সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

মাইক্রোসার্ভিস আর্কিটেকচারে API Gateway এর সহজ ব্যবহার

Introduction

আজকের এই আলোচনায় আমরা শিখব মাইক্রোসার্ভিস (Microservices) প্রজেক্টে API Gateway কেন এবং কীভাবে ব্যবহার করতে হয়। ধরুন আপনার অনেকগুলো ছোট ছোট সার্ভিস আছে (যেমন: কুইজ সার্ভিস, কোশ্চেন সার্ভিস), এখন ইউজার যদি আলাদা আলাদা পোর্টের মাধ্যমে এই সার্ভিসগুলোতে এক্সেস করতে চায়, তবে সেটা খুব ঝামেলার কাজ। এই ঝামেলা দূর করতেই আসে API Gateway। এটি পুরো সিস্টেমের একটি 'মেইন গেট' বা প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করে। [00:31]


কেন আমাদের API Gateway প্রয়োজন?

ইউজার যখন আপনার অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে, সে চায় একটি মাত্র লিঙ্কের মাধ্যমে সব কাজ করতে। কিন্তু মাইক্রোসার্ভিসে প্রতিটি সার্ভিসের আলাদা নাম ও পোর্ট (যেমন: 8080, 8090) থাকে। এছাড়া ইউজারকে বারবার প্রতিটি সার্ভিসে লগইন (Authentication) করতে বলাটা বিরক্তিকর।

সহজ ভাষায়: API Gateway হলো এমন একটি জায়গা যেখানে ইউজার একবার নক করবে, আর গেটওয়ে ঠিক করে দেবে ইউজারকে কোন সার্ভিসে পাঠাতে হবে। এটি সিকিউরিটি এবং লগ মেইনটেইন করার কাজও সহজ করে দেয়। [01:22]

কঠিন শব্দের ব্যাখ্যা:

  • Authentication (অথেন্টিকেশন): ব্যবহারকারীর পরিচয় যাচাই করা (যেমন ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড চেক করা)।

  • Cross-cutting concerns: এমন কিছু কাজ যা সব সার্ভিসের জন্যই দরকার হয়, যেমন সিকিউরিটি বা লগিং।


নতুন API Gateway প্রজেক্ট তৈরি করা

রেফারেন্স ভিডিও লিঙ্ক: https://www.youtube.com/watch?v=KeZhT5pLn4c

একটি API Gateway তৈরি করতে আমাদের নতুন একটি স্প্রিং বুট (Spring Boot) প্রজেক্ট শুরু করতে হবে। এর জন্য start.spring.io ওয়েবসাইট ব্যবহার করা হয়। [02:42]

প্রয়োজনীয় ডিপেন্ডেন্সি (Dependencies): ১. Gateway: এটিই মূলত গেটওয়ের কাজ করবে। ২. Eureka Discovery Client: যাতে গেটওয়ে নিজে অন্যান্য সার্ভিসগুলোকে খুঁজে পায়।


কনফিগারেশন এবং কোডিং (Configuration)

প্রজেক্টটি ডাউনলোড করার পর application.properties ফাইলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য লিখে দিতে হয়। ডিফল্টভাবে এটি ৮০৮০ পোর্টে চলে, কিন্তু অন্য সার্ভিসগুলো যেহেতু ওই পোর্টে থাকতে পারে, তাই আমাদের পোর্ট পরিবর্তন করতে হবে। [04:33]

Properties

# প্রজেক্টের নাম সেট করা
spring.application.name=API-Gateway

# গেটওয়ের জন্য আলাদা পোর্ট নম্বর
server.port=8765

# সার্ভিস লোকেটর বা সার্ভিস খোঁজার অনুমতি দেওয়া
spring.cloud.gateway.discovery.locator.enabled=true

# সার্ভিস আইডি ছোট হাতের অক্ষরে (lowercase) ব্যবহারের অনুমতি
spring.cloud.gateway.discovery.locator.lowercase-service-id=true 

কোডের ব্যাখ্যা:

  • server.port=8765: এটি আমাদের গেটওয়েকে ৮৭৬৫ পোর্টে চালু করবে।

  • locator.enabled=true: এটি গেটওয়েকে ইউরেকা (Eureka) সার্ভার থেকে অন্যান্য সার্ভিস খুঁজে বের করার ক্ষমতা দেয়। [07:23]

  • lowercase-service-id=true: সাধারণত মাইক্রোসার্ভিসের নামগুলো বড় হাতের অক্ষরে থাকে। এটি ব্যবহার করলে আমরা ছোট হাতের অক্ষরেও সার্ভিসগুলো কল করতে পারব। [08:59]


