সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

Spring Data JPA থেকে Spring Data JDBC-তে মাইগ্রেশনের সহজ নির্দেশিকা

Introduction: এই কনটেন্টটি মূলত একটি টেকনিক্যাল প্রেজেন্টেশনের সারসংক্ষেপ, যেখানে Jens Schauder আলোচনা করেছেন কীভাবে একটি প্রোজেক্টকে Spring Data JPA থেকে সরিয়ে Spring Data JDBC-তে নিয়ে আসা যায়। অনেকে মনে করেন এটা খুব কঠিন, কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা থাকলে ধাপে ধাপে (Baby steps) এটি করা সম্ভব। মূলত কোডের জটিলতা কমানো এবং ডাটাবেসের ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার জন্যই এই মাইগ্রেশন করা হয়।

১. এগ্রিগেট (Aggregates) চেনা এবং অপ্রয়োজনীয় রিপোজিটরি সরানো

ভিডিও রেফারেন্স: [14:22] থেকে [21:18] পর্যন্ত।

মাইগ্রেশনের প্রথম এবং প্রধান ধাপ হলো আপনার ডোমেইন মডেলের Aggregates গুলোকে চেনা।

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: JPA-তে আমরা সাধারণত প্রতিটি টেবিলের জন্য আলাদা আলাদা Repository তৈরি করি। কিন্তু Spring Data JDBC কাজ করে 'Aggregate' বা গুচ্ছ আকারে। একটি এগ্রিগেট হলো কতগুলো ক্লাসের সমষ্টি যেখানে একটি প্রধান ক্লাস (Aggregate Root) থাকে এবং বাকিগুলো তার অধীনে থাকে।

  • যেমন: একটি 'Shipment' (চালান) এবং তার ভেতরে থাকা 'Items' (পণ্য)। এখানে Shipment হলো মেইন রুট।

  • আপনার কাজ হবে সেই সব বাড়তি Repository ডিলিট করে দেওয়া যা সরাসরি এগ্রিগেটের ভেতরের ছোট ছোট এনটিটি (যেমন Item) হ্যান্ডেল করে। এখন থেকে সব কাজ হবে মেইন রুটের (Shipment) মাধ্যমে।

সহজ ভাষায় কঠিন শব্দ:

  • Aggregate (এগ্রিগেট): অনেকগুলো সম্পর্কিত জিনিসের একটি দল বা গ্রুপ।

  • Repository (রিপোজিটরি): ডাটাবেসের সাথে তথ্য আদান-প্রদান করার একটি মাধ্যম বা গেটওয়ে।

২. মিকাডো মেথড (Mikado Method) ব্যবহার করা

রেফারেন্স: এই বিষয়টি পুরো আলোচনার মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

মাইগ্রেশন করার সময় অনেক সময় একটি কোড পরিবর্তন করলে দেখা যায় অন্য ১০টি জায়গায় ইরর (Error) দিচ্ছে। এটি এড়াতে Mikado Method জাদুর মতো কাজ করে।

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: এটি একটি রিফ্যাক্টরিং টেকনিক। ১. প্রথমে একটি বড় লক্ষ্য কাগজে লিখুন। ২. সেটি করতে গিয়ে যদি দেখেন অন্য কিছু বাধা দিচ্ছে, তবে আগের কাজ 'Undo' বা বাতিল করে সেই ছোট সমস্যাটি আগে সমাধান করুন। ৩. এভাবে ছোট ছোট সফল পরিবর্তনের মাধ্যমে বড় লক্ষ্যে পৌঁছান। একে 'Baby Steps' বলা হয়। এতে আপনার কোডবেস সবসময় সচল থাকে এবং মাঝপথে প্রোজেক্ট আটকে যাওয়ার ভয় থাকে না।

৩. সেভ স্টেটমেন্ট (Save Statements) সরাসরি ব্যবহার করা

ভিডিও রেফারেন্স: [21:18] এর পর থেকে।

JPA-তে একটি সুবিধা (বা অসুবিধা) আছে যাকে বলা হয় 'Dirty Checking'। আপনি যদি ট্রানজ্যাকশনের ভেতর কোনো ডাটা পরিবর্তন করেন, তবে আলাদা করে .save() কল না করলেও তা ডাটাবেসে সেভ হয়ে যায়। কিন্তু JDBC-তে এটি হয় না।

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: Spring Data JDBC-তে কোনো ডাটা পরিবর্তন করলে আপনাকে অবশ্যই স্পষ্টভাবে repository.save(entity) মেথডটি কল করতে হবে। কারণ JDBC-র এনটিটিগুলো সাধারণ জাভা ক্লাসের মতো কাজ করে, এর পেছনে কোনো ম্যাজিক প্রক্সি থাকে না।

সহজ ভাষায় কঠিন শব্দ:

  • Explicit (এক্সপ্লিসিট): কোনো কিছু সরাসরি বা স্পষ্টভাবে বলে দেওয়া।

৪. রিলেশন বা সম্পর্ক সহজ করা (Bidirectional to Unidirectional)

