সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পবিত্র সূরা আছ-ছফ-এর তিলাওয়াত

ভূমিকা

পবিত্র কুরআনুল কারিমের ৬১ নম্বর সূরা হলো 'সূরা আছ-ছফ'। এই সূরাটি মাদানি সূরা, অর্থাৎ এটি মদিনায় অবতীর্ণ হয়েছে। 'আছ-ছফ' শব্দের অর্থ হলো 'সারিবদ্ধ সৈন্যদল'। এই সুরার মূল বিষয়বস্তু হলো আল্লাহর রাস্তায় দৃঢ়ভাবে অটল থাকা এবং ঈমানের ওপর অবিচল থাকার গুরুত্ব। এই ভিডিওটিতে কারি শাকির কাসমি অত্যন্ত সুন্দর ও সুললিত কণ্ঠে এই সূরার তিলাওয়াত করেছেন, যা শ্রোতার হৃদয়ে প্রশান্তি ও আল্লাহভীতি জাগ্রত করতে সহায়তা করে।

সূরার মূল তিলাওয়াত ও বিষয়বস্তু

[ভিডিও লিঙ্ক: https://www.youtube.com/watch?v=OsAiwPnIOhQ]

পুরো ভিডিও জুড়ে কারি শাকির কাসমি সূরা আছ-ছফের তিলাওয়াত করেছেন। এটি একটি চমৎকার তিলাওয়াত যা শ্রোতাকে সুরার আয়াতগুলোর গভীরতা অনুধাবনে সাহায্য করে।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ আয়াত ও তাদের সহজ অর্থ: ১. আল্লাহর তাসবিহ: সুরার শুরুতে বলা হয়েছে, আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সবকিছু আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করে। আল্লাহ পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়। ২. বলার সাথে কাজের মিল: মুমিনদের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে, তোমরা এমন কথা কেন বলো যা তোমরা নিজেরা কাজ করো না? অর্থাৎ, ঈমানের দাবি অনুযায়ী আমল করা জরুরি। ৩. ঈমানের পরীক্ষায় অটল থাকা: আল্লাহ সেই লোকদের ভালোবাসেন যারা তাঁর পথে সীসা ঢালা প্রাচীরের মতো সারিবদ্ধ হয়ে যুদ্ধ করে বা দৃঢ়ভাবে অবস্থান করে।

কঠিন শব্দের সহজ ব্যাখ্যা:

  • তাসবিহ: আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা বর্ণনা করা বা 'সুবহানাল্লাহ' পড়া।

  • মাদানি সূরা: যে সূরাগুলো মহানবী (সা.)-এর হিজরতের পর মদিনায় অবতীর্ণ হয়েছে।

  • সীসা ঢালা প্রাচীর: এর অর্থ হলো এমনভাবে ঐক্যবদ্ধ হওয়া যে মাঝখানে কোনো ফাঁক নেই, ঠিক যেমন সীসা গলিয়ে মজবুত কোনো দেয়াল তৈরি করা হয়।

বিশ্লেষণ ও উপলব্ধি

এই তিলাওয়াতটি শোনার মাধ্যমে একজন শ্রোতা যেমন কুরআনের মধুর ধ্বনি শুনতে পান, তেমনি এই সুরার অন্তর্নিহিত বার্তাও গভীরভাবে চিন্তা করার সুযোগ পান। ভিডিও ক্রিয়েটরের মূল লক্ষ্য ছিল পবিত্র কুরআনের তেলাওয়াত ছড়িয়ে দেওয়া এবং মানুষকে এই সুরার বাণীর সাথে পরিচিত করা।

আমার উপলব্ধি:

  • এই ধরনের তেলাওয়াত মনকে শান্ত করে এবং আধ্যাত্মিক উন্নতির পথে সহায়তা করে।

  • সূরা আছ-ছফ আমাদের শেখায় যে শুধু মুখে ঈমানের দাবি যথেষ্ট নয়, বরং কাজে ও আচরণে সেই ঈমানের প্রতিফলন ঘটাতে হবে।

  • বর্তমানে মুসলিমদের মধ্যে ঐক্যের যে অভাব, এই সূরাটি সেই ঐক্যবদ্ধ থাকার গুরুত্ব দারুণভাবে মনে করিয়ে দেয়।

পরামর্শ: শুধু তেলাওয়াত শোনার পাশাপাশি এর বাংলা অর্থসহ তাফসির বা ব্যাখ্যা পড়ার চেষ্টা করলে আমরা সূরার প্রতিটি আয়াতের গভীর তাৎপর্য বুঝতে পারব। এতে আমাদের জীবনযাত্রায় কুরআনের শিক্ষাকে প্রয়োগ করা সহজ হবে।

[

  1. সূরা আছ ছফ (সারবন্দী সৈন্যদল) Surah As-Saff | الصّفّ Qari Shakir Qasmi | Mahfuz art of nature

mahfuz art of nature (القرآن) · 420K views

](http://www.youtube.com/watch?v=OsAiwPnIOhQ)

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সিজ্জিন (Sijjin) vs ইল্লিয়িন (Illiyin) পার্থক্য Difference