কীভাবে এটি কাজ করে? (Testing with Postman)

আগে আমরা সরাসরি সার্ভিসের পোর্টে (যেমন: localhost:8090/quiz) রিকোয়েস্ট পাঠাতাম। এখন আমরা পাঠাব গেটওয়ের পোর্টে: http://localhost:8765/quiz-service/quiz/get/1 [07:55]

এখানে ইউজার সরাসরি কুইজ সার্ভিসে যাচ্ছে না, সে যাচ্ছে গেটওয়েতে (8765 পোর্টে)। গেটওয়ে তখন ইউরেকা সার্ভারের সাহায্য নিয়ে কুইজ সার্ভিসটি খুঁজে বের করে এবং ইউজারের রিকোয়েস্ট সেখানে পাঠিয়ে দেয়। [08:02]


আমার বিশ্লেষণ এবং চিন্তাভাবনা

সারাংশ: কন্টেন্ট ক্রিয়েটর এখানে বুঝিয়েছেন যে, মাইক্রোসার্ভিস অনেকগুলো থাকলেও বাইরের জগতের কাছে সেটা একটি একক অ্যাপ্লিকেশন হিসেবেই থাকা উচিত। API Gateway সেই একতা বজায় রাখে। এটি ডেভেলপারদের জন্য ম্যানেজমেন্ট সহজ করে এবং ইউজারদের জন্য অভিজ্ঞতা উন্নত করে।

বাস্তবতা ও সম্ভাবনা: বর্তমানে বড় বড় কোম্পানি যেমন নেটফ্লিক্স বা অ্যামাজন হাজার হাজার মাইক্রোসার্ভিস ব্যবহার করে, যেখানে API Gateway ছাড়া ম্যানেজমেন্ট অসম্ভব। তবে ছোট প্রজেক্টের জন্য এটি অতিরিক্ত জটিলতা তৈরি করতে পারে।

বিকল্প ও পরামর্শ:

  • Spring Cloud Gateway এর বদলে অনেকে Netflix Zuul ব্যবহার করত, তবে বর্তমানে স্প্রিং ক্লাউড গেটওয়ে বেশি আধুনিক ও দ্রুত।

  • পরামর্শ: নতুনদের জন্য শুরুতে ইউরেকা সার্ভার এবং গেটওয়ের কনফিগারেশন একটু কঠিন মনে হতে পারে, কিন্তু একবার সেটআপ হয়ে গেলে এটি স্কেলেবিলিটি (প্রজেক্ট বড় করা) অনেক সহজ করে দেয়। [11:09]

[

API Gateway | Microservice

Telusko · 148K views

](http://www.youtube.com/watch?v=KeZhT5pLn4c)

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সিজ্জিন (Sijjin) vs ইল্লিয়িন (Illiyin) পার্থক্য Difference

Sijjin (سِجِّين) এবং Illiyin (عِلِّيِّين) —এ দুটি শব্দ কুরআনে এসেছে এবং দুটোই মানুষের আমলনামা সংরক্ষণ সম্পর্কিত স্থানকে নির্দেশ করে। ১. সিজ্জিন (Sijjin) সিজ্জিন হলো পাপীদের (কাফের, মুনাফিক ও দুরাচারীদের) আমলনামা সংরক্ষণের স্থান। এটি সাত তলদেশের নীচে এক কারাগার বা অন্ধকার জগতে অবস্থিত বলে উল্লেখ রয়েছে। সূরা আল-মুতাফফিফীন (৮৩:৭-৯) তে বলা হয়েছে: "كَلَّا إِنَّ كِتَابَ الْفُجَّارِ لَفِي سِجِّينٍ ۝ وَمَا أَدْرَاكَ مَا سِجِّينٌ ۝ كِتَابٌ مَرْقُومٌ" অর্থ: "না, পাপীদের আমলনামা সিজ্জিনে সংরক্ষিত। তুমি কি জানো, সিজ্জিন কী? এটি এক লিখিত দলিল।" সিজ্জিনকে একটি কারাগার, সংকীর্ণ স্থান, বা নিচের স্তরে অবস্থিত এক অন্ধকার দুনিয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। ২. ইল্লিয়িন (Illiyin) ইল্লিয়িন হলো সৎকর্মশীলদের (মুমিন ও নেককারদের) আমলনামা সংরক্ষণের স্থান । এটি সপ্তম আসমানের ওপরে সংরক্ষিত এক সম্মানিত স্থান। সূরা আল-মুতাফফিফীন (৮৩:১৮-২১) তে বলা হয়েছে: "كَلَّا إِنَّ كِتَابَ الْأَبْرَارِ لَفِي عِلِّيِّينَ ۝ وَمَا أَدْرَاكَ مَا عِلِّيُّونَ ۝ كِتَابٌ مَرْقُومٌ ۝ يَش...

