সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ডাটা সায়েন্স প্রজেক্টের পরবর্তী ধাপ ও শেখার আমল

ভূমিকা

আমাদের এই ভিডিওতে মূলত ডাটা সায়েন্স এবং মেশিন লার্নিং প্রজেক্টের শেষ পর্যায়ের কাজগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। প্রজেক্ট তৈরির পর সেটিকে কীভাবে সাধারণ মানুষ বা ব্যবহারকারীদের জন্য অনলাইনে (প্রোডাকশনে) উন্মুক্ত করা যায়, তা এখানে সংক্ষেপে বলা হয়েছে। এছাড়া একজন শিক্ষার্থী হিসেবে শেখার প্রক্রিয়ায় কী কী বাড়তি দায়িত্ব নেওয়া উচিত এবং কেন অন্যদের সাথে কাজ শেয়ার করা জরুরি, তা নিয়ে চমৎকার কিছু পরামর্শ রয়েছে।


প্রজেক্ট ডেপ্লয়মেন্ট (Deployment) বা অনলাইন পাবলিশিং

ভিডিও রেফারেন্স: [00:00] থেকে [01:04]

আলোচনা: প্রজেক্ট বা মডেল তৈরির পর সেটি কেবল আপনার পিসিতে থাকলে চলবে না, যদি আপনি চান অন্যরা সেটি ব্যবহার করুক। একে বলা হয় 'ডেপ্লয়মেন্ট'। সহজ কথায়, আপনি যে সফটওয়্যার বা মডেলটি বানিয়েছেন, সেটি ইন্টারনেটের কোনো সার্ভারে রাখা যাতে যে কেউ লিঙ্কে ক্লিক করে তা ব্যবহার করতে পারে। এর জন্য Amazon EC2, Google Cloud বা Heroku-এর মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা যায়।

সহজ ভাষায়:

  • ডেপ্লয়মেন্ট (Deployment): এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে আপনি আপনার তৈরি করা প্রোগ্রাম বা ওয়েবসাইটকে ইন্টারনেটে লাইভ করেন, যাতে অন্য সবাই এটি দেখতে বা ব্যবহার করতে পারে। মনে করুন, আপনি একটি দারুণ রেসিপি লিখেছেন (আপনার কোড বা মডেল), কিন্তু সেটি আপনার ডায়েরিতেই রয়ে গেছে। ডেপ্লয়মেন্ট মানে হলো সেই রেসিপিটি ইন্টারনেটে পাবলিশ করা, যাতে সবাই তা দেখে রান্না করতে পারে।

হাতে-কলমে অনুশীলন বা হোমওয়ার্ক (Exercise)

ভিডিও রেফারেন্স: [01:27] থেকে [02:22]

আলোচনা: শেখার সেরা উপায় হলো প্র্যাকটিস করা। ভিডিওর মেন্টর এখানে দুটি প্রধান কাজ দিয়েছেন: ১. পুরো প্রজেক্টটি অনলাইনে (Cloud) ডেপ্লয় করা। ২. স্পোর্টস সেলিব্রিটির বদলে আপনার পছন্দের ৫ জন প্রিয় মানুষের ছবি দিয়ে একই প্রজেক্ট তৈরি করা।

বিস্তারিত: নিজের পোর্টফোলিও তৈরির জন্য এই কাজগুলো দারুণ। যখন আপনি নিজের পছন্দের মানুষ বা পরিচিতদের ডেটা ব্যবহার করে মেশিন লার্নিং মডেল তৈরি করবেন, তখন আপনি কনসেপ্টগুলো আরও গভীরে গিয়ে বুঝতে পারবেন। এরপর সেগুলো GitHub-এ আপলোড করলে ভবিষ্যতে চাকরির আবেদনের সময় সেটি আপনার দক্ষতার প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে।


কৃতজ্ঞতা ও জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়া (Guru Dakshina)

ভিডিও রেফারেন্স: [02:22] থেকে [04:36]

