সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ডাটা সায়েন্স প্রজেক্টের ওয়েবসাইট ও ইউজার ইন্টারফেস তৈরি

ভূমিকা

আমাদের এই ডাটা সায়েন্স প্রজেক্টের এই অংশে আমরা শিখব কিভাবে পাইথন ব্যাকএন্ডের সাথে যুক্ত একটি ওয়েবসাইট বা ইউজার ইন্টারফেস (UI) তৈরি করতে হয়। আমরা HTML, CSS এবং JavaScript ব্যবহার করে একটি ইন্টারফেস তৈরি করব যা আমাদের স্পোর্টস পারসন ক্লাসিফায়ার প্রজেক্টের সাথে যুক্ত হবে। অর্থাৎ, ইউজাররা ইমেজ আপলোড করলে ওয়েবসাইট তা প্রসেস করে রেজাল্ট দেখাবে।


১. ওয়েবসাইটের মূল গঠন (The Holy Trinity)

রেফারেন্স: [00:18]

ওয়েব ডেভেলপমেন্টের মূল ভিত্তি হলো তিনটি বিষয়, যেগুলোকে অনেকে "Holy Trinity" বলে থাকেন:

  • HTML (HyperText Markup Language): এটি ওয়েবসাইটের কঙ্কাল বা কাঠামোর মতো। বাটন, লেআউট, ইমেজ কোথায় বসবে—সবই HTML ঠিক করে।

  • CSS (Cascading Style Sheets): এটি ওয়েবসাইটের সাজসজ্জা বা ডিজাইনের কাজ করে। রঙ কেমন হবে, ফন্ট কী হবে বা বাটনগুলো দেখতে কেমন হবে তা CSS নিয়ন্ত্রণ করে।

  • JavaScript: এটি ওয়েবসাইটের ব্রেইন। ইউজার যখন কোনো বাটন ক্লিক করবেন বা কোনো ফাইল ড্র্যাগ করবেন, তখন কী ঘটবে—সেসব কাজ JavaScript দিয়ে করা হয়।

সহজ ভাষায়: HTML দিয়ে সব সাজিয়ে নেবেন, CSS দিয়ে রঙচঙ করবেন, আর JavaScript দিয়ে সবকিছুর কাজ বা অ্যাকশন ঠিক করবেন।


২. ইউজার ইন্টারফেস ও ড্রপজোন কন্ট্রোল

রেফারেন্স: [01:15]

আমাদের ওয়েবসাইটে একটি 'ড্রপজোন' (Drop Zone) থাকবে। এটি এমন একটি জায়গা যেখানে ইউজার তাদের ছবি ড্র্যাগ করে অর্থাৎ টেনে এনে ছেড়ে দিতে পারবে।

  • Inspect Tool: ব্রাউজারে F12 চেপে আপনি যে কোনো ওয়েবসাইটের ভেতরের কোড (HTML, CSS) দেখতে পারেন। আমাদের ক্ষেত্রে, ছবি আপলোড করার পর রেজাল্ট দেখানোর জন্য আমরা একটি result_holder এবং class_table ব্যবহার করেছি। এগুলি শুরুতে দেখা যায় না, ইমেজ ক্লাসিফিকেশন সম্পন্ন হওয়ার পরেই এগুলো সক্রিয় হয়।

৩. ব্যাকএন্ডের সাথে যোগাযোগ (API Call)

রেফারেন্স: [08:47]

এখন আমাদের লক্ষ্য হলো, ওয়েবসাইটে আপলোড করা ছবিটি আমাদের পাইথন সার্ভারে পাঠানো। এর জন্য আমরা JavaScript-এর jQuery লাইব্রেরি ব্যবহার করি।

কোড স্নিপেট:

JavaScript

$.post(url, {
    image_data: b64_string
}, function(data, status) {
    // এখানে সার্ভার থেকে আসা রেজাল্ট প্রসেস হবে
}); 
  • ব্যাখ্যা: এই কোডটি একটি POST রিকোয়েস্ট পাঠাচ্ছে। এটি আমাদের পাইথন ব্যাকএন্ডের classify_image নামক এন্ডপয়েন্টে ছবিটির Base64 কোড পাঠায়। সার্ভার থেকে রেসপন্স আসলে সেটি data ভেরিয়েবলে জমা হয়।