JPA-তে আমরা অনেক সময় দ্বিমুখী সম্পর্ক (Bidirectional reference) রাখি (যেমন: A চেনে B-কে, আবার B-ও চেনে A-কে)। Spring Data JDBC এটি সাপোর্ট করে না এবং এর প্রয়োজনও নেই।

বিস্তারিত ব্যাখ্যা: আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে কোন দিক থেকে সম্পর্কটি থাকবে। সাধারণত মেইন অবজেক্ট থেকে সাব-অবজেক্টের দিকে রেফারেন্স রাখা হয়। যেমন: Shipment থেকে Customer-এর দিকে। এতে কোড অনেক পরিষ্কার হয় এবং গোলকধাঁধা তৈরি হয় না।


কোডিং উদাহরণ (ID Generator)

যখন আপনি JPA থেকে JDBC-তে আসবেন, তখন আইডি জেনারেশন নিয়ে কাজ করতে হতে পারে। নিচে একটি কোড স্নিপেট দেওয়া হলো যা ডাটা সেভ করার আগে আইডি তৈরি করে নেয়:

Java

public class BeforeConvertCallback implements BeforeConvertCallback<Object> {
    private final JdbcTemplate jdbcTemplate;

    public BeforeConvertCallback(JdbcTemplate jdbcTemplate) {
        this.jdbcTemplate = jdbcTemplate;
    }

    @Override
    public Object onBeforeConvert(Object entity) {
        // যদি আইডির মান খালি থাকে, তবে ডাটাবেস সিকোয়েন্স থেকে নতুন আইডি এনে বসিয়ে দাও
        if (entity instanceof MyEntity && ((MyEntity) entity).getId() == null) {
            Long id = jdbcTemplate.queryForObject("SELECT nextval('my_sequence')", Long.class);
            ((MyEntity) entity).setId(id);
        }
        return entity;
    }
} 

ব্যাখ্যা: এই কোডটি মূলত ডাটাবেসে তথ্য পাঠানোর ঠিক আগে চেক করে যে তার কোনো আইডি আছে কি না। না থাকলে সে একটি নতুন নম্বর (ID) সংগ্রহ করে বসিয়ে দেয়, যাতে ডাটাবেস বুঝতে পারে এটি একটি নতুন এন্ট্রি।


বিশ্লেষণ ও আমার ভাবনা (Analysis & Perception)

সারাংশ ও উদ্দেশ্য: কন্টেন্ট ক্রিয়েটর Jens Schauder বোঝাতে চেয়েছেন যে, Spring Data JDBC ব্যবহার করলে আপনার অ্যাপ্লিকেশন অনেক বেশি "Predictable" বা অনুমানযোগ্য হয়। JPA অনেক সময় আড়ালে অনেক কিছু করে যা বড় প্রোজেক্টে পারফরম্যান্সের সমস্যা তৈরি করে। মাইগ্রেশন মানে শুধু কোড পাল্টানো নয়, বরং আপনার অ্যাপ্লিকেশনের আর্কিটেকচার বা গঠনকে আরও মজবুত করা।

বাস্তবতা ও সম্ভাবনা: ১০০টি এনটিটি আছে এমন বড় প্রোজেক্টে একবারে মাইগ্রেশন করা প্রায় অসম্ভব এবং ঝুঁকিপূর্ণ। তাই বক্তার পরামর্শ হলো—নতুন ফিচারের জন্য JDBC ব্যবহার শুরু করুন এবং পুরাতনগুলো ধীরে ধীরে পরিবর্তন করুন (Mixed approach)।

বিকল্প ও পরামর্শ:

  • যদি আপনার প্রোজেক্ট খুব ছোট হয় এবং JPA-তে কোনো সমস্যা না হয়, তবে মাইগ্রেশনের প্রয়োজন নেই।

  • পারফরম্যান্স ক্রিটিক্যাল অ্যাপ্লিকেশন হলে অবশ্যই JDBC ভালো বিকল্প।

  • মাইগ্রেশনের আগে পর্যাপ্ত 'Unit Test' লিখে রাখা বাধ্যতামূলক, যাতে কোড পরিবর্তনের পর কোনো ফিচার ভেঙে না যায়।

সহজ সাজেশন: "Baby steps" বা ছোট ছোট পদক্ষেপে এগোলে যেকোনো বড় মাইগ্রেশন সফল করা সম্ভব। তাড়াহুড়ো না করে আগে ডোমেইন মডেল ঠিক করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

[

Migrating from (Spring Data) JPA to Spring Data JDBC by Jens Schauder @ Spring I/O 2024

Spring I/O · 27K views

](http://www.youtube.com/watch?v=WYa9n0F4CRM)

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সিজ্জিন (Sijjin) vs ইল্লিয়িন (Illiyin) পার্থক্য Difference

