সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

মধ্যবিত্ত থেকে বিলিয়ন ডলারের পারপ্লেক্সিটি এআই (Perplexity AI) তৈরির অবিশ্বাস্য গল্প

Introduction

আজকের এই চমৎকার ভিডিওটিতে আমরা জানবো একজন সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে অরবিন্দ শ্রীনিবাসের (Arvind Srinivas) কথা। তিনি কীভাবে কোনো বিশাল ব্যাকগ্রাউন্ড ছাড়াই নিজের মেধা আর পরিশ্রম দিয়ে তৈরি করেছেন 'Perplexity AI'। এটি এমন একটি এআই (AI) প্ল্যাটফর্ম যা বর্তমানে গুগলের (Google) মতো ট্রিলিয়ন ডলারের কোম্পানিকেও টেক্কা দিচ্ছে। মাত্র কয়েক বছরে এর ভ্যালুয়েশন ২০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এই গল্পটি কেবল সফলতার নয়, বরং সঠিক সময়ে সঠিক সুযোগ চিনে নেওয়ার এক অনন্য উদাহরণ।


১. অরবিন্দ শ্রীনিবাসের শুরুর দিনগুলো এবং আইআইটি মাদ্রাজ

ভিডিও রেফারেন্স: [00:00]

অরবিন্দ চেন্নাইয়ের একটি সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে বড় হয়েছেন। তার সফলতার পথ শুরু হয় আইআইটি (IIT) মাদ্রাজ থেকে, যেখানে তিনি ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করেন। মজার ব্যাপার হলো, যখন তার বন্ধুরা কলেজের সাধারণ জীবন উপভোগ করছিল, অরবিন্দ তখন মগ্ন ছিলেন মেশিনকে কীভাবে বুদ্ধিমান করা যায় সেই চিন্তায়।

  • সহজ ব্যাখ্যা (Machine Learning): মেশিন লার্নিং মানে হলো কম্পিউটারকে এমনভাবে তৈরি করা যাতে সে মানুষের মতো নিজে নিজে শিখতে পারে। অরবিন্দ যখন এটি নিয়ে কাজ শুরু করেন, তখন এর জনপ্রিয়তা আজকের মতো ছিল না।

  • আমার ভাবনা: অনেকেই ভাবেন বড় কিছু করতে হলে শুরু থেকেই সব জানতে হয়। কিন্তু অরবিন্দ প্রমাণ করেছেন, শেখার ইচ্ছা থাকলে কোনো কিছু না জেনেও জেতা সম্ভব।


২. উচ্চশিক্ষা এবং অভিজ্ঞতার ঝুলি (UC Berkeley থেকে OpenAI)

ভিডিও রেফারেন্স: [01:25]

২০১৭ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য অরবিন্দ ইউসি বার্কলে (UC Berkeley) যান এবং সেখান থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে পিএইচডি করেন। এই সময়েই তিনি ওপেন এআই (OpenAI), গুগল ব্রেন এবং ডিপ মাইন্ডের মতো নামকরা জায়গায় ইন্টার্নশিপ করেন। এখানেই তিনি বুঝতে পারেন যে, ইন্টারনেটে কোনো কিছু খোঁজার ভবিষ্যৎ হবে অনেক বেশি উন্নত এআই নির্ভর।

  • সহজ ব্যাখ্যা (PhD/Internship): পিএইচডি হলো কোনো বিষয়ের ওপর গভীর গবেষণা, আর ইন্টার্নশিপ হলো পড়াশোনার পাশাপাশি কোনো বড় কোম্পানিতে হাতে-কলমে কাজ শেখা।

৩. চ্যাট জিপিটির সীমাবদ্ধতা এবং পারপ্লেক্সিটির জন্ম

ভিডিও রেফারেন্স: [01:48]

২০২২ সালে যখন চ্যাট জিপিটি (ChatGPT) আসলো, মানুষ অবাক হয়ে গেল। কিন্তু সেটির কিছু বড় সমস্যা ছিল: এটি রিয়েল-টাইম বা বর্তমান সময়ের খবর দিতে পারতো না এবং তথ্যের কোনো সোর্স (Source) বা প্রমাণ দিত না। অরবিন্দ ঠিক এই জায়গাতেই সুযোগ দেখতে পেলেন। তিনি চাইলেন এমন কিছু তৈরি করতে যা: ১. ইন্টারনেটের একদম টাটকা তথ্য দিবে। ২. তথ্যের সাথে সাথে সোর্স বা লিংক দিয়ে দিবে যাতে মানুষ বিশ্বাস করতে পারে।


৪. খরচ কমানোর স্মার্ট বুদ্ধি (AI Aggregator)

ভিডিও রেফারেন্স: [02:51]