Base64 কী? এটি হলো ইমেজের একটি টেক্সট ভার্সন। কম্পিউটার ইমেজকে বাইনারি ফাইল হিসেবে চেনার বদলে টেক্সট হিসেবে দ্রুত আদান-প্রদান করার জন্য এই ফরম্যাট ব্যবহার করে।


৪. লজিক ও ডাটা প্রসেসিং

রেফারেন্স: [24:21]

সার্ভার থেকে রেজাল্ট আসার পর আমাদের তা স্ক্রিনে দেখাতে হবে। আমাদের কোড লজিক হলো:

  • যদি কোনো রেজাল্ট না পাওয়া যায়, তবে একটি error মেসেজ দেখানো হবে।

  • যদি রেজাল্ট পাওয়া যায়, তবে আমরা সর্বোচ্চ প্রবাবিলিটি বা মিল সম্পন্ন পারসনটিকে বেছে নেব।

সহজ ভাষায় লজিক: ধরুন, আমাদের কাছে ৫ জন খেলোয়াড়ের তালিকা আছে। কোডটি সবার সাথে ছবির মিল বা 'প্রবাবিলিটি স্কোর' চেক করবে। যার স্কোর সবচেয়ে বেশি (যেমন: ৯৯%), তাকেই ওয়েবসাইট আমাদের উইনার বা খেলোয়াড় হিসেবে দেখাবে।


৫. সমাপ্তি ও বিশ্লেষণ

এই প্রজেক্টটি আমাদের দেখাল কিভাবে একটি সাধারণ মেশিন লার্নিং মডেলকে একটি পূর্ণাঙ্গ ওয়েবসাইট অ্যাপ্লিকেশনে রূপান্তর করা যায়।

পেশাদার দৃষ্টিভঙ্গি ও পরামর্শ:

  • বাস্তবতা: ভিডিওতে লেখক খুবই সহজভাবে কোডিং দেখিয়েছেন। এটি শেখার জন্য দারুণ, কিন্তু বাস্তব বড় প্রজেক্টে ডেটা সিকিউরিটি এবং রেসপনসিভ ডিজাইনের (মোবাইলে কেমন দেখাবে) দিকে আরও নজর দিতে হয়।

  • ভালো বিকল্প: আপনি যদি আরও আধুনিক কাজ করতে চান, তবে jQuery এর বদলে React বা Vue.js ব্যবহার করতে পারেন। এগুলো বর্তমান সময়ের ইন্ডাস্ট্রি স্ট্যান্ডার্ড।

  • সাজেশন: ভিডিওতে লেখক বলেছেন, যদি একাধিক মুখ থাকে তবে শুধুমাত্র একজনকে দেখায়। আপনি যদি এটি নিজের প্রজেক্টে করেন, তবে লুপ চালিয়ে সব কয়টি রেজাল্ট দেখানোর চেষ্টা করতে পারেন—এটি আপনার কোডিং দক্ষতা আরও বাড়াবে।

এই পুরো প্রজেক্টটি ডাটা সায়েন্স এবং ওয়েব ডেভেলপমেন্টের মধ্যে যে চমৎকার সেতুবন্ধন তৈরি করে, তা একজন বিগিনার লেভেলের ডেভেলপারকে খুব ভালো ধারণা দেবে। আপনি নিয়মিত প্র্যাকটিস করলে এবং বিভিন্ন এরর হ্যান্ডলিং শিখলে দারুণ সব এআই অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করতে পারবেন।

[

Data Science & Machine Learning Project - Part 7 Build Website | Image Classification

codebasics · 57K views

](http://www.youtube.com/watch?v=idMKTkfeo4A)

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সিজ্জিন (Sijjin) vs ইল্লিয়িন (Illiyin) পার্থক্য Difference