Sijjin (سِجِّين) এবং Illiyin (عِلِّيِّين) —এ দুটি শব্দ কুরআনে এসেছে এবং দুটোই মানুষের আমলনামা সংরক্ষণ সম্পর্কিত স্থানকে নির্দেশ করে। ১. সিজ্জিন (Sijjin) সিজ্জিন হলো পাপীদের (কাফের, মুনাফিক ও দুরাচারীদের) আমলনামা সংরক্ষণের স্থান। এটি সাত তলদেশের নীচে এক কারাগার বা অন্ধকার জগতে অবস্থিত বলে উল্লেখ রয়েছে। সূরা আল-মুতাফফিফীন (৮৩:৭-৯) তে বলা হয়েছে: "كَلَّا إِنَّ كِتَابَ الْفُجَّارِ لَفِي سِجِّينٍ ۝ وَمَا أَدْرَاكَ مَا سِجِّينٌ ۝ كِتَابٌ مَرْقُومٌ" অর্থ: "না, পাপীদের আমলনামা সিজ্জিনে সংরক্ষিত। তুমি কি জানো, সিজ্জিন কী? এটি এক লিখিত দলিল।" সিজ্জিনকে একটি কারাগার, সংকীর্ণ স্থান, বা নিচের স্তরে অবস্থিত এক অন্ধকার দুনিয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। ২. ইল্লিয়িন (Illiyin) ইল্লিয়িন হলো সৎকর্মশীলদের (মুমিন ও নেককারদের) আমলনামা সংরক্ষণের স্থান । এটি সপ্তম আসমানের ওপরে সংরক্ষিত এক সম্মানিত স্থান। সূরা আল-মুতাফফিফীন (৮৩:১৮-২১) তে বলা হয়েছে: "كَلَّا إِنَّ كِتَابَ الْأَبْرَارِ لَفِي عِلِّيِّينَ ۝ وَمَا أَدْرَاكَ مَا عِلِّيُّونَ ۝ كِتَابٌ مَرْقُومٌ ۝ يَش...

তারাবিহ সমগ্র - প্রথম আলো

রামাদান ২০২৪ উপলক্ষে প্রথম আলোর নিয়মিত আয়োজন - খতমে তারাবিহ'র সূরা গুলো নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা'র লিংক  নিচে দেওয়া হলো।  লিংকে ক্লিক করলেই আপনাকে আলোচনা তে নিয়ে যাবে। তারাবিহ: ১ | একটি খুন ও গাভি নিয়ে বনি ইসরাইলের বাড়াবাড়ি তারাবিহ: ২ | নারীর মর্যাদা ও অধিকার এবং অলৌকিক তিন ঘটনা তারাবিহ: ৩ | যে ১৪ নারীকে বিয়ে করা হারাম তারাবিতে: ১২ | মহানবী (সা.)–এর আকাশভ্রমণ এবং আসহাবে কাহাফের কাহিনি

রেডমি নোট ৯ এর বিস্তারিত | Redmi Note 9 in Bangla

৩০ এপ্রিল, ২০২০ এ শাওমির ঘোষনা আসে এই ফোনটি নিয়ে। কিন্তু ফোনটি মার্কেটে আসে মে মাসের শেষের দিকে৷ করোনার কারনে ফোনটি বাংলাদেশে আসতে আরো সময় নেয়। বর্তমানে বাংলাদেশে আন অফিশিয়াল ভাবে ফোনটি পাওয়া যাচ্ছে৷ বাংলাদেশে অফিশিয়াল ভাবে এখনো ফোনটি আসার তথ্য নেয়৷ চলুন ফোনটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা যাক। শাওমি নোট সিরিজের ফোন বের করে এদের রেডমি নামে সাব ব্যান্ড৷ এদের কাজ হল এই নোট সিরিজ নিয়ে কাজ করা৷ প্রতিবছর নোট সিরিজের ১/২ টা ফোন বাজারে আসে। সাথে সেই ফোন গুলার বিভিন্ন ভার্সন (যেমন - র‍্যাম ও রমের ভিত্তিতে) বাজারে আসে। এই বছরও তারা রেডমি সিরিজের নোট ৯ বাজারে আনে। এই বছর হয়তো এই সিরিজের আরো ফোন বাজারে আসবে। ডিস্পলেঃ ফোনটির ডিসপ্লে সাইজ ৬.৫৩ ইঞ্চি। এতে আইপিএস এলসিডি ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে। এই ফোনের ডিসপ্লে প্রটেকশন হিসেবে আছে গরিলা গ্লাস ফাইভ। স্ক্রিন আর ফোনের বডির অনুপাত প্রায় ৮৩.৫%। এই ফোনের ডিসপ্লে ফুলএইচডি মানে ১০৮০পি। এই ডিস্পলের দৈর্ঘ্য ১৯.৫ একক এবং প্রস্থ হল ৯ একক। এত বড় ফোনের কারনে এই ফোনের পিপি আই ডেনসিটি ৩৯৫। যা একটু কম। প্লাটফর্মঃ এই ফোনের অপারেটিং সিস্টেম এন্ড্রয়েড ১০ এবং এর...