জাভা ফিডব্যাক এবং স্ট্রাকচার্ড কনকারেন্সি: বিবর্তনের গল্প

Introduction এই ভিডিওর নির্দিষ্ট অংশে জাভা ল্যাঙ্গুয়েজ আর্কিটেক্ট ব্রায়ান গোয়েটজ (Brian Goetz) আলোচনা করেছেন কীভাবে জাভার নতুন ফিচারগুলো তৈরি হয় এবং এতে সাধারণ ডেভেলপারদের মতামতের গুরুত্ব কতটুকু। বিশেষ করে Structured Concurrency -এর মতো জটিল ফিচারগুলো কেন বারবার 'Preview' অবস্থায় থাকে এবং কীভাবে কমিউনিটির ফিডব্যাক সেই ফিচারগুলোকে আরও নিখুঁত করতে সাহায্য করে, তা এখানে সহজভাবে বোঝানো হয়েছে। ১. ভালো ফিডব্যাক আসলে কী? ভিডিও রেফারেন্স: [ 34:53 ] ব্রায়ান গোয়েটজ বলছেন যে, জাভা টিম যখন কোনো নতুন ফিচারের খসড়া (Draft) বা প্রস্তাব (JEP) প্রকাশ করে, তখন তারা এমন কিছু জানতে চায় যা তারা নিজেরা আগে ভাবেনি। বিস্তারিত: একজন ডেভেলপার হিসেবে আমরা যখন কোনো নতুন ফিচার দেখি, আমাদের প্রথম প্রতিক্রিয়া হয় সেটার Syntax বা লেখার ধরন নিয়ে। কিন্তু ব্রায়ানের মতে, "এই লেখাটা কেন এমন হলো?" বা "এটা কোটলিন বা স্কালা-র মতো কেন নয়?"—এই ধরনের ফিডব্যাক খুব একটা কাজে আসে না। আসল দামী ফিডব্যাক হলো সেইটা, যা নতুন কোনো বাস্তব সমস্যা (Edge Case) তুলে ধরে। আমার চিন্তা: আপনি যদি কেবল দ...

ইমেজ ক্লাসিফিকেশন মডেল তৈরি ও প্রশিক্ষণ

ভূমিকা এই ভিডিওটিতে আমরা দেখবো কিভাবে একটি ইমেজ ক্লাসিফিকেশন মডেলকে প্রশিক্ষণ (Train) দিতে হয়। সহজ কথায়, আমাদের কাছে থাকা ছবিগুলো থেকে কম্পিউটারকে শেখানো যে, কোন ছবিটিতে কোন ব্যক্তি আছেন। এখানে আমরা ডাটাগুলোকে প্রসেস করা, মডেল নির্বাচন, এবং মডেলটি কতটা নির্ভুলভাবে কাজ করছে তা যাচাই করার প্রক্রিয়া শিখবো। ডাটা প্রিপারেশন বা প্রস্তুতি রেফারেন্স: [ 00:00 ] থেকে [ 01:03 ] মডেলকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার আগে ডাটা ঠিকঠাক করা খুব জরুরি। ভিডিওতে দেখানো হয়েছে কিভাবে ছবিগুলো থেকে একটি ডিকশনারি বা তালিকার মতো স্ট্রাকচার তৈরি করা হয়েছে। সহজ ব্যাখ্যা: এখানে ইমেজগুলোকে সংখ্যায় রূপান্তর করা হয়েছে। কম্পিউটার সরাসরি ছবি বোঝে না, তাই সেগুলোকে ছোট ছোট ডাটা পয়েন্টের (Array) তালিকা হিসেবে সাজানো হয়েছে। যাতে মডেল বুঝতে পারে একটি ছবিতে কী কী বৈশিষ্ট্য আছে। মডেল নির্বাচন ও প্রশিক্ষণ (SVM) রেফারেন্স: [ 01:03 ] থেকে [ 04:43 ] এখানে Support Vector Machine (SVM) নামক একটি অ্যালগরিদম ব্যবহার করা হয়েছে। এটি সাধারণত ক্লাসিফিকেশনের কাজে খুব ভালো ফলাফল দেয়। পাইপলাইন (Pipeline): ডাটাকে স্কেল (Scale) করার জন্...