Sijjin (سِجِّين) এবং Illiyin (عِلِّيِّين) —এ দুটি শব্দ কুরআনে এসেছে এবং দুটোই মানুষের আমলনামা সংরক্ষণ সম্পর্কিত স্থানকে নির্দেশ করে। ১. সিজ্জিন (Sijjin) সিজ্জিন হলো পাপীদের (কাফের, মুনাফিক ও দুরাচারীদের) আমলনামা সংরক্ষণের স্থান। এটি সাত তলদেশের নীচে এক কারাগার বা অন্ধকার জগতে অবস্থিত বলে উল্লেখ রয়েছে। সূরা আল-মুতাফফিফীন (৮৩:৭-৯) তে বলা হয়েছে: "كَلَّا إِنَّ كِتَابَ الْفُجَّارِ لَفِي سِجِّينٍ ۝ وَمَا أَدْرَاكَ مَا سِجِّينٌ ۝ كِتَابٌ مَرْقُومٌ" অর্থ: "না, পাপীদের আমলনামা সিজ্জিনে সংরক্ষিত। তুমি কি জানো, সিজ্জিন কী? এটি এক লিখিত দলিল।" সিজ্জিনকে একটি কারাগার, সংকীর্ণ স্থান, বা নিচের স্তরে অবস্থিত এক অন্ধকার দুনিয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। ২. ইল্লিয়িন (Illiyin) ইল্লিয়িন হলো সৎকর্মশীলদের (মুমিন ও নেককারদের) আমলনামা সংরক্ষণের স্থান । এটি সপ্তম আসমানের ওপরে সংরক্ষিত এক সম্মানিত স্থান। সূরা আল-মুতাফফিফীন (৮৩:১৮-২১) তে বলা হয়েছে: "كَلَّا إِنَّ كِتَابَ الْأَبْرَارِ لَفِي عِلِّيِّينَ ۝ وَمَا أَدْرَاكَ مَا عِلِّيُّونَ ۝ كِتَابٌ مَرْقُومٌ ۝ يَش...

তারাবিহ সমগ্র - প্রথম আলো

রামাদান ২০২৪ উপলক্ষে প্রথম আলোর নিয়মিত আয়োজন - খতমে তারাবিহ'র সূরা গুলো নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা'র লিংক  নিচে দেওয়া হলো।  লিংকে ক্লিক করলেই আপনাকে আলোচনা তে নিয়ে যাবে। তারাবিহ: ১ | একটি খুন ও গাভি নিয়ে বনি ইসরাইলের বাড়াবাড়ি তারাবিহ: ২ | নারীর মর্যাদা ও অধিকার এবং অলৌকিক তিন ঘটনা তারাবিহ: ৩ | যে ১৪ নারীকে বিয়ে করা হারাম তারাবিতে: ১২ | মহানবী (সা.)–এর আকাশভ্রমণ এবং আসহাবে কাহাফের কাহিনি

রেডমি নোট ৯ এর বিস্তারিত | Redmi Note 9 in Bangla

৩০ এপ্রিল, ২০২০ এ শাওমির ঘোষনা আসে এই ফোনটি নিয়ে। কিন্তু ফোনটি মার্কেটে আসে মে মাসের শেষের দিকে৷ করোনার কারনে ফোনটি বাংলাদেশে আসতে আরো সময় নেয়। বর্তমানে বাংলাদেশে আন অফিশিয়াল ভাবে ফোনটি পাওয়া যাচ্ছে৷ বাংলাদেশে অফিশিয়াল ভাবে এখনো ফোনটি আসার তথ্য নেয়৷ চলুন ফোনটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা যাক। শাওমি নোট সিরিজের ফোন বের করে এদের রেডমি নামে সাব ব্যান্ড৷ এদের কাজ হল এই নোট সিরিজ নিয়ে কাজ করা৷ প্রতিবছর নোট সিরিজের ১/২ টা ফোন বাজারে আসে। সাথে সেই ফোন গুলার বিভিন্ন ভার্সন (যেমন - র‍্যাম ও রমের ভিত্তিতে) বাজারে আসে। এই বছরও তারা রেডমি সিরিজের নোট ৯ বাজারে আনে। এই বছর হয়তো এই সিরিজের আরো ফোন বাজারে আসবে। ডিস্পলেঃ ফোনটির ডিসপ্লে সাইজ ৬.৫৩ ইঞ্চি। এতে আইপিএস এলসিডি ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে। এই ফোনের ডিসপ্লে প্রটেকশন হিসেবে আছে গরিলা গ্লাস ফাইভ। স্ক্রিন আর ফোনের বডির অনুপাত প্রায় ৮৩.৫%। এই ফোনের ডিসপ্লে ফুলএইচডি মানে ১০৮০পি। এই ডিস্পলের দৈর্ঘ্য ১৯.৫ একক এবং প্রস্থ হল ৯ একক। এত বড় ফোনের কারনে এই ফোনের পিপি আই ডেনসিটি ৩৯৫। যা একটু কম। প্লাটফর্মঃ এই ফোনের অপারেটিং সিস্টেম এন্ড্রয়েড ১০ এবং এর...