَرْقُومٌ ۝ يَش...

তারাবিহ সমগ্র - প্রথম আলো

রামাদান ২০২৪ উপলক্ষে প্রথম আলোর নিয়মিত আয়োজন - খতমে তারাবিহ'র সূরা গুলো নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা'র লিংক  নিচে দেওয়া হলো।  লিংকে ক্লিক করলেই আপনাকে আলোচনা তে নিয়ে যাবে। তারাবিহ: ১ | একটি খুন ও গাভি নিয়ে বনি ইসরাইলের বাড়াবাড়ি তারাবিহ: ২ | নারীর মর্যাদা ও অধিকার এবং অলৌকিক তিন ঘটনা তারাবিহ: ৩ | যে ১৪ নারীকে বিয়ে করা হারাম তারাবিতে: ১২ | মহানবী (সা.)–এর আকাশভ্রমণ এবং আসহাবে কাহাফের কাহিনি

রেডমি নোট ৯ এর বিস্তারিত | Redmi Note 9 in Bangla

৩০ এপ্রিল, ২০২০ এ শাওমির ঘোষনা আসে এই ফোনটি নিয়ে। কিন্তু ফোনটি মার্কেটে আসে মে মাসের শেষের দিকে৷ করোনার কারনে ফোনটি বাংলাদেশে আসতে আরো সময় নেয়। বর্তমানে বাংলাদেশে আন অফিশিয়াল ভাবে ফোনটি পাওয়া যাচ্ছে৷ বাংলাদেশে অফিশিয়াল ভাবে এখনো ফোনটি আসার তথ্য নেয়৷ চলুন ফোনটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা যাক। শাওমি নোট সিরিজের ফোন বের করে এদের রেডমি নামে সাব ব্যান্ড৷ এদের কাজ হল এই নোট সিরিজ নিয়ে কাজ করা৷ প্রতিবছর নোট সিরিজের ১/২ টা ফোন বাজারে আসে। সাথে সেই ফোন গুলার বিভিন্ন ভার্সন (যেমন - র‍্যাম ও রমের ভিত্তিতে) বাজারে আসে। এই বছরও তারা রেডমি সিরিজের নোট ৯ বাজারে আনে। এই বছর হয়তো এই সিরিজের আরো ফোন বাজারে আসবে। ডিস্পলেঃ ফোনটির ডিসপ্লে সাইজ ৬.৫৩ ইঞ্চি। এতে আইপিএস এলসিডি ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে। এই ফোনের ডিসপ্লে প্রটেকশন হিসেবে আছে গরিলা গ্লাস ফাইভ। স্ক্রিন আর ফোনের বডির অনুপাত প্রায় ৮৩.৫%। এই ফোনের ডিসপ্লে ফুলএইচডি মানে ১০৮০পি। এই ডিস্পলের দৈর্ঘ্য ১৯.৫ একক এবং প্রস্থ হল ৯ একক। এত বড় ফোনের কারনে এই ফোনের পিপি আই ডেনসিটি ৩৯৫। যা একটু কম। প্লাটফর্মঃ এই ফোনের অপারেটিং সিস্টেম এন্ড্রয়েড ১০ এবং এর...