Sijjin (سِجِّين) এবং Illiyin (عِلِّيِّين) —এ দুটি শব্দ কুরআনে এসেছে এবং দুটোই মানুষের আমলনামা সংরক্ষণ সম্পর্কিত স্থানকে নির্দেশ করে। ১. সিজ্জিন (Sijjin) সিজ্জিন হলো পাপীদের (কাফের, মুনাফিক ও দুরাচারীদের) আমলনামা সংরক্ষণের স্থান। এটি সাত তলদেশের নীচে এক কারাগার বা অন্ধকার জগতে অবস্থিত বলে উল্লেখ রয়েছে। সূরা আল-মুতাফফিফীন (৮৩:৭-৯) তে বলা হয়েছে: "كَلَّا إِنَّ كِتَابَ الْفُجَّارِ لَفِي سِجِّينٍ ۝ وَمَا أَدْرَاكَ مَا سِجِّينٌ ۝ كِتَابٌ مَرْقُومٌ" অর্থ: "না, পাপীদের আমলনামা সিজ্জিনে সংরক্ষিত। তুমি কি জানো, সিজ্জিন কী? এটি এক লিখিত দলিল।" সিজ্জিনকে একটি কারাগার, সংকীর্ণ স্থান, বা নিচের স্তরে অবস্থিত এক অন্ধকার দুনিয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। ২. ইল্লিয়িন (Illiyin) ইল্লিয়িন হলো সৎকর্মশীলদের (মুমিন ও নেককারদের) আমলনামা সংরক্ষণের স্থান । এটি সপ্তম আসমানের ওপরে সংরক্ষিত এক সম্মানিত স্থান। সূরা আল-মুতাফফিফীন (৮৩:১৮-২১) তে বলা হয়েছে: "كَلَّا إِنَّ كِتَابَ الْأَبْرَارِ لَفِي عِلِّيِّينَ ۝ وَمَا أَدْرَاكَ مَا عِلِّيُّونَ ۝ كِتَابٌ مَرْقُومٌ ۝ يَش...

তারাবিহ সমগ্র - প্রথম আলো

রামাদান ২০২৪ উপলক্ষে প্রথম আলোর নিয়মিত আয়োজন - খতমে তারাবিহ'র সূরা গুলো নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা'র লিংক  নিচে দেওয়া হলো।  লিংকে ক্লিক করলেই আপনাকে আলোচনা তে নিয়ে যাবে। তারাবিহ: ১ | একটি খুন ও গাভি নিয়ে বনি ইসরাইলের বাড়াবাড়ি তারাবিহ: ২ | নারীর মর্যাদা ও অধিকার এবং অলৌকিক তিন ঘটনা তারাবিহ: ৩ | যে ১৪ নারীকে বিয়ে করা হারাম তারাবিতে: ১২ | মহানবী (সা.)–এর আকাশভ্রমণ এবং আসহাবে কাহাফের কাহিনি

রেডমি নোট ৯ এর বিস্তারিত | Redmi Note 9 in Bangla

৩০ এপ্রিল, ২০২০ এ শাওমির ঘোষনা আসে এই ফোনটি নিয়ে। কিন্তু ফোনটি মার্কেটে আসে মে মাসের শেষের দিকে৷ করোনার কারনে ফোনটি বাংলাদেশে আসতে আরো সময় নেয়। বর্তমানে বাংলাদেশে আন অফিশিয়াল ভাবে ফোনটি পাওয়া যাচ্ছে৷ বাংলাদেশে অফিশিয়াল ভাবে এখনো ফোনটি আসার তথ্য নেয়৷ চলুন ফোনটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা যাক। শাওমি নোট সিরিজের ফোন বের করে এদের রেডমি নামে সাব ব্যান্ড৷ এদের কাজ হল এই নোট সিরিজ নিয়ে কাজ করা৷ প্রতিবছর নোট সিরিজের ১/২ টা ফোন বাজারে আসে। সাথে সেই ফোন গুলার বিভিন্ন ভার্সন (যেমন - র‍্যাম ও রমের ভিত্তিতে) বাজারে আসে। এই বছরও তারা রেডমি সিরিজের নোট ৯ বাজারে আনে। এই বছর হয়তো এই সিরিজের আরো ফোন বাজারে আসবে। ডিস্পলেঃ ফোনটির ডিসপ্লে সাইজ ৬.৫৩ ইঞ্চি। এতে আইপিএস এলসিডি ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে। এই ফোনের ডিসপ্লে প্রটেকশন হিসেবে আছে গরিলা গ্লাস ফাইভ। স্ক্রিন আর ফোনের বডির অনুপাত প্রায় ৮৩.৫%। এই ফোনের ডিসপ্লে ফুলএইচডি মানে ১০৮০পি। এই ডিস্পলের দৈর্ঘ্য ১৯.৫ একক এবং প্রস্থ হল ৯ একক। এত বড় ফোনের কারনে এই ফোনের পিপি আই ডেনসিটি ৩৯৫। যা একটু কম। প্লাটফর্মঃ এই ফোনের অপারেটিং সিস্টেম এন্ড্রয়েড ১০ এবং এর...