নিজের এআই মডেল তৈরি করতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার লাগে যা অরবিন্দের কাছে ছিল না। তাই তিনি এক অদ্ভুত কৌশল নিলেন। তিনি নিজের নতুন মডেল না বানিয়ে বাজারে থাকা সেরা মডেলগুলোকে (যেমন- GPT, Gemini, Llama) এক জায়গায় করলেন। পারপ্লেক্সিটি হয়ে উঠলো একটি 'AI Aggregator'

  • সহজ ব্যাখ্যা (AI Aggregator/API): ধরুন, আপনার নিজের রেস্টুরেন্ট নেই, কিন্তু আপনি একটি অ্যাপ বানিয়েছেন যার মাধ্যমে সব নামী রেস্টুরেন্টের খাবার এক জায়গায় পাওয়া যায়। এখানে API হলো সেই প্রযুক্তি যা এক সফটওয়্যারের সাথে অন্য সফটওয়্যারের যোগাযোগ করিয়ে দেয়।

  • কোডিং কনসেপ্ট (উদাহরণস্বরূপ):

Python

# এটি একটি সাধারণ উদাহরণ কীভাবে এপিআই কাজ করে
import requests

def get_ai_answer(user_query):
    # এখানে আমরা অন্য কোনো মডেলের এপিআই ব্যবহার করে উত্তর আনছি
    api_url = "https://api.openai.com/v1/chat/completions"
    response = requests.post(api_url, json={"query": user_query})
    return response.json()['answer']

print(get_ai_answer("আজকের আবহাওয়া কেমন?")) 
  • ব্যাখ্যা: এই কোডটি দিয়ে আমরা বোঝাচ্ছি যে কীভাবে অন্যের তৈরি এআই-কে নিজের প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করে উত্তর দেখানো যায়। এতে নিজের বিশাল সার্ভার লাগে না।

৫. গুগল কেন এই পদ্ধতিতে কাজ করছে না?

ভিডিও রেফারেন্স: [04:47]

অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, গুগল কেন এমন উত্তর দেওয়ার ইঞ্জিন বানাচ্ছে না? উত্তর হলো গুগলের ব্যবসার মেইন ইনকাম আসে বিজ্ঞাপন (Ads) থেকে। মানুষ যদি লিংকে ক্লিক না করে সরাসরি এআই থেকে উত্তর পেয়ে যায়, তবে গুগলের বিজ্ঞাপনে কেউ ক্লিক করবে না এবং তাদের বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হবে।


বিশ্লেষণ এবং আমার ভাবনা

অরবিন্দ শ্রীনিবাসের এই সফর আমাদের শেখায় যে, বড় বড় কোম্পানির সাথে লড়াই করার জন্য সবসময় বিশাল টাকা লাগে না, বরং 'Strategy' বা সঠিক পরিকল্পনা লাগে।

বাস্তব প্রেক্ষাপট ও সম্ভাবনা: ১. ভবিষ্যৎ: আমরা এখন গুগল থেকে 'লিংক' খুঁজি, কিন্তু ভবিষ্যতে আমরা সরাসরি 'উত্তর' চাইবো। পারপ্লেক্সিটি সেই ভবিষ্যৎকেই বর্তমান করেছে। ২. বিকল্প: গুগল এখন 'Gemini' দিয়ে এবং মাইক্রোসফট 'Copilot' দিয়ে পারপ্লেক্সিটিকে টেক্কা দেওয়ার চেষ্টা করছে। ৩. পরামর্শ: আপনি যদি একজন স্টুডেন্ট বা নতুন উদ্যোক্তা হন, তবে বড় কোনো সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করুন, টাকা বা রিসোর্স এমনিতেই চলে আসবে যেমনটা অরবিন্দের ক্ষেত্রে হয়েছে।

অরবিন্দের এই কাহিনী প্রমাণ করে যে, সঠিক ভিশন থাকলে আইআইটির একটি ছোট রুম থেকেও বিশ্বজয়ী কোম্পানি তৈরি করা সম্ভব।

ভিডিওর মূল লিংক

[

How a Middle Class Boy Built Perplexity AI From Nothing

AdiVerse · 148K views

](http://www.youtube.com/watch?v=F3nnLePt5yk)

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সিজ্জিন (Sijjin) vs ইল্লিয়িন (Illiyin) পার্থক্য Difference