আলোচনা: এখানে 'গুরু দক্ষিণা'র একটি সুন্দর দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়েছে। মেন্টর চাচ্ছেন না কেউ টাকা দিক, বরং তিনি চাইছেন শিক্ষার্থীরা তাদের কাজগুলো অন্যদের সাথে শেয়ার করুক এবং নতুনদের সাহায্য করুক।

আমার ভাবনা ও বিশ্লেষণ:

  • কেন শেয়ার করবেন? আপনি যখন আপনার কাজ LinkedIn বা ফেসবুক গ্রুপে শেয়ার করবেন, তখন অন্যদের কাছ থেকে ফিডব্যাক পাবেন। এটি আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।

  • সহযোগিতা: কমেন্ট সেকশনে অন্যের প্রশ্নের উত্তর দেওয়াটাও শেখার অংশ। যখন আপনি কাউকে কোনো বিষয় বুঝিয়ে বলেন, তখন বিষয়টি আপনার নিজের মাথায় আরও পরিষ্কার হয়ে যায়।

  • বাস্তবতা: বর্তমান সময়ে অনলাইনে অনেক ফ্রি রিসোর্স আছে। ভালো কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য সবচেয়ে বড় মোটিভেশন হলো তাদের কাজ দেখে আরও বেশি মানুষ শিখছে। তাই আপনি যদি কাজ শেয়ার করেন, তবে মেন্টর আরও নতুন নতুন জটিল টপিক (যেমন Deep Learning, NLP) নিয়ে ভিডিও বানাতে উৎসাহিত হবেন।


সামগ্রিক বিশ্লেষণ ও উপসংহার

এই ভিডিওটি টেকনিক্যাল শেখার চেয়ে মানসিকতা পরিবর্তনের ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়। প্রজেক্ট করা বা কোড লেখা শেখার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত সমস্যার সমাধান করা এবং সেই জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়া।

পরামর্শ:

  • পোর্টফোলিও তৈরি: ভিডিওতে বলা দ্বিতীয় এক্সারসাইজটি (৫ জনের ক্লাসিফিকেশন প্রজেক্ট) অবশ্যই করবেন। এটি আপনার GitHub প্রোফাইলকে সমৃদ্ধ করবে।

  • Networking: সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের প্রজেক্টগুলো শেয়ার করুন। এতে অন্যান্য ডেভেলপারদের সাথে আপনার যোগাযোগ তৈরি হবে।

  • বিকল্প: যদি Amazon EC2 বা Google Cloud খুব কঠিন মনে হয়, তবে শুরু করার জন্য Heroku বা Streamlit Cloud অনেক সহজ এবং ফ্রি। নতুন হিসেবে সেখান থেকে শুরু করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

সবশেষে, শিখুন, প্র্যাকটিস করুন এবং আপনার অর্জিত জ্ঞান সবার মাঝে ছড়িয়ে দিন!

[

Data Science & Machine Learning Project - Part 8 Deployment & Exercise | Image Classification

codebasics · 48K views

](http://www.youtube.com/watch?v=W-PmvEeHioQ)

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সিজ্জিন (Sijjin) vs ইল্লিয়িন (Illiyin) পার্থক্য Difference

Sijjin (سِجِّين) এবং Illiyin (عِلِّيِّين) —এ দুটি শব্দ কুরআনে এসেছে এবং দুটোই মানুষের আমলনামা সংরক্ষণ সম্পর্কিত স্থানকে নির্দেশ করে। ১. সিজ্জিন (Sijjin) সিজ্জিন হলো পাপীদের (কাফের, মুনাফিক ও দুরাচারীদের) আমলনামা সংরক্ষণের স্থান। এটি সাত তলদেশের নীচে এক কারাগার বা অন্ধকার জগতে অবস্থিত বলে উল্লেখ রয়েছে। সূরা আল-মুতাফফিফীন (৮৩:৭-৯) তে বলা হয়েছে: "كَلَّا إِنَّ كِتَابَ الْفُجَّارِ لَفِي سِجِّينٍ ۝ وَمَا أَدْرَاكَ مَا سِجِّينٌ ۝ كِتَابٌ مَرْقُومٌ" অর্থ: "না, পাপীদের আমলনামা সিজ্জিনে সংরক্ষিত। তুমি কি জানো, সিজ্জিন কী? এটি এক লিখিত দলিল।" সিজ্জিনকে একটি কারাগার, সংকীর্ণ স্থান, বা নিচের স্তরে অবস্থিত এক অন্ধকার দুনিয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। ২. ইল্লিয়িন (Illiyin) ইল্লিয়িন হলো সৎকর্মশীলদের (মুমিন ও নেককারদের) আমলনামা সংরক্ষণের স্থান । এটি সপ্তম আসমানের ওপরে সংরক্ষিত এক সম্মানিত স্থান। সূরা আল-মুতাফফিফীন (৮৩:১৮-২১) তে বলা হয়েছে: "كَلَّا إِنَّ كِتَابَ الْأَبْرَارِ لَفِي عِلِّيِّينَ ۝ وَمَا أَدْرَاكَ مَا عِلِّيُّونَ ۝ كِتَابٌ مَرْقُومٌ ۝ يَش...

তারাবিহ সমগ্র - প্রথম আলো

রামাদান ২০২৪ উপলক্ষে প্রথম আলোর নিয়মিত আয়োজন - খতমে তারাবিহ'র সূরা গুলো নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা'র লিংক  নিচে দেওয়া হলো।  লিংকে ক্লিক করলেই আপনাকে আলোচনা তে নিয়ে যাবে। তারাবিহ: ১ | একটি খুন ও গাভি নিয়ে বনি ইসরাইলের বাড়াবাড়ি তারাবিহ: ২ | নারীর মর্যাদা ও অধিকার এবং অলৌকিক তিন ঘটনা তারাবিহ: ৩ | যে ১৪ নারীকে বিয়ে করা হারাম তারাবিতে: ১২ | মহানবী (সা.)–এর আকাশভ্রমণ এবং আসহাবে কাহাফের কাহিনি

রেডমি নোট ৯ এর বিস্তারিত | Redmi Note 9 in Bangla

৩০ এপ্রিল, ২০২০ এ শাওমির ঘোষনা আসে এই ফোনটি নিয়ে। কিন্তু ফোনটি মার্কেটে আসে মে মাসের শেষের দিকে৷ করোনার কারনে ফোনটি বাংলাদেশে আসতে আরো সময় নেয়। বর্তমানে বাংলাদেশে আন অফিশিয়াল ভাবে ফোনটি পাওয়া যাচ্ছে৷ বাংলাদেশে অফিশিয়াল ভাবে এখনো ফোনটি আসার তথ্য নেয়৷ চলুন ফোনটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা যাক। শাওমি নোট সিরিজের ফোন বের করে এদের রেডমি নামে সাব ব্যান্ড৷ এদের কাজ হল এই নোট সিরিজ নিয়ে কাজ করা৷ প্রতিবছর নোট সিরিজের ১/২ টা ফোন বাজারে আসে। সাথে সেই ফোন গুলার বিভিন্ন ভার্সন (যেমন - র‍্যাম ও রমের ভিত্তিতে) বাজারে আসে। এই বছরও তারা রেডমি সিরিজের নোট ৯ বাজারে আনে। এই বছর হয়তো এই সিরিজের আরো ফোন বাজারে আসবে। ডিস্পলেঃ ফোনটির ডিসপ্লে সাইজ ৬.৫৩ ইঞ্চি। এতে আইপিএস এলসিডি ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে। এই ফোনের ডিসপ্লে প্রটেকশন হিসেবে আছে গরিলা গ্লাস ফাইভ। স্ক্রিন আর ফোনের বডির অনুপাত প্রায় ৮৩.৫%। এই ফোনের ডিসপ্লে ফুলএইচডি মানে ১০৮০পি। এই ডিস্পলের দৈর্ঘ্য ১৯.৫ একক এবং প্রস্থ হল ৯ একক। এত বড় ফোনের কারনে এই ফোনের পিপি আই ডেনসিটি ৩৯৫। যা একটু কম। প্লাটফর্মঃ এই ফোনের অপারেটিং সিস্টেম এন্ড্রয়েড ১০ এবং এর...