Sijjin (سِجِّين) এবং Illiyin (عِلِّيِّين) —এ দুটি শব্দ কুরআনে এসেছে এবং দুটোই মানুষের আমলনামা সংরক্ষণ সম্পর্কিত স্থানকে নির্দেশ করে। ১. সিজ্জিন (Sijjin) সিজ্জিন হলো পাপীদের (কাফের, মুনাফিক ও দুরাচারীদের) আমলনামা সংরক্ষণের স্থান। এটি সাত তলদেশের নীচে এক কারাগার বা অন্ধকার জগতে অবস্থিত বলে উল্লেখ রয়েছে। সূরা আল-মুতাফফিফীন (৮৩:৭-৯) তে বলা হয়েছে: "كَلَّا إِنَّ كِتَابَ الْفُجَّارِ لَفِي سِجِّينٍ ۝ وَمَا أَدْرَاكَ مَا سِجِّينٌ ۝ كِتَابٌ مَرْقُومٌ" অর্থ: "না, পাপীদের আমলনামা সিজ্জিনে সংরক্ষিত। তুমি কি জানো, সিজ্জিন কী? এটি এক লিখিত দলিল।" সিজ্জিনকে একটি কারাগার, সংকীর্ণ স্থান, বা নিচের স্তরে অবস্থিত এক অন্ধকার দুনিয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। ২. ইল্লিয়িন (Illiyin) ইল্লিয়িন হলো সৎকর্মশীলদের (মুমিন ও নেককারদের) আমলনামা সংরক্ষণের স্থান । এটি সপ্তম আসমানের ওপরে সংরক্ষিত এক সম্মানিত স্থান। সূরা আল-মুতাফফিফীন (৮৩:১৮-২১) তে বলা হয়েছে: "كَلَّا إِنَّ كِتَابَ الْأَبْرَارِ لَفِي عِلِّيِّينَ ۝ وَمَا أَدْرَاكَ مَا عِلِّيُّونَ ۝ كِتَابٌ مَرْقُومٌ ۝ يَش...

তারাবিহ সমগ্র - প্রথম আলো

রামাদান ২০২৪ উপলক্ষে প্রথম আলোর নিয়মিত আয়োজন - খতমে তারাবিহ'র সূরা গুলো নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা'র লিংক  নিচে দেওয়া হলো।  লিংকে ক্লিক করলেই আপনাকে আলোচনা তে নিয়ে যাবে। তারাবিহ: ১ | একটি খুন ও গাভি নিয়ে বনি ইসরাইলের বাড়াবাড়ি তারাবিহ: ২ | নারীর মর্যাদা ও অধিকার এবং অলৌকিক তিন ঘটনা তারাবিহ: ৩ | যে ১৪ নারীকে বিয়ে করা হারাম তারাবিতে: ১২ | মহানবী (সা.)–এর আকাশভ্রমণ এবং আসহাবে কাহাফের কাহিনি

রেডমি নোট ৯ এর বিস্তারিত | Redmi Note 9 in Bangla

৩০ এপ্রিল, ২০২০ এ শাওমির ঘোষনা আসে এই ফোনটি নিয়ে। কিন্তু ফোনটি মার্কেটে আসে মে মাসের শেষের দিকে৷ করোনার কারনে ফোনটি বাংলাদেশে আসতে আরো সময় নেয়। বর্তমানে বাংলাদেশে আন অফিশিয়াল ভাবে ফোনটি পাওয়া যাচ্ছে৷ বাংলাদেশে অফিশিয়াল ভাবে এখনো ফোনটি আসার তথ্য নেয়৷ চলুন ফোনটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা যাক। শাওমি নোট সিরিজের ফোন বের করে এদের রেডমি নামে সাব ব্যান্ড৷ এদের কাজ হল এই নোট সিরিজ নিয়ে কাজ করা৷ প্রতিবছর নোট সিরিজের ১/২ টা ফোন বাজারে আসে। সাথে সেই ফোন গুলার বিভিন্ন ভার্সন (যেমন - র‍্যাম ও রমের ভিত্তিতে) বাজারে আসে। এই বছরও তারা রেডমি সিরিজের নোট ৯ বাজারে আনে। এই বছর হয়তো এই সিরিজের আরো ফোন বাজারে আসবে। ডিস্পলেঃ ফোনটির ডিসপ্লে সাইজ ৬.৫৩ ইঞ্চি। এতে আইপিএস এলসিডি ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে। এই ফোনের ডিসপ্লে প্রটেকশন হিসেবে আছে গরিলা গ্লাস ফাইভ। স্ক্রিন আর ফোনের বডির অনুপাত প্রায় ৮৩.৫%। এই ফোনের ডিসপ্লে ফুলএইচডি মানে ১০৮০পি। এই ডিস্পলের দৈর্ঘ্য ১৯.৫ একক এবং প্রস্থ হল ৯ একক। এত বড় ফোনের কারনে এই ফোনের পিপি আই ডেনসিটি ৩৯৫। যা একটু কম। প্লাটফর্মঃ এই ফোনের অপারেটিং সিস্টেম এন্ড্রয়েড ১০ এবং এর...